তরুণকান্তি দাস : ইলিশ আসছে না৷ যাচ্ছে না আম। তিস্তার জল নিয়েও জট কাটছে কই! এই পরিস্থিতির মধ্যেও পশ্চিমবাংলার শিল্পক্ষেত্রে বড় অঙ্ক লগ্নি করল পড়শি রাজ্য বাংলাদেশ। প্রায় ১০০ কোটি টাকা লগ্নি করছে পদ্মাপাড়ের এক সংস্থা। এই বিনিয়োগ পাওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দরবার করেছিল কেন্দ্র৷ হাসিনার সেই আবেদনে সাড়া মিলল৷ তাঁর হস্তক্ষেপেই এপার বাংলায় এসেছে ওপারের প্রায় শত কোটির লগ্নি। এবং যে ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগ আসছিল না, সেই খাদ্য প্রক্রিয়াকরণকেই পাখির চোখ করে টাকা ঢালছে হাসিনার দেশের একটি সংস্থা৷
প্রথম ধাপে ৫০ লক্ষ টাকা দিয়ে শুরু করলেও ধাপে ধাপে লগ্নির অঙ্কটা গিয়ে দাঁড়াবে ১০০ কোটিতে৷ এই বহুজাতিক বিনিয়োগের হাত ধরেই রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ঘুরে দাঁড়াবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল৷ সবচেয়ে বড় কথা, ভৌগোলিক অবস্থানগত সমস্যার কথা তুলে ধরে যে জঙ্গিপুর ফুড পার্কে কেউ পা রাখছিল না সেখানেই এতবড় লগ্নি হচ্ছে। এ রাজ্যের জন্য তা অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছে শিল্পমহল। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপু্রে প্রায় ১০০ একর জমির উপর মেগা ফুড পার্ক গড়ে উঠেছিল রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে৷ উল্লেখ্য, জঙ্গিপুর থেকেই প্রথমবার নির্বাচনে জিতেছিলেন প্রণববাবু৷ এই পার্ক ছিল তাঁর উদ্যোগ৷ পরে প্রকল্পের নাম বদলে হয় জঙ্গিপুর বেঙ্গল মেগা ফুড পার্ক লিমিটেড৷ সেখানে বড় কোনও লগ্নি আসছিল না বলে উদ্বিঘ্ন ছিল সরকারও৷
[সোনু নিগমের পাশে দাঁড়িয়ে ইমামদের ‘মিথ্যাবাদী’ বললেন তসলিমা]
সবরকম বাধা কাটিয়ে বাংলাদেশের এই লগ্নি চমকে দিয়েছে সকলকে। কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশের ফুড চেন এশিয়ার সঙ্গে জঙ্গিপুর ফুড পার্ক লিমিটেডের এই চুক্তি সই হয়েছে। এই চুক্তিতে খুশি দুই বাংলার মানুষই। বাংলাদেশের লগ্নিকারী সংস্থাটির কর্ণধার লুতফর রহমান বলেন, “এই পার্ক অবস্থানগতভাবে আমাদের কাছে আকর্ষণীয়৷ জঙ্গিপুর রাজশাহী জেলার কাছে। মালদহের মহদিপুর সীমান্ত দিয়ে আমদানি ও রফতানি সুবিধাজনক৷ আধুনিক পরিকাঠামোও রয়েছে। বাজারও বেশ বড়। তাই এখানে লগ্নি করছি আমরা৷”
[মূর্তি না সরালে বাংলাদেশে হিন্দু উচ্ছেদের ডাক মুসলিম সংগঠনের]
চুক্তি বলছে, ধাপে ধাপে ১০০ কোটি লগ্নির পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের বহুজাতিক সংস্থাটির। এখন ২০ হাজার বর্গফুটের একটি কারখানার শেড নিয়েছে তারা৷ এক একর জমিও নিচ্ছে৷ এখান থেকেই আম, লিচু, কলা, টম্যাটো প্রক্রিয়াকরণের পর ভারত-বাংলাদেশ তো বটেই, এশিয়ার অন্যান্য দেশের বাজারও ধরতে ঝাঁপাবে সংস্থাটি৷ ফুড পার্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আমিরুল ইসলাম বলেন, “ওই জমিতে কলা পাকানোর বিশাল চেম্বার করবে সংস্থাটি। পাশাপাশি অন্যান্য ফলের পাল্প নিয়ে নানাবিধ খাবার তৈরি করবে৷ মালদহ ও মুর্শিদাবাদে যেহেতু আম সহজলভ্য তাই সেদিকে তারা বিশেষ নজর দিচ্ছে৷ এতে স্থানীয় কৃষিক্ষেত্রও লাভবান হবে।”
[আপনার লেবু জলের গেলাসে টুকরো বরফখানা মর্গ থেকে আনা নয়তো!]
সর্বশেষ খবর
-
‘হকার’ না ‘ভোটার’, আমরা কোন চোখে মানুষগুলিকে দেখেছি?
-
‘আলোচনা ব্যর্থ হলে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’, আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘আল্লার উপহার’ হরমুজই অস্ত্র ইরানের!
-
জার্সি বেচে সন্তানকে বাঁচান প্যারাগুয়ের নায়ক গিল, ‘আকাশের ঠিকানায়’ দাদুকে চুমু গোলদাতা এনসিসোর
-
মমতা অতীত, জোটের প্রশ্নই নেই! বিজেপির বাংলায় কংগ্রেস কর্মীদের লড়াইয়ের ডাক বেণুগোপালের
-
‘মা-কাকিমা ছাড়া রোল পাবে না’, এবার রচনাকে পালটা কল্যাণের, প্রশ্ন তুললেন শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও