রাজা দাস: ‘স্বামী, স্ত্রী আর অ্যালসেশিয়ান জায়গা বড়ই কম, আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম।’
নাহ, নচিকেতার এই গান অনুযায়ী বৃদ্ধাশ্রমেও ঠাঁই হয়নি বৃদ্ধ ভোলা দাসের। সম্প্রতি গত হয়েছেন স্ত্রী। সেই দুঃখ তো রয়েছেই। কিন্তু তার চেয়েও বড় দাগা যে সন্তানরাই দিয়ে যাবে, ভাবতে পারেননি তিনি। কর্মরত ছেলেদের কাছে দিন দিন বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন বৃদ্ধ পিতা। তাই শেষমেশ তাঁকে রাস্তায় ফেলে রেখে গেল ঔরসজাত সন্তানরা। একদিন যাদের মুখে অন্য তুলে দিতে পরিশ্রমে কোনও খামতি রাখেননি, আজ তাঁরাই অশীতিপর ভোলাবাবুকে বালুরঘাট পুরসভার সামনে সহায় সম্বলহীন অবস্থায় ফেলে রেখে গেল।
[মণ্ডপ থেকে প্রতিমা, রাসযাত্রায় থিমেও জোর লড়াই]
বালুরঘাট পুরসভার সামনে না খেতে পেয়ে রাত কাটছিল ভোলা দাসের। পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় কেউ কেউ এক আধবার জানতে চান যে, তাঁর নাম কী? বাড়ি কোথায়? কিন্তু সে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো ক্ষমতাটুকুও নেই ওই বৃদ্ধর। গত সাতদিন ধরে রাস্তার ধারে পড়ে রয়েছেন। জোটেনি খাবার, জলটুকুও। খাদিপুর এলাকার সংলাপ পাড়ায় রাস্তার ধারে তাঁকে এভাবে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রাই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসেন। রবিবার বিকেলে বালুরঘাট থানার পুলিশ সংলাপ পাড়ায় পৌছে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভরতি করে। খাদিমপুর এলাকায় ফুটপাতে পড়ে থাকা ভোলা দাস জানিয়েছেন, তাঁর আদি বাড়ি বালুরঘাট থানার আটইর এলাকায়। বালুরঘাট শহরের বঙ্গি এলাকায় দুই ছেলে রাজা দাস ও সোনা দাসের সংসারেই তিনি থাকতেন। কিন্তু দুই ছেলের বউই তাঁকে ঠিকমত খেতে দিত না। তারাই মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে বলে বৃদ্ধের অভিযোগ।
এখানেই শেষ নয়! নিজের পাড়ায় রাস্তায় থাকতে লজ্জা করবে বলে ভোলাবাবু বালুরঘাট পৌরসভার সংলাপ ক্লাবের পাশে ফুটপাতে বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে রয়েছেন। প্রথম দিকে একটানা দু’দিন খাবার জোটেনি। পরে, ওই পাড়ার বাসিন্দারা পালা করে তাঁর খাবারের দায়িত্ব নেয়। এমনকী, রাতে শোওয়ার জন্য একটা মশারি দিয়েছেন তাঁরাই। অথচ, ছেলেরা কোনও খোঁজই নেয়নি। জানা গিয়েছে, বৃদ্ধর তিন ছেলেই কোনও না কোনও কাজ করে। বড় ছেলে থাকে ভিন রাজ্যে। বাকি দুই ছেলে বালুরঘাটেই বিভিন্ন হোটেলে রান্নার কাজ করে। নিজেদের সংসারে বাবার জায়গা হবে না, এই বলে বৃদ্ধকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তারা। শীতের রাতে কোনওরকম গরম পোশাক ছাড়া, মাথার উপর ছাদ ছাড়া একটু একটু করে অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন ওই বৃদ্ধ। শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের সহমর্মিতায় ও পুলিশের তৎপরতায় তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করা হল।
[নেতাজির মূর্তি ভেঙে বিশ্রামাগার তৈরি, গ্রামবাসীদের বাধায় পিছু হঠল প্রশাসন]

[ছবি: রতন দে]
সর্বশেষ খবর
-
নির্দল থেকে চেয়ারম্যান পদে! তৃণমূলের সমর্থনে কামারহাটির পুরপ্রধান লকেটের দাদা
-
বিধায়কদের ক্লাস করাতে এসে শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ওম বিড়লা! মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় বাম-তৃণমূল
-
বিজ্ঞান জগতেও সমাদৃত শ্যামাপ্রসাদ! নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার নামকরণে ‘ভারত কেশরী’
-
ব্রিজে ওঠার মুখে গাড়ির উপর ভেঙে পড়ল লোহার বার, বন্ধ বাগুইআটি ফ্লাইওভার
-
মিলবে ৫০ শতাংশ এরিয়ার! রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে পেনশনভোগীদের জন্য বিরাট সুখবর