সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিজেপির যদি ভরসা থাকে রামে, তবে তাঁর বিশ্বাস রামকৃষ্ণে। নকশালবাড়িতে যখন রাজ্যে পদ্ম ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে পা রেখেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি, তখন কোচবিহার থেকে এভাবেই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
[ ৫০ কেজি কাজু-বরফি বিলিয়ে ডিভোর্স সেলিব্রেট করলেন এই ব্যক্তি ]
একদিকে অমিত শাহর রাজ্য সফর। আইকনিক নকশালবাড়ি আন্দোলনকে মাথায় রেখে যার শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গ থেকে। অন্যদিকে ঠিক একই সময়ে উত্তরবঙ্গ সফরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে ভরা এপ্রিলে যে রাজনৈতিক উষ্ণতার পারদ চড়বে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একদিকে যখন বুথ চলো কর্মসূচি অমিত শাহর, তখন সেই মাটিতে দাঁড়িয়েই বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন মমতা। তাঁর সাফ কথা, ধর্ম মানে বিজেপির ভাগাভাগি নয়। ধর্ম মানে বিভাজন নয়। যে হিন্দুত্ব বিজেপির তুরুপের তাস, তাকে সম্বল করেই অন্য বার্তা মমতার। তাঁর সওয়াল হিন্দুত্বের ভাল দিক ও মন্দ দিক নিয়ে। বিজেপির হিন্দুত্বকে নস্যাৎ করে দিয়ে তাঁর বক্তব্য, উড়ে এসে জুড়ে বসা বিজেপি হিন্দু ধর্মের বদনাম করছে। তিনি যে হিন্দুত্বে বিশ্বাস করেন তা শ্রী রামকৃষ্ণদেবের হিন্দুত্ব, বিবেকানন্দের হিন্দুত্ব। হিন্দু হয়েও তিনি যে সব ধর্মকে সমান সম্মান করেন, এদিন তাও জানিয়ে রাখলেন।
[ ‘পাঁচ নকশালকে খতম করেছে আমার ছেলে, ওর জন্য গর্বিত’ ]
রাজ্যে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি করতেই সর্বভারতীয় সভাপতির সফর। রাজ্য বিজেপি যে তাতে বাড়তি অক্সিজেন পাচ্ছে তা আঁচ করেই এদিন মমতার বার্তা, বাংলার মাটিতে বিভাজন প্রশ্রয় পায় না। তাঁর কথায়, এ মাটি শক্ত মাটি। বাঘও যদি দাঁত ফোটাতে আসে তবে সে দাঁত ভেঙে যাবে। দলে যাতে কোনও ভাঙন না হয়, তা রুখতে কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কেউ বিজেপিতে যাবেন না। যার যা চাই তা যেন তাঁকে বলা হয়। তিনি সাধ্যমতো তা পূরণ করার চেষ্টা করবেন।
তিস্তা চুক্তি নিয়েও এদিন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মমতা। সংবাদমাধ্যমের একাংশে প্রচারিত হয়েছিল, তিস্তার জল দিতে নারাজ তিনি। এদিন মমতা জানান, তাঁর কথাকে ভুলভাবে প্রচারিত করা হয়েছে। জল দিতে তিনি নারাজ নন। কিন্তু তিস্তার জল দিলে রাজ্য সমস্যায় পড়বে। অন্য যে কোনও নদী থেকে বাংলাদেশকে জল দেওয়ার বিকল্প প্রস্তাবের কথা তাই বলা হয়েছিল। বাংলাদেশকেও তিনি একইরকম ভালবাসেন জানিয়ে উল্লেখ করেন ছিটমহলের কথা। বলেন, গত সত্তর বছরে যা সম্ভব হয়নি, তা তিনি করে দিয়েছেন। ছিটমহলের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন।
[ ‘বসতে হলে পাকিস্তানে যান’, মেট্রোয় হেনস্তা মুসলিম প্রৌঢ়কে ]
বুধবারই কলকাতায় পা রাখছেন অমিত শাহ। রাজ্য দখল করতে বিজেপি যে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবে তা বুঝতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হয়নি তুখোড় রাজনীতিবিদ মমতার। আর তাই কোচবিহার থেকেই বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে আগেভাগেই সুর চড়িয়ে রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
সর্বশেষ খবর
-
১০ দিনের মধ্যে ১৮ জুটমিল খুলতে উদ্যোগী মন্ত্রী অর্জুন, কাজে ফেরার অপেক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার শ্রমিক!
-
মালদহের আমের বিদেশ সফর! আকাশপথে উড়ে গেল হিমসাগর-আম্রপালিরা
-
জোড়া রেকর্ড এমবাপের, সমান গোলেও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কেন মেসির থেকে এগিয়ে ফরাসি তারকা?
-
বুকিং নিয়ে চিন্তার দিন শেষ! উত্তরবঙ্গে হোমস্টেতে বাড়ছে ঘর, পর্যটকদের সুবিধায় আসছে ‘বন্ধু’ অ্যাপ
-
গ্যাসের মূল্যে স্বস্তি আমজনতার! একধাক্কায় ১৮৩ টাকা কমল সিলিন্ডারের দাম