কেটেছে আড়াই দশক! কিন্তু এখনও বোলপুর সংলগ্ন শিবপুর এলাকায় গড়ে ওঠেনি কোনও শিল্প। কিন্তু এর মধ্যেই রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। বাংলার মসনদে এখনও বিজেপির সরকার। আর তাই সরকারে বদল হতেই নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন শিবপুরে জমি দেওয়া চাষিরা। তাঁদের কথায়, দ্রুত এলাকায় শিল্প আসুক। তৈরি হোক কর্মসংস্থান। যদিও বিষয়টি অবিলম্বে সরকারের নজরে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের আশা, নতুন সরকার নিশ্চয়ই ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে।
প্রসঙ্গত, বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শিবপুর মৌজায় ২০০২ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার শিল্পায়নের উদ্দেশ্যে জমি অধিগ্রহণ করে। সেই সময় শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩০০ একর জমি অধিগৃহীত হয়। পরবর্তীতে ২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরও ওই এলাকায় শিল্প গড়ে তোলার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায় আড়াই দশক পেরিয়ে গেলেও শিল্পের বাস্তব চিত্র দেখা যায়নি। জমি অধিগ্রহণ করা হলেও তার বড় অংশ আজও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন:
জমিদাতা কৃষকদের অভিযোগ, শিল্প স্থাপনের পরিবর্তে দো-ফসলি কৃষিজমির একাংশে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে আবাসন প্রকল্প এবং ‘বিশ্ব ক্ষুদ্র বাজারের মতো পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। তবে সেই প্রকল্পগুলিরও অনেকাংশ এখনও পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। সেই সময় জমিদাতাদের বিঘাপ্রতি ৪৮ হাজার থেকে ৬৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হলেও বহু কৃষক দাবি সকলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাননি। পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, জমিদাতা পরিবারগুলির সদস্যদের চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়িত হয়নি। অধিগৃহীত জমির মধ্যে প্রায় ১৩১ একর এলাকায় হিডকোর তত্ত্বাবধানে ‘গীতবিতান’ আবাসন প্রকল্প গড়ে ওঠে। এছাড়া প্রায় ৫০ একর জমিতে তৈরি করা হয় ‘বিশ্ব ক্ষুদ্র বাজার’। ৪২ একর জমিতে বিশ্ববাংলা বিশ্ববিদ্যালয়। বাকি বিস্তীর্ণ জমি এখনও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করে অনিচ্ছুক জমিদাতাদের একাংশ প্রথমে কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। বর্তমানে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।

জমিদাতা কৃষক ইসমাইল মণ্ডল ও শেখ সেলিম বলেন, “শিল্পের নামে আমাদের থেকে জমি নেওয়া হয়। বলা হয় শিল্প হবে, কর্মসংস্থান হবে। কিন্তু শিল্প তো দূরের কথা, চাষযোগ্য জমিতে আবাসন তৈরি হয়েছে। বহু মানুষ জমির ন্যায্য মূল্যও পাননি। এখন সরকার বদল হয়েছে। তাই নতুন করে শিল্প গড়ে ওঠার আশা করছেন এলাকার মানুষ।” অন্যদিকে জমিদাতা মির্জা জসিমউদ্দিন বলেন, “অধিগৃহীত জমিতে শিল্প স্থাপন করুক নতুন সরকার। শিল্প হলে শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, এলাকার বহু যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।”
এই প্রসঙ্গে বোলপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, “শিবপুর মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জমিগুলি নিয়ে নতুন সরকার নিশ্চয়ই ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে। সংগঠনের তরফেও শিল্পায়নের দাবিতে আমরা রাজ্য নেতৃত্বের কাছে বিষয়টি তুলে ধরব।” দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহে আবারও শিল্প সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন শিবপুরের জমিদাতা কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এখন একটাই প্রত্যাশা-প্রতিশ্রুতি মত বোলপুর শিবপুরে গড়ে উঠুক শিল্প। আর সেই সঙ্গে তৈরি হোক এলাকার কর্মসংস্থানের দিগন্ত।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
নথি দিচ্ছিলেন না স্বামী, অন্নপূর্ণার ফর্ম নিয়ে অশান্তি! স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী ব্যক্তি
-
পেনাল্টি বক্সের সামনে অর্ধগোলাকৃতি জায়গা, কী কাজ ‘ডি বক্সে’র? বিশ্বকাপের মাঝে জানুন খুঁটিনাটি
-
যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের সংকটে খোদ রাশিয়া! ‘পরিস্থিতি গুরুতর’, মানলেন পুতিন
-
শান্তিপুরে স্কুলের ছাদে বোমা! স্কুল চত্বরে ‘সমাজবিরোধীদের ঠেক’, নিরাপত্তার দাবিতে সরব কর্তৃপক্ষ
-
বারো হাজারের বেতনে ২৫ লাখের ফ্ল্যাট! রাম মন্দিরের ‘চোর’ লবকুশের সম্পত্তি দেখে থ পুলিশ