২৭ অগ্রহায়ণ  ১৪২৬  শনিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: অশোক স্তম্ভ চিহ্ন দিয়ে ‘মেম্বার অফ পার্লামেন্ট’ লেখা বোর্ড লাগানো একটি গাড়িতে বিজেপির কর্মসূচিতে আসায় বিতর্কে জড়ালেন সাংসদ পত্নী সুজাতা খাঁ। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁয়ের স্ত্রী সুজাতা খাঁ সোমবার পুরুলিয়ার গাড়িখানায় মদ বিরোধী আন্দোলনে অবরোধ কর্মসূচিতে ওই গাড়িতে এসে বিতর্কে জড়ান। ওই গাড়িতে চালকের পাশে বাঁদিকের কাচে লাল কালিতে ‘এমপি’ লেখা রয়েছে। তার নিচেই রয়েছে লাল রঙের বোর্ডে সাদা হরফে লেখা ‘মেম্বার অফ পার্লামেন্ট’। সেখানেই আছে সাদা রঙে আঁকা অশোক স্তম্ভের চিহ্ন। তবে এর মধ্যে তিনি কিছু বেআইনি দেখছেন না বলে জানান। তাঁর সাফাই, স্বামীর সবকিছু স্ত্রী ব্যবহার করতে পারেন। তেমনই স্ত্রীর সব জিনিস স্বামী ব্যবহার করায় কোন অসুবিধা নেই। এদিন বিজেপির মহিলা মোর্চা জনবহুল এলাকা থেকে মদের দোকান সরাতে হবে এই দাবিতে শহর পুরুলিয়ায় পথে নামে।

এদিন গাড়িখানায় পুরুলিয়া–বরাকর রাজ্য সড়কে প্রায় দেড় ঘন্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির মহিলা নেতা–কর্মীরা। সপ্তাহের প্রথম দিন সোমবার বিজেপির এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজ্য সড়কে ব্যাপক যানজট বেধে যায়। মহিলা মোর্চার কর্মীরা রাজ্য সড়কে বসে পড়ে অবরোধ করেন। দিতে থাকেন স্লোগান। বেলা বারোটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত অবরোধে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি হয়। ছোট–বড় গাড়ি আটকে যাওয়ায় যানজট সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। এদিন এই অবরোধ কর্মসূচি শেষে সাংসদ পত্নী তথা মহিলা মোর্চার সদস্য সুজাতা খাঁ বলেন, “সংবিধানে কোথাও লেখা নেই যে এমপি–র গাড়িতে তাঁর স্ত্রী চাপতে পারবেন না। যদি সংবিধানে লেখা থাকত তাহলে নিশ্চই মেনে চলতাম। যে পার্লামেন্ট, সংবিধান সাংসদের স্ত্রীকে সমস্ত রকম সুবিধা দেয়, তাঁর গাড়ি তো আমি ব্যবহার করতেই পারি। এটা বেআইনি কিছু না। বেআইনি তো এই মদের দোকান।” বিজেপির মহিলা মোর্চার অভিযোগ, জনবহুল এলাকায় মদের দোকান রাখা যাবে না। কারণ জেলাজুড়েই নানান অভিযোগ আসছে।

গাড়িখানার এই মদের দোকানটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত। কিন্তু অভিযোগ, এই দোকানের পাশে দুটি হাই স্কুল ও শিশুদের একটি বেসরকারি স্কুল রয়েছে। তাছাড়া মদের দোকানের পাশেই ঠেক চলে। সেখানে মদ খেয়ে অভব্য আচরণ করা নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহিলা মোর্চার জেলা সভানেত্রী কাবেরি চট্টোপাধ্যায় বলেন, “জনবহুল এলাকায় মদের দোকান রাখা যাবে না। জেলাজুড়ে নানান অভিযোগ আসছে। আবগারি দপ্তর এই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ না করলে যেখানে যেখানে জনবহুল এলাকায় মদের দোকান রয়েছে সেখানে আন্দোলন হবে। এই আন্দোলন পরে জেলাতেও ছড়িয়ে দেওয়া হবে।” তবে এই জেলায় বেশ কয়েকবছর ধরেই জনবহুল এলাকায় মদের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। এদিন বিজেপি নেত্রী সুজাতা খাঁ বলেন, “জনবহুল এলাকা থেকে মদের দোকান না সরালে আমরা পুরুলিয়া শহর অবরুদ্ধ করে দেব। এই আন্দোলন কলকাতা, রাজ্যস্তর পর্যন্ত নিয়ে যাব।” তবে এই বিষয়ে কিছু বলতে চাননি জেলার আবগারি দপ্তরের সুপার মনীশ শর্মা।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং