BREAKING NEWS

৭ মাঘ  ১৪২৮  শুক্রবার ২১ জানুয়ারি ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

তিনদিনে ২ কর্মীর রহস্যমৃত্যু, পুরুলিয়া যাচ্ছে বিজেপির প্রতিনিধি দল

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 2, 2018 12:16 pm|    Updated: June 2, 2018 12:16 pm

BJP delegation to visit Purulia over 2 workers murder

রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ও সুমিত বিশ্বাস: তিনদিনে ২ বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যু। অকুস্থল সেই পুরুলিয়ার বলরামপুর। একই কায়দায় ঝুলন্ত অবস্থায় দুজনের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শাসকদলের হাত দেখছে বিজেপি। দুই ঘটনায় উত্তাল জঙ্গলমহল। পুরুলিয়াতে দুই বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনাকে আত্মহত্যা বলার চেষ্টা করছে পুলিশ। এটা তৃণমূল গুন্ডা ও পুলিশের ষড়যন্ত্র। অভিযোগ করলেন রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তাঁর দাবি, পাঁচজন ডাক্তারের টিমকে দিয়ে মৃত বিজেপি কর্মী দুলাল কুমারের দেহর ময়নাতদন্ত করতে হবে। সেটা ভিডিও করে আদালতে জমা দিতে হবে। কৈলাস বলেন, তিনি গতকাল রাতে এডিজি অনুজ শর্মার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। দুলালের জীবন সংশয়ে। তাঁকে যাতে বাঁচানো যায়। কৈলাসের বক্তব্য, এডিজি বলেছিলেন পুরো শক্তি দিয়ে চেষ্টা করছে পুলিশ। কিন্তু তারপর এই ঘটনা। যা হচ্ছে গণতন্ত্রও লজ্জায়, অভিযোগ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতার। এদিকে দুটি ঘটনাতেই সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। একইসঙ্গে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া আন্তঃরাজ্য সীমান্ত সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য পুলিশ।

[ফের বিজেপি কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, উত্তপ্ত পুরুলিয়া]

পাশাপাশি, শনিবারই পুরুলিয়া যাচ্ছে রাজ্য বিজেপির টিম। দিল্লি থেকে দলীয় নেতা মুকুল রায় এদিন বিকেলেই পুরুলিয়া পৌঁছবেন। রাতে বলরামপুর পৌঁছবেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু। ফের বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনা জানানো হয়েছে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং কে। সায়ন্তন বসু বলেন, “পুরো পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট দেব অমিত শাহ ও রাজনাথ সিংকে। এরপর ওনারা রাজ্যে আসতে পারেন।” দলীয় সূত্রে খবর, পুরুলিয়াতে পরপর দুই দলীয় কর্মী খুনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন বিজেপি নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যে আসতে পারে কেন্দ্রীয় টিম। আরও বড়সড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। ফের পুরুলিয়া বনধ ডাকা হতে পারে। প্রয়োজনে বাংলা বনধ ডাকার হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। প্রসঙ্গত, বলরামপুরের ডাভা গ্রামে বাড়ি দুলাল কুমারের। শুক্রবার রাতে বাইক নিয়ে গ্রামের শেষপ্রান্তে শৌচকর্ম করতে যান তিনি। একটি পুকুরে পাশে বাইকটি রেখে যান। গ্রামে এভাবেই অনেকে শৌচকর্ম করে থাকেন। তাই প্রথমে কারও সন্দেহ হয়নি। কিন্তু ঘণ্টাখানেক পরও দুলাল না এলে সন্দেহ হয় তাঁর বন্ধুদের। এরপর সারা গ্রামে বিষয়টি চাউর হয়ে যায়। শুরু হয় খোঁজ। অনেকক্ষণ খোঁজার পরও দুলাল না মেলায় খবর দেওয়া হয় পুলিশে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই চলে আসে বলরামপুর, বাঘমুন্ডি, আরশা থানার পুলিশ। মিলিতভাবে শুরু হয় খোঁজ। ডিএসপি ডিইডি অতুল চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাতভর চলে সার্চ অপারেশন। কিন্তু দুলালের কোনও খোঁজ মেলেনি। শনিবার সকাল পৌনে ছ’টা নাগাদ গ্রাম থেকে প্রায় তিনশো মিটার দূরে বাঘমুন্ডি সড়কের কাছে বিদ্যুতের হাইটেনশন লাইনের টাওয়ারে দুলালের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান গ্রামের বাসিন্দারা।

[হাবড়ার সভায় পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিলীপ ঘোষের, পালটা চ্যালেঞ্জ পার্থর]

নাইলনের দড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো ছিল দুলালের। পরনে টি-শার্ট ও জিনস। আর ডান পকেটে মোবাইলটিও ছিল। রাতে যখন দুলালকে ফোন করা হয়েছিল। মোবাইলটি কিছুক্ষণ রিং হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসে বিশাল পুলিশবাহিনী। আসে ঝালদা, কোটশিলার থানার পুলিশও। কিন্তু মৃতদেহ উদ্ধার করতে দেননি স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, দিন দু’য়েক আগে এভাবেই সুপুরডি গ্রামে বিজেপির যুবকর্মী ত্রিলোচন মাহাতোকে খুন করা হয়েছিল। ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছিল তাঁর দেহ। ত্রিলোচনের পরনে থাকা জামার উপর হুমকি পোস্টার লেখাও উদ্ধার হয়েছিল৷ দুলালের মৃত্যুও একইভাবে হয়েছে৷ ঘটনার পরই বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়৷ ডাভা মোড়ের কাছে পথ অবরোধ করা হয়৷ ডিএসপি ডিইডি অতুল চট্টোপাধ্যায়ের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয়েছে বিশাল বাহিনী৷

[ফিরল মাও আমলের স্মৃতি, বিজেপির ডাকা ১২ ঘণ্টার বনধে অচল বলরামপুর]

ঘটনায় শাসকদলের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে স্থানীয় বিজেপি৷ বিজেপির পুরুলিয়ার জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, ‘আবার আমাদের কর্মীকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে৷ এই ঘটনার কিনারা করতে হবে৷’ তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে৷ পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাস জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে৷ ইতিমধ্যেই আদ্রা রেল সুরক্ষা বাহিনীর কাছ থেকে স্নিফার ডগ চাওয়া হয়েছে৷ স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বাড়ির বাইরে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে৷ জঙ্গলমহলের দুই ঘটনার তদন্তের ভার সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে৷ ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা৷ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন৷ ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা উচিত বলে দাবি করেন তিনি৷ এর নেপথ্যে ঝাড়খণ্ড সীমান্তের কি ভূমিকা রয়েছে? বজরং দল, মাওবাদী কিংবা বিজেপির কী ভূমিকা রয়েছে তাও খতিয়ে দেখার দাবি তোলেন৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে