বিজেপি বিধায়ক তথা হিরণ চট্টোপাধ্যায় (Hiran Chatterjee) দ্বিতীয়বার বিয়ে (Marriage) করেছেন। প্রথমপক্ষের স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি! তার মধ্যেই বিজেপি বিধায়কের দ্বিতীয় বিবাহ। গতকাল, মঙ্গলবার রাতেই এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপি বিধায়কের প্রথমপক্ষের স্ত্রী। ঘটনা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। হিরণ এই মুহূর্তে খড়গপুর বিধানসভার বিধায়ক। এই দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে ব্যাপক বিড়ম্বনায় খড়গপুরে বিজেপি।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই প্রায় সর্বত্র নিন্দা ও কটাক্ষের ঝড় উঠেছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলে। বিশেষ করে প্রথম স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় এই বিয়ে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে খড়গপুর শহরের বিজেপির বিধায়ক তথা খড়গপুর পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিরণ। আর এই সমালোচনা শুধু যে বিরোধী দলের দিক থেকে হচ্ছে তা নয়। হিরণের নিজের দল বিজেপির মহিলা কাউন্সিলর ও কর্মীরাও সমালোচনা করছেন। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। এই ঘটনায় ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব পড়বে? এই ইস্যুতে তৃণমূল হাতে কতটা অস্ত্র পেয়ে গেল? কতটা বিড়াম্বনায় পড়বে গেরুয়া শিবির? সেসব প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুন:
View this post on Instagram
যদিও খড়গপুরের বিজেপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই ঘটনায় আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কোনও প্রভাব পড়বে না। তবে হিরণকে ফের প্রার্থী করা হলে নির্বাচনে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা অবশ্য কেউ উড়িয়ে দিতে পারছেন না। পাশাপাশি বিধায়ক হিরণের এই দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কেউ কেউ নীতি নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর এই দ্বিতীয় বিয়ে আইনত অপরাধ বলেই অনেকে মনে করছেন। খড়গপুর পুরসভার বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা তথা ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনুশ্রী বেহেরা বলেন, “প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়ে এইভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করা হিরণের ঠিক হয়নি। এইভাবে একটি সংসার ভেঙে দেওয়াকে একজন মহিলা হিসেবে মেনে নিতে পারছি না। তবে হিরণের এই দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে কোনও প্রভাব সামনের বিধানসভা নির্বাচনে কোনও প্রভাব পড়বে না। কারণ, খড়গপুরের মানুষ বিজেপির পদ্ম ফুল প্রতীক দেখে ভোট দেন। কোনও ব্যক্তিকে দেখে নয়।”
খড়গপুর পুরসভার বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা তথা ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনুশ্রী বেহেরা বলেন, “প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স না দিয়ে এইভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করা হিরণের ঠিক হয়নি। এইভাবে একটি সংসার ভেঙে দেওয়াকে একজন মহিলা হিসেবে মেনে নিতে পারছি না।”
প্রসঙ্গত, হিরণ (Hiran Chatterjee) যাঁকে বিয়ে করেছেন সেই পাত্রী ঋতিকা গিরি একসময় ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ডেভেলপমেন্ট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। জানা গিয়েছে বাবা অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী। এখন এই পরিবার খড়গপুর গ্ৰামীণ থানার গোকুলপুর এলাকায় থাকে। এই ব্যাপারে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনুশ্রী বেহেরা বললেন ” ঋতিকা পড়াশোনা থেকে শুরু করে খেলাধুলোয় খুবই পারদর্শী। হিরণের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার আগে থেকেই অনেক ছোট বয়স থেকে মডেলিং করছেন।” এদিকে খড়গপুর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপির কাউন্সিলর মমতা দাস আবার বলেন, “এবারে ভোটে হিরণকে ফের প্রার্থী করলে খেসারত দিতে হবে কিনা, সেটি দলকে ভাবতে হবে।” তাঁর বক্তব্য, “একজন বিধায়কের এভাবে আইন না মেনে দ্বিতীয় বিয়ে সমাজে সঠিক বার্তা দেয় না। কেউ এরকম কাজকর্ম সমর্থন করতে পারেন না।”