Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৪ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম পায়ে বাইক চালিয়ে নেপাল-সিকিম, বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে বিপিন

বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবসে ভরসা দিচ্ছেন বিপিনরা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯, ১৩:৪৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯, ১৩:৪৫

options
link
কৃত্রিম পায়ে বাইক চালিয়ে নেপাল-সিকিম, বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে বিপিন zoom

চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: অঙ্গহানি মানুষের জীবনকে আমূল বদলে দিতে পারে। দেহের যে কোনও অঙ্গহানি কেবল শারীরিক নয়, মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু নকল দু’টি পা-কেই শরীরের স্বাভাবিক অংশ করে নিয়ে বাইক নিয়ে বিশ্বজয় করে বেড়াচ্ছেন বিপিন। পেশায় কম্পিউটার মেকানিক আর প্যাশন বাইক রাইডিং। শখের মোটর বাইক ছুটিয়ে কখনও ছুটছেন সিকিম, সান্দাকফু কখনও নেপাল। কৃত্রিম পা নিয়েই আড়াই হাজার কিলোমিটার বাইক রাইডিং শেষ করেছেন বিপিন। ৩০ বছরের এই যুবকের পরের গন্তব্য ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের হিমাচল।

11037022_1093227334043723_6105174982468813616_n

Advertisement

[সাক্ষী হোন বছরের শেষ ‘সুপারমুন’-এর, কবে দেখা যাবে জানেন?]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

সময়টা ছিল ২০০৭-র অক্টোবর মাস। পুজোর ছুটিতে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে অঙ্গহানি ঘটেছিল বিবিনের। ভিড়ের চাপে ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে দু’টি পা কাটা যায়। এরপরেই জীবন আমূল বদলে যায় ওই যুবকের। অঙ্গচ্ছেদের দু’বছর পর নকল পা বসানো হয়। এরপরই শুরু হয় অপট্রিক্যাল ট্রেনিং। পরীক্ষা করা হয় হিপ মুভমেন্ট। হাঁটার সময় পায়ের ছন্দ অক্ষত রয়েছে কি না। আসল ও নকল পায়ের হাঁটার তফাতের ফারাক দূর করতে লাগাতার প্র্যাকটিস ও নির্দিষ্ট থেরাপি শুরু করে বিপিন। শুধু দৈনন্দিন জীবন নয়, পেশাগত জীবনেও নকল পা-কেই আসল ছন্দে নিয়ে আসে আসানসোলের বিপিন সিংহ।

21430148_2336477656385345_4803394601916225731_n

[সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সম্পর্কে এই অজানা তথ্যগুলি না জানলেই নয়]

কুলটির নিয়ামতপুরের বাসিন্দা বিপিন দুর্ঘটনায় পা বাদ পড়ে যাওয়ার ধাক্কা সামলে দ্রুত কৃত্রিম পা নিয়ে আরও দামাল হয়ে উঠেছেন। বিপিন জানান, পা দু’টি যখন অক্ষত ছিল তখন বাইক চালিয়ে তিনি কখনও বাঁকুড়ার গণ্ডিও পার হননি। অথচ দুর্ঘটনার পর বাইক চালিয়ে দেশভ্রমণ শুরু করেছেন। তাঁর ভিতরে অদম্য জেদটা জুগিয়েছেন বাবা। বিপিন জানান, তিনি ভ্রমণ করতে ভালবাসেন। সেই সফর যদি হয় দুর্গম আর রোমাঞ্চকর জায়গায় তবে দুনিয়ার কোনও বাধাই তাঁকে আটকাতে পারে না। ওই যুবক শখের কেটিএম ডিউক ২০০-তে চড়ে নেপাল, সান্দাকফু, চায়না বোর্ডার সিল্ক রোড ও নেপালের তুংলিং ঘুরে ফেলেছেন।

[ডার্বির আগে মুখোমুখি সোনি-কাটসুমি, কী কথা হল দুই তারকার?]

২০১০ সালে ধানবাদের এক মোটরবাইক শো-রুমের উদ্যোগে বৌদ্ধগয়া অভিযান করেন বিপিন। সেই সফর ছিল চার দিনের। ২০১৩-র ডিসেম্বরে কুলটি বাইকার্স ক্লাবের সঙ্গে দেড় হাজার কিলোমিটার রাস্তা মোটরবাইক ছুটিয়ে আট দিনের অভিযানে সিকিম যান। ২০১৪ সালের জুনে ওই একই দলের সঙ্গে প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে নেপাল অভিযান শেষ করেন। তিনি ফের সিকিমের গুরুডংমার হ্রদ অভিযানে বের হন। নেপাল থেকে ফেরার পর মোটরবাইক চালকদের সংগঠন ‘এক্সএইচবিপি’ তাঁকে উল্লেখযোগ্য চালকের স্বীকৃতি দেয়। এরপর সান্দাকফু সফরও করেন। অন্য একটি বাইক নিয়ে পুরী, ভুবনেশ্বরও ঘুরে আসেন বিপিন। বিপিন জানান, এর মাঝে প্রচুর সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিয়েছিলেন। জানতেন প্রতিবন্ধী হলে নাকি সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু কপাল খোলেনি তাঁর। এমনকী আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে তিনি টুইট করে এক জোড়া উন্নত মানের কৃত্রিম পায়ের জন্য আবেদন করেছিলেন। সেখান থেকে কোনও সাড়া পাননি। কম্পিউটার সেলস এন্ড সার্ভিস সেন্টারে কাজ করেন বিপিন। পেশা কম্পিউটার, কিন্তু নেশা বাইকে ভ্রমণ। প্রতিবন্ধকতা হারিয়ে শুধু এগিয়ে চলাই বিপিনের লক্ষ্য।

ছবি: মৈনাক মুখোপাধ্যায়

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.