BREAKING NEWS

৯ মাঘ  ১৪২৮  রবিবার ২৩ জানুয়ারি ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

তেলিনিপাড়ায় নিষ্ক্রিয় পুলিশ, প্রতিবাদে ডিএম অফিসে অবস্থান বিক্ষোভে লকেট-অর্জুন

Published by: Subhamay Mandal |    Posted: May 13, 2020 2:29 pm|    Updated: May 13, 2020 2:29 pm

BJP acusses Police for inactivity over Telinipara communal clash

সৌম্য মুখোপাধ্যায়: তিনদিনের বেশি সময় ধরে সাম্প্রদায়িক হিংসায় অশান্ত হুগলির ভদ্রেশ্বর থানার তেলিনিপাড়া অঞ্চল। বুধবারও দফায় দফায় চলছে বোমাবাজি, গুলি। অব্যাহত ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশাল পুলিশ বাহিনী-কমব্যাট ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে চন্দননগর কমিশনারেটের তরফে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অশান্তির ছবি-ভিডিও উসকানির কাজ করছে বলে হুগলির ১১টি থানা এলাকায় ইন্টারনেট ও কেবল পরিষেবা বন্ধ করেছে প্রশাসন। তাও অশান্তি থামার নাম নেই। এবার পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ জেলাশাসকের অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসলেন বিজেপি নেতৃত্ব। নীরব প্রতিবাদ দেখালেন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও অর্জুন সিং-সহ স্থানীয় বিজেপি নেতারা।

মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন, লকডাউন ভেঙে যারা দাঙ্গা করছেন তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। সে যেই হোক না কেন। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মহামারি আইনে ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই সাম্প্রদায়িক অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, ‘আপনাদের লজ্জা লাগে না? এই মহামারির সময় হিন্দু-মুসলিম করছেন। বিধানসভা ভোট তো পরের বছর। এখনই দাঙ্গা করছেন কেন? হিন্দু-মুসলিম না করে যাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় কাজ করছে, তাঁদের পাশে দাঁড়ান। হিন্দু-মুসলিম করবেন না।’ বুধবার চুঁচুড়ায় জেলাশাসকের অফিসের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ করে বিজেপি নেতৃত্ব। লকেট চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘পুলিশ কোনও ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলছেন, কোনও দল-রং না দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু কোথায় কী? এখনও আগুন জ্বলছে। পুলিশ কী করছে? কমিশনার আমার সঙ্গে দেখা করছেন না। ভদ্রেশ্বর থানার ওসি কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। জেলাশাসক বলছেন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে আসতে হবে। আমি একজন সাংসদ। আমাকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে আসতে হবে মানুষের কথা বলার জন্য?’

[আরও পড়ুন: তেলিনিপাড়া হিংসা নিয়ে গুজব রুখতে ব্যবস্থা, হুগলিতে বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা]

এরপরই তিনি বলেছেন, ‘আমাকে সর্বত্র আটকানো হচ্ছে। কিন্তু যেটা আটকানোর, সেই অশান্তি আটকাতে পারছে না পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ পুলিশ। আমাকে লুকিয়ে লুকিয়ে জেলাশাসকের অফিসে আসতে হচ্ছে। একজন সাংসদকে লুকিয়ে আসতে হবে? এটা বাংলার অবস্থা!’ এদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব রুখতে মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে চন্দননগর এবং শ্রীরামপুর মহকুমায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হুগলি জেলা প্রশাসন। এ দিন এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেন জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর রাও। রাতে তিনি জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়াচ্ছে তেলিনিপাড়া সংঘর্ষের ছবি, ভিডিও। কিছু সমাজবিরোধী ইন্টারনেটের মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে। তা রুখতেই প্রশাসন আপাতত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইন অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ মে পর্যন্ত এই নির্দেশ কার্যকর। ভোডাফোন, জিও, বিএসএনএল, আইডিয়া, এয়ারটেল, টাটা টেলি সার্ভিস-সহ সমস্ত কেবল টিভির ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংস্থাগুলিকে।

[আরও পড়ুন: লকডাউন ভেঙে দাঙ্গা করলে রেয়াত নয় কাউকে, তেলিনিপাড়ার ঘটনায় হুঁশিয়ারি মমতার]

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে