Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬

প্রেমের টানে কানাডার তরুণী কালনায়, টিনের ঘরে বিদেশি বউ দেখতে ভিড়

কীভাবে হল ইন্দো-কানাডিয়ান প্রেম?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৮, ২১:০৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৮, ২১:০৪

options
link
প্রেমের টানে কানাডার তরুণী কালনায়, টিনের ঘরে বিদেশি বউ দেখতে ভিড় zoom
ছবিতে কানাডিয়ান বউয়ের সঙ্গে টিঙ্কু রায়, ছবি: মোহন সাহা।

রিন্টু ব্রহ্ম, কালনা: যোগা শেখাতে গিয়ে প্রেম। তারপরই কালনার যুবকের বউ হতে সাত সমুদ্র ১৩ নদীর পেরিয়ে চলে এলেন কনে। ষষ্ঠীর দিন দুগ্গা দুগ্গা করে মালবদলও হয়ে গেল। এখন সুখেই ঘরকন্না করছেন কানাডিয়ান বউ। অত্যাধুনিক সংস্কৃতি ছেড়ে গ্রাম বাংলার আদব কায়দায় মানিয়ে নিতে অসুবিধা হলেও চেষ্টা করে চলেছেন। সেই বিদেশিনী বউ দেখতে কালনার আশ্রমপাড়ার বাসিন্দা টিঙ্কু রায়ের বাড়িতে ভিড় উপচে পড়েছে। সকাল বিকেল শুধু লোকজনের লাইন রায়বাড়ির সামনে।

স্থানীয় সূত্রের খবর, টিঙ্কুবাবুকে ভালবেসে বিয়ে করেছেন কানাডিয়ান তরুণী ক্যাথরিন অলেটি। পাশ্চাত্যের যাবতীয় সুখের উপকরণ ছেড়ে একেবারে সাদামাটা জীবনযাপন করছেন টিঙ্কুর টিনের বাড়িতে। পরনে লাল শাড়ি, হাতে শাখা-পলা, সিঁথিতে সিঁদুর নিয়ে বউটি করে চলছে রান্নাবান্নাও। বাড়ির কাঠের উনুনে বিদেশিনীকে রান্না করতে দেখে উৎসুক বাসিন্দারা ভিড় জমাচ্ছেন অহরহ। তবে কোনও কিছুতেই নতুন বউ ক্যাথরিনের ক্লান্তি নেই। একগাল হেসে সবাইকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন।

Advertisement

[দোকানে মদের আসর, প্রতিবাদ করে দেওরের হাতে আক্রান্ত পুলিশকর্মীর স্ত্রী]

রায়বাড়ির ছেলে টিঙ্কু যোগা শেখান। দেশের বিভিন্ন জায়গাতেই তাঁর যোগার ক্লাস চলে। প্রশিক্ষণও প্রচারের জন্য বেনারসেও যান টিঙ্কু। গতবছরও গিয়েছিলেন। কাশিতে এক যোগার ক্লাসে আসেন কানাডিয়ান তরুণী ক্যাথরিন অলেটি। তিনি তখন ভারত ভ্রমণে এসেছিলেন। টিঙ্কুবাবুর যোগার ক্লাস তাঁর ভাল লেগে যায়। এরপর কাশিতে থাকাকালীন প্রতিদিন সেই ক্লাসে আসতেন। এই সূত্র ধরেই তাঁদের দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। একটা সময় ওই যুবক কালনার বাড়িতে ফিরে আসেন। ক্যাথরিন চলে যান কানাডায়। কিন্তু যোগাযোগ থেকেই যায়। সেই সূত্রেই বন্ধুত্ব বদলে যায় প্রেমে। বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। তবে তার আগে ক্যাথরিনের অনুরোধে কানাডা যান টিঙ্কু রায়। তরুণীর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখাও করেন। বিয়ের কথা পাকা হয়ে যায়। এরপর গত ষষ্ঠীর দিন টিঙ্কুবাবুর বাড়িতেই চলে আসেন ওই তরুণী। শুভলগ্নে চার হাত এক হয়ে যায়।

নতুন বউ ইতিমধ্যেই বাংলা শিখতে শুরু করেছেন। পেশায় স্কুল শিক্ষিকা ক্যাথরিন গ্রাম বাংলার প্রেমে পড়েছেন। গ্রামের মানুষের সরলতা তাঁকে আকৃষ্ট করেছে। কিন্তু ভাষা না জানায় কথা বলতে পারছেন না। সেই অভাব দূর করতেই শুরু হয়েছে নয়া প্রশিক্ষণ। তাঁর কথায়, বিয়ে করে ভালই আছেন নবদম্পতি। এদিকে গ্রামে বিদেশিনী বউ পেয়ে খুশি প্রতিবেশী অরণ মল্লিক। তিনি জানান, মেয়েটি খুব ভাল। এখানে নতুন বউমার পরিবারের কেউ না থাকায় বিয়ের অনুষ্ঠানে তিনিই কন্যা সম্প্রদান করেছেন। এই ধরনের ঘটনা গ্রাম বাংলায় তো খুব একটা দেখা যায় না। তবে প্রেমের টান বড় গভীর। তাই তারা সুখেই থাকবে, তাঁর আশা।

এদিকে কানাডিয়ান তরুণীকে বিয়ে করে খুশি টিঙ্কুবাবুও। তিনি বলেন, “কীভাবে আমাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে জানিনা। তবে এই বিয়েতে পরিবারের পাশাপাশি গ্রামের বাসিন্দারাও খুব খুশি।”

[বউদিকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার, দেওরের মৃত্যু]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.