দেবব্রত মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাগাড় কাণ্ডে এবার পুলিশের জালে মাস্টারমাইন্ড। মূল অভিযুক্ত বিশ্বনাথ গড়াইকে বুধবার রাতে সোনারপুর থেকে গ্রেপ্তার করে বিশেষ তদন্তকারী দল। তাকে জেরা করে ভাগাড় কাণ্ডের বহু রহস্যের জট খুলতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, একটি হিমঘরের মালিক ছিল বিশ্বনাথ ওরফে বিশু। সেখানেই ভাগাড়ের পচা মাংস প্রসেস করা হত বলে তদন্তে জানা গিয়েছে। বজবজ থেকে ধৃত ভাগাড় কাণ্ডের অন্যতম চক্রী সানি মল্লিককে জেরা করেই বিশুর হদিশ মেলে। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কলকাতা-সহ শহরতলির একাধিক হিমঘর ও রেস্তরাঁ মালিকের সঙ্গে যোগসাজশ ছিল বিশুর। পচা মাংস প্রসেস করে সেইসব রেস্তরাঁয় পাঠানোর কাজ বিশুই করত।
[কুকুরের মাংসের ভয়ে কাঁটা শহরবাসী, হাল ফেরাতে পদক্ষেপ রেস্তরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের]
দিনকয়েক আগেই এই ভাগাড় কাণ্ডের পর্দাফাঁস হয়। প্রথমে জানা গিয়েছিল বজবজের একটি ভাগাড় থেকে মরা পশুর মাংস পাচার হত শহরের হোটেলগুলিতে। সস্তার খাবারে যে মাংস দেওয়া হত তা আসত ভাগাড় থেকেই। মরা পশুর মাংস পাচারের সঙ্গে যুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই চক্রের অন্যতম পাণ্ডা সানির হদিশ মেলে। বিহারের নওদা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সানিকে। তবে শুধু বজবজ নয়, ভাগাড় কাণ্ড ছড়িয়েছে আরও বিস্তীর্ণ এলাকায়। ট্যাংরা, কাঁকিনাড়া, জগদ্দল-সহ একাধিক জায়গায় হানা দেয় পুলিশ। খোঁজ মেলে হিন্দুস্তান কোল্ড স্টোরের। হিমঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে জমা রাখা হত টন টন মাংস। প্রথমে মরা মশুর মাংসকে বিভিন্ন রাসায়নিকের সাহায্যে প্রক্রিয়াকরণ করা হত। পরে তা প্যাকেটজাত করে রাখা হত হিমঘরেই। দেখে মনে হত একেবারে আসল টাটকা মাংসের মতোই। এই মাংসই চালান হত সস্তার হোটেলে। তবে শুধু তাই নয়, তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, চক্র ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরেও। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ ও নেপালেও পাচার হত পচা মাংস। প্যাকেটজাত মাংসই ছড়িয়ে দেওয়া হত ওই দুটি দেশে। টাটকা মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হত এই ভাগাড়ের পচা মাংস। পুরো ব্যবসায় মধ্যস্থতা করত বেশ কয়েকজন। সানিকে জেরা করেই এই তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সেই আন্তর্জাতিক লিংকম্যানদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
[আরও ৫৫০ শরীরে ভাগাড়ের জীবাণুর হদিশ, আতঙ্কে প্রসূতিরা]
পুলিশের অনুমান ছিল, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা ছাড়াও এই চক্রে আরও বড় মাথারা যুক্ত। তাদেরই খোঁজে হন্যে পুলিশ। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায় পুলিশ। খোঁজ মেলে ৫ লিংকম্যানেরও। তারপর বুধবার রাতে গ্রেপ্তার হয় বিশু। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিশুকে জেরা করে অভিযুক্ত হিমঘর ও রেস্তরাঁ মালিকদেরও হদিশ বের করতে চায় সিট বা বিশেষ তদন্তকারী দল।
[ভাগাড় হয়েছে হাজার শরীর, বিরল জুনসিসে আক্রান্ত যাদবপুর-টালিগঞ্জের ১৪]
ফাইল চিত্র
সর্বশেষ খবর
-
বদলার ম্যাচে নিষ্ফলা মরক্কো, এমবাপে-দেম্বেলে জোড়া ফলায় সেমিফাইনালে ফ্রান্স
-
বিশ্বজয়ের পাঁচ মাসেই পথ হারাল টিম ইন্ডিয়া! আয়ারল্যান্ডের পর ইংল্যান্ডের কাছেও সিরিজ হার শ্রেয়সদের
-
মহারাষ্ট্রে ফের বিরোধী শিবিরে ভাঙন! পওয়ারের ‘অস্থিরচিত্ত’ বিধায়কদের ‘সন্দেহ’ কংগ্রেসের
-
১৬ বছর পর কলকাতা পেল মহিলা ওসি, একসঙ্গে রদবদল ৩৩ ইন্সপেক্টরের
-
খেয়াল রাখতে হবে অভিযোগকারিণীর মানসিক দিকটিও, লালবাজারে বিশেষ প্রশিক্ষণ ১৮৩ মহিলা পুলিশকে