সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্ববাংলা ও জাগো বাংলা নিয়ে মিথ্যা অভিযোগের কারণে এবার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা মুকুল রায়কে আইনি নোটিস পাঠালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত শুক্রবার রানি রাসমনি রোডের এক জনসভা থেকে অভিষেককে আক্রমণ করেন সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া এই নেতা। জানান বিশ্ববাংলা ও জাগো বাংলার মালিকানা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। যদিও পালটা বিবৃতি দিয়ে তা ভুয়ো বলেই জানানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্য ও তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দুটো অভিযোগই মিথ্যা। এরপরই মুকুলের বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত অভিষেকের। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক সম্মেলন করে ক্ষমা চাওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে মুকুলকে। না হলে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে নোটিসে।
[হাই কোর্টের ভর্ৎসনায় ব্যবস্থা, অবশেষে আধার পাচ্ছেন প্রতিবন্ধী যুবক]
গত ১০ তারিখ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই সভা করেন মুকুল। সেই মঞ্চ থেকে প্রাক্তন দল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর এই অভিযোগগুলি যে সম্পূর্ণ মিথ্যা, অভিষেকের পাঠানো আইনি নোটিসে সে কথা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, ‘মুকুল যে নথি দেখিয়েছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অভিষেক কোনও কিছুরই মালিক নন। বিশ্ববাংলা সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। ‘জাগো বাংলা’ সংক্রান্ত নথিগুলিও ভিত্তিহীন। অভিষেক এসবের কোনওটিরই শেয়ার হোল্ডার নন।’ নোটিসে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘তৃণমূল এবং অভিষেকের সম্মানহানির জন্যই এই সমস্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। সদ্য অন্য পার্টিতে যোগ দিয়ে চমক দেওয়ার জন্যই এ ধরনের কথা বলেছেন তিনি। আসলে বিজেপির মধ্যে নিজের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে চাইছেন তিনি।’ এর পাশাপাশি ওই আইনি নোটিসে শর্ত দেওয়া হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই মুকুলকে সাংবাদিক সম্মেলন করে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি বা দেওয়ানি মামলা করা হবে। যদিও এই আইনি নোটিস প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি কিংবা মুকুল রায়ের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।




[জয়েন্টের জন্য উচ্চমাধ্যমিকের সূচিতে রদবদল, ঘোষণা সংসদের]
এর আগে গত শনিবারও ‘বিশ্ববাংলা’ নিয়ে মুকুলের দাবি খারিজ করেছিল রাজ্য সরকার। নবান্নে স্বরাষ্ট্রসচিব অত্রি ভট্টাচার্য ও অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বিশ্ববাংলা ব্র্যান্ড ও লোগো রাজ্য সরকারের। এর লোগো মুখ্যমন্ত্রীর সৃষ্টি। বিশ্ববাংলার ১০০% মালিকানা সরকারের। এর কোনও ব্যক্তিগত মালিকানা নেই। রাজ্য সরকারের দাবি, বিশ্ববাংলা মার্কেটিং কর্পোরেশনের রেজিস্ট্রেশন ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর রেজিস্ট্রেশন করায় রাজ্য। এই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাবলিক ডোমেন ওয়েবসাইটে দেওয়া রয়েছে বলেও জানিয়েছে রাজ্য। প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববাংলা নিয়ে যা দাবি করা হচ্ছে তা অসত্য। অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা মন্তব্য করেন, ‘বিশ্ববাংলার ব্র্যান্ড ও লোগোর জন্য আবেদন জানায় সিজে অ্যাসোসিয়েটস। সিজে অ্যাসোসিয়েটস পরে আবেদন প্রত্যাহার করে। রাজ্য সরকারও বিশ্ববাংলা ব্র্যান্ড ও লোগোর জন্য আবেদন করে। রাজ্য সরকার বিশ্ববাংলার অনুমোদন পায়।’ বিশ্ববাংলার ব্র্যান্ড ও লোগো ব্যবহারের অনুমতি ২০১৪-র ৩১ ডিসেম্বর পায় রাজ্য, জানিয়েছেন অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। যদিও দুই প্রশাসনিক আধিকারিককে পালটা জবাবও দিয়েছিলেন মুকুল।
সর্বশেষ খবর
-
বিনা যুদ্ধে নাহি দেব… হেরেও অমলিন থাকবে ভোজিনহাদের রূপকথা, কষ্টের জয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা
-
নির্দল থেকে চেয়ারম্যান পদে! তৃণমূলের সমর্থনে কামারহাটির পুরপ্রধান লকেটের দাদা
-
বিধায়কদের ক্লাস করাতে এসে শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ওম বিড়লা! মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় বাম-তৃণমূল
-
বিজ্ঞান জগতেও সমাদৃত শ্যামাপ্রসাদ! নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার নামকরণে ‘ভারত কেশরী’
-
ব্রিজে ওঠার মুখে গাড়ির উপর ভেঙে পড়ল লোহার বার, বন্ধ বাগুইআটি ফ্লাইওভার