মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বার বার তোলাবাজি না করার জন্য কড়া বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু বাম থেকে তৃণমূল জমানার ট্র্যাডিশন বন্ধ হচ্ছে না বিজেপি জমানাতেও। যা রীতিমতো মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে উঠছে বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্বের কাছে। এর মধ্যেই এবার পূর্ব বর্ধমান জেলা ও পাশের বিভিন্ন জেলায় বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টাকা করে তোলাবাজির অভিযোগ। যা বিএমএস-সহ বিভিন্ন সংগঠনের নামে তোলা হচ্ছে বলে দাবি বর্ধমান জেলা বাস অ্যাসোসিয়েশন (বাস মালিক সংগঠন)-এর। আর এরপরেই পুলিশ এবং প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। এমনকী রাজ্যের মন্ত্রী থেকে বিধায়কদেরও জানানো হয়েছে বলে দাবি বাস মালিকদের। এই তোলাবাজি বন্ধ না হলে ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে এই বাস মালিক সংগঠন।
ঘটনা সামনে আসতেই বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র জানান, কোথাও দলের নাম করে কোনও তোলাবাজি করা যাবে না। যারাই করছেন সাবধান হয়ে যান না হলে পুলিশ কাউকেই রেয়াত করবে না।
আরও পড়ুন:
পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে বাস পাশের বিভিন্ন জেলাতেও যাতায়াত করে। প্রত্যেকদিন বহু মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু যেভাবে প্রত্যেকদিন টাকা তোলা হচ্ছে তাতে রীতিমতো চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বাস মালিকদের। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জানকী রঞ্জন সিনহা বুধবার বর্ধমানে সংস্থার দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে তোলাবাজির অভিযোগ তুলেছেন, জেলার আলিশা, নবাবহাট, মঙ্গলকোট, গুসকরা, কালনা, কাটোয়া সহ বিভিন্ন রুটে যে সমস্ত বেসরকারি বাস চলাচল করে সেই সমস্ত বাসের কর্মচারীদের কাছ থেকে প্রায় প্রতিটি বাসস্ট্যান্ড থেকে বিজেপির বিভিন্ন সংগঠনের নাম করে তোলাবাজি করা হচ্ছে। পাশের জেলাতেও বাসস্ট্যান্ড থেকে একইভাবে তোলাবাজি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “ইউনিয়নের নাম করে প্রতিদিন এক একটা বাস থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। কোথাও বিএমএস, কোথাও পথ কর্মচারী সংস্থা-সহ বিভিন্ন নাম করে টাকা আদায় করা হচ্ছে।”

জেলায় প্রায় সমস্ত রুটেই সংগঠনের ১২০০টি বেসরকারি বাস প্রতিদিন পরিষেবা দেয়। সব বাস থেকেই নিয়ম করে তোলা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে সংগঠনের তরফে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের জানানো হচ্ছে বিজেপির কেউ এসব করছে না। তাঁদের পুলিশে অভিযোগ জানাতে বলা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী তাঁরা অভিযোগও করেছেন। তবে ছুটি থাকায় জেলাশাসকের কাছে এদিন অভিযোগ জানাতে পারেননি। জানকী রঞ্জন সিনহা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “এই তোলাবাজি বন্ধ না করা হলে জেলা জুড়ে আমরা বাস চালানো বন্ধ করে দেব।”
তবে এই ঘটনা সামনে আসতেই বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র জানান, কোথাও দলের নাম করে কোনও তোলাবাজি করা যাবে না। যারাই করছেন সাবধান হয়ে যান না হলে পুলিশ কাউকেই রেয়াত করবে না। এদিকে এই অভিযোগ পেয়ে পুলিশ জেলার আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তর এবং জেলাশাসকের সঙ্গেও আলোচনা করবে বলে জানা গিয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
হড়পা বানে মৃত্যুমিছিল, নেপালে একতা চাইছেন ‘ভারতবিদ্বেষী’ বলেন্দ্র! নয়াদিল্লির পাঠানো ত্রাণ নেবেন?
-
যজ্ঞেই শয়তান তাড়ানোর কথা বলে ‘শ্লীলতাহানি’, গয়না নিয়ে উধাও সঙ্গিনী-সহ তান্ত্রিক
-
হড়পা বানে আটকে কৈলাসযাত্রী শিষ্যরা, বিধ্বস্ত নেপালে উদ্ধারকাজে নামতে চান সদগুরু!
-
রাজ্যে উড়ল প্যালেস্তাইনের পতাকা! ‘জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে আপস নয়’, কড়া বার্তা শুভেন্দুর
-
হাতে হাত, রংমিলান্তি পোশাক, ফের একফ্রেমে রাজ-শুভশ্রীকে দেখে শান্তি ভক্তদের