নন্দন দত্ত, সিউড়ি: দাদা পরিবারের অমতে বিয়ে করেছিলেন। স্বাভাবিকভাবে নিজের বাড়ি ছেড়ে ভাড়াবাড়িতে গিয়েই উঠেছিলেন নতুন বউকে নিয়ে। তবে তাতে সম্পর্কে ছেদ পড়েনি। বউদি ননদের মধ্যে একটা দূরত্ব থাকলেও ফাটল ছিল না। তবে পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রায় দায়িত্ব নিয়েই সেই দূরত্বে ফাটল ধরিয়ে দিল। বউদি তৃণমূলের প্রার্থী আর ননদ বিজেপির। এহেন ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন বৃদ্ধা মা। তাঁর এখন মেয়ে রাখি না বউমা রাখি। একেবারে সঙ্গীন অবস্থা। এমনই ছবি ধরা পড়েছে বীরভূমের ময়ূরেশ্বর এক নম্বর ব্লকের কানাচি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ওই পঞ্চায়েতের মুরুলিডাঙ্গাল সংসদে বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন ননদ মুনমুন বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন তাঁর মেজো বউদি নিবেদিতা দাস।
[মা ও ভাই কংগ্রেস প্রার্থী, দলবিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা]
পরিবারে পাঁচ বোন ও দু’ভাইয়ের মধ্যে মুনমুনদেবী ছোট। মেজো দাদা শুভাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিয়ে বাড়ির অমতেই হয়েছিল। তাই প্রথম থেকেই পৃথক বসবাস। তবে বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। মায়ের দেখাশোনাতেও কখনও কার্পণ্য করেননি। বাদ সেধেছে এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচন। এখন কার্যত শুভাশিসবাবুর সঙ্গে মুখ দেখাদেখি বন্ধ তাঁর পরিবারের লোকজনের। গ্রামবাসীর দাবি, বউয়ের জন্য যে ছেলে মাকে ছেড়ে আসতে পারেন, তিনি সবই পারেন। তবে তৃণমূলের দাবি, শুভাশিসবাবু এটাই বোঝাতে চাইছেন যে যাকে ভালবাসেন তাঁর জন্য তিনি সব করতে পারেন। এই প্রসঙ্গে শুভাশিসবাবু বলেন, “আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক ভালই আছে। বোনকে ওরা ভুল বুঝিয়ে প্রার্থী করেছে। তবে এনিয়ে আমাদের ভাই-বোনের সম্পর্কের কোন অবনতি হবে না। আমরা উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছি। বোনের বিরুদ্ধেও কিছু বলছি না। বোনও আমার বা ওর বউদির নামে কিছু বলছে না।” একই বক্তব্য তৃণমূল প্রার্থী নিবেদিতা তথা শুভাশিসবাবুর স্ত্রীরও।
[ত্রিপুরা মডেল ফিরল বাংলায়, ক্ষমতায় এলে বেকারদের স্মার্টফোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মুকুলের]
এদিকে বিজেপি প্রার্থী মুনমুন বলেন, “আগে আমি মনোনয়ন জমা দিয়েছিলাম। তার পর বউদি জমা করেছে। আমাকে যদি বোন ভাবে তাহলে বউদি মনোনয়ন জমা দিত না। আমি দাদা বা বউদির বিরুদ্ধে কোনও কথা বলছি না। আমি বলছি ছ’বছর তৃণমূলকে দেখলেন। এবার আমাকে ভোট দিন। বিজেপি একবার দেখুন। আমি আপনাদের পাশে থাকব।” মেয়ে ও ছেলের বউয়ের লড়াইয়ে বিব্রত মা অশোকা বন্দ্যোপাধ্যায়। দু’দিকে দু’জন। ছেলে ছেড়ে চলে গিয়েছে। তা বলে মা তো ছেলেকে ছাড়েননি। তিনি বলেন, “আমার কাছে ছেলেমেয়ে দু’টোই সমান। ওরা ভাই বোনে লড়াই করছে। আমি মাঝখানে পড়ে গিয়েছে। আমার একদম ভাল লাগছে না। তবে আমি মেয়ের পক্ষেই থাকব।”
ছবি- সুশান্ত পাল
সর্বশেষ খবর
-
মহারাষ্ট্রে ফের বিরোধী শিবিরে ভাঙন! পওয়ারের ‘অস্থিরচিত্ত’ বিধায়কদের ‘সন্দেহ’ কংগ্রেসের
-
১৬ বছর পর কলকাতা পেল মহিলা ওসি, একসঙ্গে রদবদল ৩৩ ইন্সপেক্টরের
-
খেয়াল রাখতে হবে অভিযোগকারিণীর মানসিক দিকটিও, লালবাজারে বিশেষ প্রশিক্ষণ ১৮৩ মহিলা পুলিশকে
-
ইথানলের মিশ্রণে গাড়ির ক্ষতি না হওয়ার দাবি, গড়করিকে পালটা ‘চ্যালেঞ্জ’ সমাজকর্মীদের
-
সেবাশ্রয়ের ‘ভুলে’ বাদ পা! অভিষেক-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের মহিলার