দেবব্রত মণ্ডল, বারুইপুর: ভোটের আগে ফের চেনা ছন্দে ভাঙড়। ফের বোমাবাজি-লাঠিচার্জ আর রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। অভিযোগ, শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শামাল দিতে গিয়ে আহত হয়েছেন তিন পুলিশ কর্মী। অন্যদিকে, বিবাদমান দুই গোষ্ঠীরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
[আরও পড়ুন: মমতার মঞ্চ পাশে নিয়েই রবিবার কোচবিহারে সভা করবেন মোদি]
স্থানীয় সূত্রের খবর, শনিবার বিদ্যুতের খুঁটি পোঁতাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে শাসক শিবিরের দুই গোষ্ঠী। একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে স্থানীয় তৃণমূল নেতা ইসমাইল মোল্লা। অপর গোষ্ঠীর নেতৃত্বে জুলফিকার মোল্লা। ইসমাইল ভাঙড় ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের চেয়ারম্যান। অন্যদিকে, জুলফিকার মোল্লা ব্লক তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি। দুজনেরই বাড়ি ব্যাঁওতা ২ নং অঞ্চলের হাতিশালা এলাকায়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার ভাঙড়ের হাতিশালায় এই দুই গোষ্ঠীর বিবাদ তীব্র রূপ নেয়। ঘটনায় মুহুর্মুহু বোমার শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় যায় লেদার কমপ্লেক্স থানার পুলিশ। পুলিশের আগমনের খবরে দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় নেই তৃণমূলকর্মীরা। অভিযোগ পুলিশ সেখানে ঢুকেই লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশের লাঠির আঘাতে ১০ জন তৃণমূল কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তবে এই অভিযোগ সম্পর্কে পুলিশের তরফে কিছু জানানো হয়নি।
[আরও পড়ুন: যশোর রোড অবরুদ্ধ করে শান্তনুর মিছিল, কমিশনে অভিযোগ তৃণমূলের]
অপরদিকে, ক্ষুদ্ধ তৃণমূল কর্মীদের পালটা ইটের আঘাতে অ্যাডিশনাল আইসি-সহ ৩ জন পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। অ্যাডিশনাল আইসির মাথা ফেটে গিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। আহত তৃণমূল কর্মী ও পুলিশ কর্মীদের স্থানীয় জিরানগাছা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেই চিকিৎসা চলছে তাদের। ভোটের আগে এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঘটনা মোটেই স্বস্তির খবর নয় শাসকদলের জন্য।ভাঙড় যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। যাদবপুর কেন্দ্রে লড়াইয়ে তৃণমূলের তরফে রয়েছেন অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী। বামেদের প্রার্থী বিকাশ ভট্টাচার্য। অন্যদিকে, বিজেপির তরফে লড়াইয়ে আছেন বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরা।