সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মহরমের জন্য দুর্গাপুজোর বিসর্জন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়ে বিভেদের রাজনীতি করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ভাষাতেই মমতাকে কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। বিসর্জনের দিনক্ষণ মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করার কে, সওয়াল করেছেন বাবুল। প্রসঙ্গত, ৩০ সেপ্টেম্বর মহরমের জন্য সন্ধে ৬টা থেকে পরদিন ১ অক্টোবর দুর্গাপুজোর বিসর্জন বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাতেই চটেছে বিজেপি এবং সংঘ পরিবার। গেরুয়া শিবির মামলার পথে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্যের বিরুদ্ধে। বাবুলের বক্তব্য, মানুষ তাঁর নিজ নিজ ধর্ম নিজের মতো করে পালন করবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাবুল। তারপর একের এক পালটা টুইটে ভরে গিয়েছে তাঁর অ্যাকাউন্ট। মমতার সিদ্ধান্তকে বিভেদের রাজনীতি বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। বাবুল এও বলেছেন, মুসলিম তোষণের জন্যই এমন নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
People shud follow their own customs&rituals as per their own convenience•It’s inappropriate of WB CM 2 issue such ‘Divide&Rule’ 2 diktats👎🏿 https://t.co/vIwGD6zF6a
Advertisement— Babul Supriyo (@SuPriyoBabul) August 23, 2017
উল্লেখ্য, বুধবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে শহরের সমস্ত পুজো কমিটি ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের পর তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী জানান, দশমীর দিন সন্ধে ৬টা পর্যন্ত বিসর্জন পর্ব চলতে পারে। তবে একাদশীর দিন কোনও পুজো কমিটি প্রতিমা নিরঞ্জন করতে পারবে না। কারণ, ওই দিন মহরম। তাই সেদিন প্রতিমা বিসর্জনের অনুমতি দিচ্ছে না রাজ্য সরকার। যদিও শুধু একদিন নয়, প্রতিমা নিরঞ্জনের অবকাশ থাকছে লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন পর্যন্ত। প্রতি বছরের মতো এবছরও গঙ্গার ঘাটগুলিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। পুজো কমিটির প্রতিনিধি ও পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে মমতা জোর দেন নিরাপত্তা ইস্যুতে। পুজোর মধ্যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে না হয়, সেদিকে সদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। প্রত্যেককে এই দুর্গাপুজোর মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। আহ্বান করেন সর্বধর্ম সমন্বয়ের।
[মুখ্যমন্ত্রীর অভিনব উদ্যোগ, ফিফার ওয়েবসাইটে এবার কলকাতার দুর্গাপুজো]
কিন্তু একাদশীতে বিসর্জন স্থগিত রাখার বিষয়টি ভাল চোখে দেখছে না সংঘ পরিবার। বারবার তারা মমতার বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তুলে আসছে। এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় টুইটারে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এবং তাঁর পক্ষেই নেটিজেনরা তুলোধোনা করছে মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে। বাবুলের অভিযোগ, কীভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিংসার দোহাই দিয়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে নাক গলাতে পারেন? তাঁর মতে, গতবছরও একই কাজ করেছিল রাজ্য সরকার। এবারও একই ভুল করতে চলেছে বলে দাবি করেছেন বাবুল।
সর্বশেষ খবর
-
সন্ধ্যা নামলেই পাখিদের গণ-আত্মহত্যা! অসমের রহস্যে ঘেরা এই গ্রাম হোক আপনার আগামী ডেস্টিনেশন
-
ধোনির যোগ্য উত্তরসূরি হার্দিকই! তারকা অলরাউন্ডারের দলবদল নিয়ে মুখ খুলল সিএসকে
-
জামাইবাবুর লালসার শিকার দিব্যাঙ্গ শ্যালিকা! বাংলাদেশে ধৃত মাদ্রাসার সুপার
-
শ্রাবণী মেলায় শিবমন্দিরে পুষ্পবৃষ্টি, রথযাত্রায় আর্থিক সাহায্য, উৎসবে একগুচ্ছ পরিকল্পনা রাজ্যের
-
রবিবার ১২ ঘণ্টা বন্ধ বিদ্যাসাগর সেতু, বিকল্প রুট জানিয়ে দিল কলকাতা পুলিশ