সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘দরজা বন্ধ করে বিভাজনের রাজনীতি মেনে নেবে না রাজ্যের সাধারণ মানুষ। বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি হয়ে অন্যকে মারবার কথা বলছেন। আসলে এদেরই গণতন্ত্রের ওপর কোনও আস্থা নেই।’ এভাবেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি অমিত শাহ-কে পালটা জবাব দিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূলের মহাসচিবের অভিযোগ, দুর্নীতির পাহাড়ে বসে রয়েছে বিজেপি। তথ্য না জেনেই আক্রমণ করছে। পার্থর প্রশ্ন, বাচ্চা, শিশুদের বলা হচ্ছে ত্রিশূল পাবে। এটা কোন ধরনের রাজনীতি?
অমিত শাহ যে লোকদেখানো রাজনীতি করছেন তাও ঠারঠোরে বুঝিয়েছেন পার্থ। তৃণমূলের মহাসচিবের প্রশ্ন, সকালে যাঁরা আদিবাসীদের সঙ্গে খাবার খাচ্ছেন, রাতে কেন পাঁচতারা হোটেল নৈশভোজ সারছেন? অমিত শাহ কেন্দ্রীয় প্রকল্পে টাকার হিসাব চাওয়ায় পার্থর জবাব, ‘আগে টাকা দিন, তারপর হিসেব চাইবেন।’ তাঁর অভিযোগ টাকাই বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। মঙ্গলবার তৃণমূল ভবন থেকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতিকে খোঁচা দিয়ে এটাও বলেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার এখন অমিত শাহ-র অঙ্গুলিহেলনে চলত। ঠিক যেমন সিপিএমের সময় আলিমুদ্দিন থেকে চলত।
[লালসা মেটাতে অনাথ আশ্রমের নাবালিকাদের ধর্ষণ করত রাম রহিম]
এদিন মধ্য কলকাতায় একাধিক ইস্যুতে তৃণমূলকে একহাত নিয়েছিলেন অমিত শাহ। তাঁর বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযোগ ধরে ধরে জবাব দেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তিনবার কেন দুশোবার আসলেও বাংলার মানুষ বিভাজনের রাজনীতি মানবেন না। পরিস্থিতি একই থাকবে। শুধু ধমকানো, চমকানো, শুধু ভাঙা এবং সমাজকে দ্বিখণ্ডিত করার এই পরিকল্পনা নিয়ে আপনারা অবিজেপি রাজ্যগুলিতে ঘুরছেন আর বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের রথকে স্তব্ধ করতে চাইছেন। আমাদের গণতন্ত্রে আস্থা আছে। রাজ্যের মানুষের প্রতি আস্থা আছে।’
[বিশ্বকাপের জন্য ভোলবদল যুবভারতীর, উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী]
এর সঙ্গে তিনি যোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে না পেরেই তৃণমূলের মন্ত্রী, সাংসদদের, নেতা-নেত্রীদের বিভিন্নভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থার সাহায্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। যখনই কোনও নির্বাচন আসে, তাঁরা এই কাজটি করে থাকেন। এরপরই কেন্দ্রীয় প্রকল্প বন্ধ, বন্যায় কেন্দ্রের সাহায্য না পাওয়া এবং নোট বাতিল-জিএসটি প্রসঙ্গে তোলেন। পার্থ জানান, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সবসময় মানুষের পাশে থেকেছে। নোটবাতিলই হোক, পরিকল্পনা ছাড়াই জিএসটি প্রয়োগই হোক কিংবা জমি আন্দোলনই হোক, প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর উদাহরণ রয়েছে। কয়েকদিন আগের বন্যায় কেন্দ্র বিহার-অসমকে সাহায্য করল। কিন্তু বাংলার জন্য কিছুই করল না। আপনারাও তো কিছুই করলেন না। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর্থিক অনটনের মধ্যেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।’ এরপর রাজ্যে বিজেপির বাড়বাড়ন্তের জন্য সিপিএমকে তিনি দায়ী করেন। পার্থর দাবি, সিপিএমই তাঁদের কর্মীদের হাতে পদ্মফুল ধরিয়ে দিয়েছে। এ রাজ্যে বিজেপির সংগ্রামের কোনও ইতিহাস নেই। তাঁরা কেউই নন্দীগ্রামের সংগ্রাম দেখেনি। কেউই কোনও লড়াই করেনি। কৃষিজমি রক্ষার যে ২৬ দিনের আন্দোলন, সেখানে শুধু হাত নাড়িয়ে তাঁরা চলে গিয়েছেন। তাই অমিতবাবুকে পরামর্শ ভালভাবে খবর নিন। বন্ধ দরজার ভিতর থেকে বিভাজনের রাজনীতি করবেন না।’
[ফের বিভ্রাট, বেলগাছিয়া স্টেশনে এসি মেট্রো থেকে ধোঁয়া]
সর্বশেষ খবর
-
টিকিটাকায় ধরাশায়ী অস্ট্রিয়া, দুর্বার গতিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেন
-
মিড ডে মিলের মাংস দিয়ে স্যারের বিবাহ বার্ষিকীর ভোজ! শান্তিপুরের স্কুলে তুমুল শোরগোল
-
অফিসের ২৫ জনকে পুলিশি হেনস্তা! ভয় দেখিয়ে মিথ্যা বয়ান রেকর্ড, দাবি অভিষেকের
-
হোয়াটসঅ্যাপের পরে টেলিগ্রাম, সিগন্যাল! ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে নোটিস কেন্দ্রের
-
ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতান্তর! বৈঠকে প্রশ্ন একাধিক সাংসদের