Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ১০ জুলাই ২০২৬

ভাগাড়ের জীবাণু বাড়াচ্ছে আত্মহত্যার প্রবণতাও

রাজ্যের কয়েক হাজার মানুষ এই পরজীবীর ছোবলে আক্রান্ত।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২১, ২০১৮, ২১:১০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২১, ২০১৮, ২১:১০

options
link
ভাগাড়ের জীবাণু বাড়াচ্ছে আত্মহত্যার প্রবণতাও zoom

গৌতম ব্রহ্ম: এ এক আজব জীবাণু। শরীরে ঢুকে আত্মহত্যার মন্ত্রণা দেয় রোগীকে। ডেনমার্কের বহু মহিলা এই পরজীবীর ছোবলে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ৪৫,৭৮৮ মহিলার মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, ৮০ শতাংশের মনেই আত্মহত্যার প্রবল ইচ্ছা জাগিয়ে তুলেছিল এই জীবাণু। ৪৮৮ জন নিজেকে বিপজ্জনকভাবে আঘাত করেছেন। ৭৮ জন সরাসরি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। ১৮ জন সফলও হয়েছেন।

[পঞ্চায়েত ভোটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ রাজ্যের]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ভাগাড় কাণ্ডের দৌলতে সেই জীবাণুই বাসা বেঁধেছে বাংলার কয়েক হাজার মানুষের শরীরে। জীবাণুর নাম ‘টক্সোপ্লাজমা গন্ডাই’ (টি গন্ডাই)। ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর খবরের জেরে ইতিমধ্যেই খবরের শিরোনামে এই পরজীবী। কিন্তু তার এই আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া চরিত্র নিয়ে তেমন গবেষণা হয়নি এদেশে। ফলে, খুব কম ধারণা রয়েছে বাংলার সাইকিয়াট্রিস্টদের। তাঁদের মত, কিছু পরজীবী মস্তিষ্কে ঢুকে ‘নিউরোট্রান্সমিটারকে প্রভাবিত করে মানুষের আবেগ ও ব্যবহার বদলে দেয়। টি গন্ডাই সেই দলেই রয়েছে। ফলে, টক্সোপ্লাজমোসিসে আক্রান্ত রোগীদের ব্যবহারগত পরিবর্তন হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। পাভলভ হাসপাতালের সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. শর্মিলা সরকার ও আর জি কর হাসপাতালের সাইকিয়াট্রিস্ট রাজর্ষি নিয়োগীর মত, টক্সোপ্লাজমোসিস এ দেশে খুব বিরল। তাছাড়া এই রোগীরা সাইকিয়াট্রিস্টদের কাছে আসেনও না। ফলে টি গন্ডাইয়ের এই দিকটা নিয়ে গবেষণার সুযোগই হয়নি। ডেনমার্কের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরাও জীবাণুর উপস্থিতি ও রোগীর আত্মহত্যার মধ্যে সম্পর্কের সমীকরণ সেভাবে বের করতে পারেননি। তবে আত্মহত্যার প্রবণতা যে বেশি তা নিয়ে নিশ্চিন্ত হয়েছেন তাঁরা।

[কবিপক্ষেই দেবীপক্ষ! পুজোপ্রেমীদের জন্য শহরে আসছে ‘দশভুজা’]

পিজি হাসপাতালের ‘ইনস্টিটিউট অফ সাইকিয়াট্রি’-র অধিকর্তা ডা. প্রদীপ সাহা  জানিয়েছেন, কৃমি, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী মস্তিষ্কে পৌঁছলেই আচরণগত পরিবর্তন হয়। শূকরের শরীরে থাকা কৃমি ‘নিউরো সিস্টিসারকোসিস’-এর জন্ম দেয়। রোগীর মধ্যে মৃগীর লক্ষণ দেখা যায়।  জলাতঙ্ক আক্রান্ত কুকুরের মাংস খেলে রোগীর জলাতঙ্ক হতে পারে। জলাতঙ্কেও আচরণগত পরিবর্তন হয় রোগীর। অতএব টক্সোপ্লাজমোসিসে আক্রান্ত রোগীদের উপর কড়া নজরদারি চালাতে হবে। দেখতে হবে তাঁদের মধ্যে ব্যবহারগত কোনও পরিবর্তন হয়েছে কি না। নিজেকে আঘাত করার প্রবণতা যদি দেখা দেয় তবে দ্রুত রোগীর ‘সাইকোলজিক্যাল অ্যাসে’ করাতে হবে। পরামর্শ নিতে হবে সাইকিয়াট্রিস্টের।

সম্প্রতি টক্সোপ্লাজমোসিসে আক্রান্ত প্রায় ছ’শো রোগীর হদিশ দিয়েছে কলকাতার দুই নামী ডায়াগনস্টিক সেন্টার। রোগীদের মধ্যে সিংহভাগ প্রসূতি। উল্লেখ্য, টি গন্ডাই মহিলাদের মনেই প্রভাব বেশি ফেলে বলে গবেষণায় প্রকাশ।

[মেডিক্যালে ভরতির প্রতারণাচক্র ফাঁস, ধৃত ১]

গড়িয়া, যাদবপুর ও টালিগঞ্জের ১৪ জন রোগীর টক্সোপ্লাজমোসিসে আক্রান্ত হওয়ার খবর প্রথম ফাঁস করে ‘সংবাদ প্রতিদিন’। বহু মানুষের এই বিরল জুনোসিসে সংক্রামিত হওয়ার আশঙ্কাও জানিয়ে রাখে। সেই আশঙ্কা সত্যি করে উত্তর কলকাতার একটি নামী ডায়াগনস্টিক সেন্টার জানিয়ে দেয়, শুধু এপ্রিল মাসেই চারশোর বেশি টক্সোপ্লাজমোসিসের ‘পজিটিভ’ নমুনা পেয়েছে তারা। মধ্য কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের একটি নামী ডায়াগনস্টিক সেন্টারও ‘আইজিজি’ পরীক্ষা করে ১৫৬টি পজিটিভ নমুনা পেয়েছে। এর মধ্যে প্রসূতি, স্নায়ুরোগ ও চোখের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীও রয়েছে। অনেকের মধ্যেই রয়েছে মানসিক অস্থিরতা, অসুস্থতাও। ডাক্তারদের আশঙ্কা, ‘টক্সোপ্লাজমা গন্ডাই’-র জন্যই এই উপসর্গ।

[ভাগাড় কাণ্ডে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার ৮০ কেজি পচা মাংস, হাওড়ায় বিক্ষোভ বিজেপির]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.