ব্রতীন দাস, শিলিগুড়ি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড় ছাড়তেই বনধের রাজনীতিতে ফিরল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতের রাস্তা তৈরি করে আগামী সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাহাড় বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে। মোর্চার বনধের আওতার বাইরে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হোটেল, দোকান, পরিবহণ। একাধিক ক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে মুখরক্ষার রাস্তাও খুঁজে রেখেছে মোর্চা। বাংলা ভাষা নিয়ে বেপরোয়া মোর্চা জানিয়েছে, পাহাড়ের কোথাও হোর্ডিংয়ে বাংলা ভাষা থাকবে না। নেপালি এবং ইংরেজিতে সমস্ত কিছু লিখতে হবে। মুখে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কথা বললেও, মোর্চার ঘোষণায় স্পষ্ট প্ররোচনার সব ব্যবস্থাই তারা তৈরি রেখেছে।
[মৌচাকে ঢিল মারায় মোর্চার এত গোঁসা, গুরুংকে জবাব মমতার]
শুক্রবার ১২ ঘণ্টার বনধ ডেকে তেমন সুবিধা করতে পারেনি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পাহাড়ে দাঁড়িয়ে সচল রেখেছিলেন জনজীবন। রাজ্য সরকারের কঠোর পদক্ষেপে পিছু হটলেও, রাজনৈতিকভাবে এর মোকাবিলার কোনও অস্ত্র ছিল না মোর্চার কাছে। বিমল গুরুংয়ের পৌরহিত্যে পাতলেবাসে মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সেই বস্তাপচা বনধের রাস্তাতেই হাঁটতে হল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে। আগামী সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের বনধ ডেকে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে পাশে পাওয়া যাবে না আঁচ করে মোর্চা নেতৃত্ব একাধিক ক্ষেত্র বনধের আওতায় বাইরে রাখা হয়েছে। যা নজিরবিহীন। বনধ থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে স্কুল, কলেজ, হোটেল, দোকান, পরিবহণ ব্যবস্থা। পর্যটকদের কোনও অসুবিধা হবে না বলে জানিয়েছেন মোর্চা সম্পাদক রোশন গিরি। রাজ্য সরকারের সঙ্গে সংঘাতের পথ খোলা রেখে মোর্চা নেতৃত্ব জানিয়েছে সোমবার থেকে সমস্ত অফিস বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনকী ব্যাঙ্কের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানও মোর্চার গা-জোয়ারির শিকার হতে চলেছে। প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে বলে মোর্চা ফরমান দিয়েছে। এমনকি বিদ্যুতের বিল জমা দেওয়ার অফিসও বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মোর্চা।
[জিটিএ নিয়ে পরস্পরবিরোধী মন্তব্য, দলেই প্রশ্নের মুখে গুরুং]
কিছু দিন আগে বাংলা ভাষা নিয়ে আন্দোলন করেও তেমন সুবিধা করতে পারেনি গুরুং বাহিনী। বনধের পাশাপাশি ভাষা আবেগ উসকে দিতে ফের সক্রিয় হয়েছে মোর্চা নেতৃত্ব। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে ঠিক হয়েছে পাহাড়ের কোথাও বাংলা ভাষায় সাইনবোর্ড থাকবে না। শুধুমাত্র নেপালি এবং ইংরেজিতে সাইনবোর্ড লিখতে হবে বলে ফতোয়া দিয়েছে মোর্চা। আন্দোলনে গতি আনতে প্রতি বৃহস্পতিবার ও রবিবার গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে মিছিল ও সই সংগ্রহ করবে মোর্চা। প্রতিদিন সন্ধেয় হবে মোমবাতি মিছিল। গোর্খাল্যান্ডের সিদ্ধান্ত নিয়ে এত কাণ্ডের পরও এই ফতোয়াকে বনধ বলতে চায় না মোর্চা। এই নিয়ে আবার মোর্চা সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে।
মুখ্যমন্ত্রী পাহাড় ছাড়ার পরই মোর্চার জঙ্গিপনা আরও বেড়েছে। যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ শাসক শিবির। রাজ্যের পর্যটকমন্ত্রী তথা দার্জিলিং জেলার তৃণমূলের সভাপতি গৌতম দেবের বক্তব্য, এটি হঠকারী সিদ্ধান্ত। মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে মোর্চা। তিনি জানিয়েছেন বনধের সর্বাত্মক বিরোধিতা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে এর মোকাবিলা করা হবে। মোর্চার এই চালে রাজ্য সরকার কী অবস্থান নেয়, সোমবার থেকে তা বোঝা যাবে।
সর্বশেষ খবর
-
হিরের ব্রেসলেট চুরি! বিশ্বকাপ শুরুর আগে গ্রেপ্তার ববি মুর, তারপর…
-
স্কটিশ চার্চে অভিনব উদ্যোগ, চালু হল বিনামূল্যে ডেটা সায়েন্স ও সংবাদ পাঠের কোর্স
-
ভারতের রাষ্ট্রপতি কে? সাধারণ জ্ঞান নিয়ে আলিয়াকে খোঁচা! ‘আলফা’ জবাব কাপুরবধূর
-
দীর্ঘদিনের খরা কাটিয়ে বিশ্বকাপ নকআউটে জয়, বাঁধনভাঙা উচ্ছ্বাসে দমবন্ধ হয়ে মৃত ৩ সমর্থক
-
‘মেসি আরও গোল করুক, বিশ্বকাপটা আমার চাই’, ফ্রান্সকে শেষ ষোলোয় তুলে হুঙ্কার এমবাপের