নন্দন দত্ত, সিউড়ি: আদালতের নির্দেশ সত্বেও পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দিতে পারলেন না জেল হেফাজতে থাকা আট রাজনৈতিক বন্দি। গোটা ঘটনায় প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা। অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশাসন গাফিলতি দেখিয়েছে। তাই রাজনৈতিক বন্দিরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি। মনোনয়নের দ্বিতীয় পর্বেও যখন রাজনৈতিক বন্দিরা ব্রাত্য রইল, তখন গোটা ঘটনাটিকে আদালত অবমাননা হিসেবে দাবি করেছে বিজেপি। এই গাফিলতির অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে বিজেপি।
[বামনগোলায় একই আসনে লড়াই দুই বামনেত্রীর, লাভের গুড় খাচ্ছে তৃণমূল]
উল্লেখ্য, নলহাটিতে মনোনয়ন জমার দিনে পুলিশের সঙ্গে বিবাদে জড়ায় বিজেপি কর্মীরা। সরকারি কাজে বাধা-সহ দলীয় কার্যালয়ে বোমা রাখার অভিযোগে বিজেপির কর্মীরা বর্তমানে বন্দি। দ্বিতীয় দফায় মনোনয়নের সুযোগ পেয়ে তারা আদালতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আবেদন করে। রাজনৈতিক বন্দি আট প্রার্থী হলেন ধ্রুব সাহা, বচ্চন কুমার মাল, পরেশ রায়, অমিত মাল, তমাল লেট, দীপু দাস, রাহুল দেব ও দীনবন্ধু লেট। কলকাতা হাই কোর্ট অতিরিক্ত মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনে ওই আটজন ইচ্ছুক প্রার্থীকে রামপুরহাট মহকুমা শাসকের দপ্তরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। সেই মর্মে মনোনয়ন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার সমস্ত ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার জন্য জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন রামপুরহাটের অতিরিক্ত মুখ্য দায়রা বিচারক অংশুমান চট্টোপাধ্যায়। সেই নির্দেশে বলা হয়, এক নম্বর অভিযুক্ত ধ্রুব সাহা-সহ অন্যান্য সাতজন আসন্ন ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক। ধ্রুব সাহার প্রার্থী পদে ৯ ও ১০ নম্বর অভিযুক্ত প্রস্তাবক হিসেবে থাকতে ইচ্ছুক।
গত পাঁচ এপ্রিল নলহাটিতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য মিলিত হয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন ২৪ জন। সেই ২৪ অভিযুক্তের মধ্যে আটজনের জন্য নির্দেশিকা জারি হয়। তাঁদের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া বা প্রস্তাবক হিসেবে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার জন্য জেলা প্রশাসনিক কর্তাদের নির্দেশ দেন বিচারক। কারন গত ২৩ তারিখ ছিল বর্ধিত মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষদিন। এদিকে অভিযুক্তরা ১ মে পর্যন্ত জেল হেফাজতে থাকার পর তাঁদের আদালতে হাজির করা হবে। তবে কেন মনোনয়ন দিতে নিয়ে যাওয়া হল না, সে নিয়ে মুখ খুলতে চাননি পুলিশ কর্তারা। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শুভাশিস চৌধুরি বলেন, “কমিশনের নির্দেশ পাওয়ার পরেই আমরা আমাদের বিচারাধীন বন্দিদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করারা আবেদন জানাই। সেই নির্দেশ প্রশাসনের সর্বত্র পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছে প্রশাসন। আমরা এনিয়ে ফের আইনের দ্বারস্থ হব।”
[সিউড়িতে শেখ দিলদার খুনে গ্রেপ্তার ৪ বিজেপি কর্মী]
সর্বশেষ খবর
-
হোয়াটসঅ্যাপেই বানিয়ে নিন আয়ুষ্মান ভারত কার্ড! লাগবে মোটে ৫ মিনিট, রইল পদ্ধতি
-
রাজ্যে বিনিয়োগের জোয়ার! আদানি, টোডির পর এবার শুভেন্দু-সাক্ষাতে সঞ্জীব গোয়েঙ্কা
-
স্যালাইন কাণ্ডের তদন্তে মেদিনীপুর মেডিক্যালে স্বাস্থ্যদপ্তরের টিম, দ্রুত রিপোর্ট তলব স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
-
জাকার্তার মন্দিরের শিবমূর্তিতে লুকিয়ে হাজার বছরের ইতিহাস, ঘুরে এলেন মোদি, যাবেন নাকি?
-
ট্রাম্পকেই ‘লালকার্ড’ ফুটবল বিশ্বের, তদন্তের মুখে ফিফার সর্বময় কর্তা