Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৫ জুলাই ২০২৬

আয়োজন থেকে মন্ত্রপাঠ, এই কলেজে দায়িত্ব নিয়ে পুজো করেন ছাত্রীরাই

নারীশক্তির বন্দনাই মূল লক্ষ্য।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০১৮, ১৩:২০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২২, ২০১৮, ১৩:২০

options
link
আয়োজন থেকে মন্ত্রপাঠ, এই কলেজে দায়িত্ব নিয়ে পুজো করেন ছাত্রীরাই zoom

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: ঘরে-বাইরে নিয়ন্ত্রণের সুতো যখন মহিলাদের হাতে থাকে, তখন পুজোপাঠে অংশগ্রহণেই বা  কেন মেয়েরা থাকবে না? বাণীবন্দনায় মহিলাদেরও অধিকার আছে। এমনটাই মনে করে নিস্তারিণী মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রী থেকে শুরু করে গোটা শিক্ষিকামহল। তাইতো বসন্তপঞ্চমীতে কলেজের ছাত্রীরাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্ব সামলান। পুরুলিয়া জেলার একমাত্র মহিলা কলেজের বাণীবন্দনায় বাইরের কোনও পুরোহিত আসেন না। কলেজের ছাত্রীরাই পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন।

নিয়ম নিষ্ঠা মেনে ছাত্রীরা যাতে পুজো সারতে পারে সেজন্য যাবতীয় বন্দোবস্ত করে রেখেছেন অধ্যক্ষা ইন্দ্রাণী দেব। এই কলেজে ভরতি হলে পছন্দের বিষয়ে অনার্স পড়ার পাশাপাশি পুরোহিতের পাঠও নিতে হয়। কলেজের প্রত্যেক ছাত্রীর অবশ্যপাঠ্য এটি। পুজোর একমাস আগে থেকেই জোরকদমে পুজোপাঠের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। পুজোর কয়েকদিন আগেই নির্দিষ্ট হয়ে যায় চলতি বছরের পুজোতে কে কে পুরোহিতের দায়িত্ব সামলাবে। মূলত তিনজন ছাত্রীর কাঁধেই পুরোহিতের কাজকর্মের দায়িত্বভার পড়ে।একজন প্রধান পুরোহিত থাকে। তাকে সাহায্য করার জন্য থাকে সহকারী পুরোহিত। আর একজন থাকে তন্ত্রধারক। নিষ্ঠাভরে পুজোপাঠের জন্য সঠিক মন্ত্র্রোচ্চারণ খুব জরুরি বিষয়। তন্ত্রধারকের কাজ হল সময়মতো পুরোহিতকে মন্ত্রোচ্চারণে সাহায্য করা। সব মন্ত্র পুরোহিতের মনে থাকবে এমন নয়। তখন তন্ত্রধারক পুরোহিতকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। এই তিনজন কিন্তু সহপাঠী নাও হতে পারে। কেউ তৃতীয়বর্ষের ছাত্রী, তো কেউ প্রথম বর্ষের হতেই পারে। সেক্ষেত্রে শিক্ষিকারাই ঠিক করেন কারা এই দায়িত্বভার পাবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[স্কার্ট ছেড়ে প্রথম শাড়ি মানেই সরস্বতীপুজো, নিজের ক্লাসেই হাতেখড়ি দেয় প্রেম]

এই প্রসঙ্গে কলেজের অধ্যক্ষা ইন্দ্রাণী দেব বলেন, নারীশক্তির বন্দনাই হল মূল লক্ষ্য। তাই ২০০৬ সাল থেকে কলেজের ছাত্রীরাই পুরোহিতের দায়িত্ব সামলাচ্ছে। আজকের দিনে মেয়েরা ছেলেদের থেকে কোনও অংশেই পিছিয়ে নেই। তাই এক্ষেত্রেই বা কেন পিছিয়ে থাকবে? অনেক ভাবনাচিন্তা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কলেজে নিষ্ঠাভরে আজ পুরোহিতের দায়িত্ব সামলেছে তৃতীয় বর্ষের অনিন্দিতা গোস্বামী। তন্ত্রধারকের দায়িত্বে ছিল অঞ্জলিনা দত্ত। গুরুদায়িত্ব পালন করে বেশ খুশি দু’জনেই। জানিয়ে দিল, বাইরের পুরোহিত না থাকলেও পুজোর নিয়মে কোনও ব্যাঘাত ঘটে না। ভক্তি ও নিষ্ঠা সহকারেই পুজো করা হয়। এমন দায়িত্ব পেয়ে নিজেদের ভাগ্যবান বলেই মনে হচ্ছে। তবে এবছরটাই শেষ বলে মনখারাপও হচ্ছে। এবার কলেজের পাঠ চুকিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য পা বাড়াতে হবে।

পুরুলিয়া জেলার একমাত্র মহিলা কলেজে নিস্তারিণী মহিলা মহাবিদ্যালয়। নারীশক্তির পীঠস্থান বললেও কম বলা হবে। এখানকার ছাত্রীদের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগিয়ে তোলাই যেন শিক্ষিকাদের মূল কর্তব্য। সেইভাবেই তৈরি হয়েছে কলেজের পাঠক্রম। এখানে লেখালিখি থেকে শুরু করে সৃজনীর প্রত্যেকটি অঙ্গনে নারীকে বিশেষমাত্রায় দেখানো হয়েছে। ছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করতে সারাবছর নানরকমের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কলেজের দেওয়াল চিত্রতেও নারীশক্তির বন্দনা। তারই ব্যবহারিক দিক হল এই মা সরস্বতীর পুজোপাঠ। সবমিলিয়ে বৈচিত্রের দিশারী বইকি।

[অনভ্যস্ত কুচি সামলে শুভদৃষ্টির লগন, এই তো বাঙালির সরস্বতী পুজো]

ছবি সৌজন্য: সুনীতা সিং

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.