সৌরভ মাজি, বর্ধমান: জবকার্ড হোল্ডারদের জন্য সুখবর৷ এবার থেকে অপুষ্টিতে ভোগা সন্তান থাকলে বা বিশেষ রোগে আক্রান্ত কেউ থাকলে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে বাড়তি সুবিধা পাবে পরিবার। প্রতিবন্ধী জবকার্ড হোল্ডারদের ও শিশুশ্রমিক বা স্কুল ড্রপআউট থাকলে সেই পরিবারও বাড়তি সুবিধা পাবে। আইন মেনেই ওই পরিবারগুলিকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। সেই সব পরিবারকে বছরে ১০০ দিনই কাজ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, বিশেষ কিছু প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। যেগুলিতে তাঁরা সুযোগ পাবে। ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে ওইসব পরিবারকে এই বিশেষ সুবিধা দেবে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি জেলার উন্নয়ন বৈঠকে বিডিও, সভাপতিদের এমনই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন জেলা শাসক অনুরাগ শ্রীবাস্তব৷ ব্লক বা পঞ্চায়েত সমিতিগুলিও সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।
[প্রস্তুতি সম্পন্ন, খাদ্যরসিকদের স্বস্তি দিয়ে শুরু ইলিশ অভিযান]
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যদি কোনও পরিবারে অপুষ্টিতে ভুগছে এমন শিশু থাকে তাহলে সেই পরিবারকে ১০০ দিনের প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। কোনও পরিবারে প্রতিবন্ধী সদস্য থাকলে বা কোনও জবকার্ড হোল্ডার প্রতিবন্ধী হলে তাঁদের ইনডিভিজুয়াল বেনিফিশিয়ারি স্কিম (আইবিএস)-এর আওতায় এনে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। আইবিএস ক্যাটেগরিতে গোটারি, পোল্ট্রি, ক্যাটল শেড, কম্পোস্ট পিট, বনসৃজন, অ্যাজোলা চাষ, ক্যাটফিস চাষের জন্য পুকুর খনন প্রভৃতি প্রকল্প নিতে পারবে সংশ্লিষ্ট এলাকার পঞ্চায়েতগুলি। এর মাধ্যমে ওই পরিবারগুলি এই প্রকল্পে কাজ পাবে। পাশাপাশি, সম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আয়ের সুযোগও থাকবে। এছাড়াও বছরে ১০০ দিনই কাজ যেন পায় তাও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে ওই বৈঠকে। প্রতিবন্ধী জবকার্ড হোল্ডার বা পরিবারে কেউ প্রতিবন্ধী থাকলে সেই পরিবারকে বৃক্ষপাট্টা দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার বা গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কমপক্ষে ৩০০টি আইবিএস প্রকল্প হাতে নিতে হবে পঞ্চায়েতকে। জেলায় মোট ২১৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। এর ফলে জেলার ৬৪,৫০০টি পরিবার উপকৃত হবে। এই বিপুল সংখ্যক পরিবারের সদস্যরা বছরে ১০০ দিন সুনিশ্চিত কাজ পাবেন। বৃক্ষপাট্টা, মাছ চাষের পুকুর কেটে দেওয়া, নার্সারি-সহ ওই ধরনের প্রকল্পের আওতায় তাদের সুবিধা দিতে হবে। চলতি আর্থিক বছরে গড় কর্মদিবস (পার্সন ডেজ)-এর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৮৫। সেই লক্ষ্যপূরণে ৬০ শতাংশ যেন আইবিএস-প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপ্ত পরিবারগুলিতে আনা হয় তারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ব্যাপারে কোনও পঞ্চায়েতের কোনওরকম বাহানা শুনবে না জেলা প্রশাসন। কঠোরভাবে এই নিয়ম মেনে কাজ করতে বলা হয়েছে। সভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, “বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরিবারগুলিকে ১০০ দিনের প্রকল্পে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে। সরকারের এটাই সিদ্ধান্ত। সকলকেই তা মেনে কাজ করতে হবে।”
[ভাল-মন্দ ছোঁয়ার তফাতের পাঠ প্রাথমিকেই, হুগলিতে অভিনব উদ্যোগ]
সর্বশেষ খবর
-
কম সুদে চটজলদি লোন পাইয়ে দেওয়ার ছক! বড়সড় প্রতারণাচক্রের পর্দাফাঁস লালবাজারের
-
‘একতরফা পদক্ষেপ নয়’, সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্কে আমেরিকাকে আলোচনায় বসার বার্তা ভারতের
-
অবিশ্বাস্য লড়াইয়েও শেষরক্ষা হল না মুচোভার, ‘চেক-মেটে’ উইম্বলডনের নতুন রানি নোসকোভা
-
বীরগাথা থেকে দেশভাগের যন্ত্রণা, বাংলায় পার্টিশন মিউজিয়াম বানানোর প্রস্তাব গোপাল পাঁঠার পরিবারের
-
প্রথমে দু’হাজার, তারপর দৈনিক ৩ লক্ষ টাকা! রামমন্দিরে চুরির তদন্তে স্বীকারোক্তি অভিযুক্তের