দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর মিলেছিল আবাসের প্রথম কিস্তির টাকা। কাজও শুরু হয়েছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে মেলেনি দ্বিতীয় কিস্তি। এদিকে চলে এসেছে বর্ষা। ফলে মাটির জীর্ণ-নড়বড়ে ঘরেই থাকছিল গোটা পরিবার। যার পরিণতি হল ভয়ংকর। কয়েকদিনের বৃষ্টির জেরে মঙ্গলবার সকালে বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে (Bishnupur) হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল মাটির বাড়ির একাংশ। দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যু হল খুদের।
বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ব্লকের বাকাদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের আমডহরা গ্রামের বাসিন্দা ওই পরিবার। দীর্ঘদিন মৃত খুদের বাবা নিম্বর খান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি জীর্ণ, নড়বড়ে মাটির বাড়িতেই থাকেন। বহু আবেদন-নিবেদনের পর আবাস যোজনায় নাম ওঠে। প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেলেও দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ এখনও হাতে আসেনি। ফলে নতুন বাড়ির নির্মাণ মাঝপথেই থেমে রয়েছে। বাধ্য হয়ে বিপজ্জনক জেনেও বৃষ্টিতে কাঁচা ঘরেই থাকছিল গোটা পরিবার। মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা এক প্রতিবেশীর সঙ্গে বাড়ির সামনে বসে চা খাচ্ছিলেন। আচমকাই বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে বাড়ির একটি দেওয়াল। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন মাহেদা খান, রুমা খান, প্রতিবেশী রিয়া চৌধুরী এবং ছোট্ট তামিম। আর্তনাদ শুনে ছুটে আসেন গ্রামবাসীরা। দীর্ঘ চেষ্টার পর চারজনকে উদ্ধার করে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকেরা ২ বছরের তামিমকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আহত তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুন:
এপ্রসঙ্গে বাকাদহ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান রামপ্রসাদ সাহা জানান, সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ দুর্ঘটনার খবর পান। গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি স্বীকার করেন, পরিবারটি আবাস যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা পেলেও দ্বিতীয় কিস্তি এখনও পায়নি। পাশাপাশি নিকাশি নালার কাজও ওই এলাকায় সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানান তিনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিষ্ণুপুরের বিডিও এবং বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সর্বশেষ খবর
-
চাপের মুখে ভারতের সাহায্য নিতে রাজি নেপাল, আটকে পড়া ভারতীয়দের হাল-হকিকত জানাল দিল্লি
-
‘মমতার অধঃপতন হয়েছে’, দল ছেড়ে প্রথম কর্মসূচিতেই তৃণমূলনেত্রীকে নিশানা কাকলির
-
‘ককরোচ’-সহ পড়ুয়াদের আন্দোলনই ‘টার্নিং পয়েন্ট’, সিপিএমের প্লেনামে নতুন পথের হদিশ
-
চালকের অশ্লীল স্পর্শ! চলন্ত অটো থেকে লাফিয়ে সম্ভ্রম বাঁচালেন তরুণী
-
‘কেন এরকম করল?’ বিশ্বকাপ জিতিয়েও বাদ, বোর্ডের সিদ্ধান্তে অবসরের কথাও ভাবেন হতাশ সূর্য