একসময় মাওবাদী দমনের নিরাপত্তা অভিযানের অন্যতম ঘাঁটি ছিল ওই শিবির। এখন আর মাও অস্তিত্ব দেখা যায় না সেখানে। লালমাটির সেই এলাকায় এখন উন্নয়নের ছোয়া। কয়েক দশক আগেও যেখানে বন্দুকের গুলির আওয়াজ শোনা যেত অহরত, সেখানেই এখন শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। এলাকার ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য অতীতের সেই সিআরপিএফ ক্যাম্প শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে এবার থেকে পরিচিত হল। একদা জঙ্গলমহলের মাও ‘মুক্তাঞ্চলে’ সিআরপিএফ ক্যাম্পেই এবার পাঠদান কচিকাঁচাদের।
শুধু তাই নয়, ওই বাড়িতেই শুরু হল সাধারণ মানুষের পরিষেবা দেওয়ার কাজ। ঝাড়গ্রামের (Jhargram) পুরনো তারাফেনি সিআরপিএফ ক্যাম্পে উদ্বোধন হল ‘তারাফেনি সেবা কেন্দ্র’। পাশাপাশি ওই কেন্দ্র থেকেই চালু হল ‘দিশা কোচিং সেন্টার’। দিশা কোচিং সেন্টারের উদ্বোধন করেন ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার মানব সিংলা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সল রাজা, বেলপাহাড়ির এসডিপিও, বেলপাহাড়ি থানার আইসি-সহ পুলিশ আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ জন পড়ুয়া উপস্থিত ছিল।
আরও পড়ুন:

পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক পরিবারের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় সহায়তা লক্ষ্য। মাওভাবনা যাতে কোনওভাবে গ্রাস না করতে পারে, নতুন প্রজন্মকে, সেজন্য আধুনিক পুঁথিগত শিক্ষা বিস্তার প্রয়োজন। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যতে আরও ভালো সুযোগ তৈরি করাই এই শিক্ষাকেন্দ্রের অন্যতম লক্ষ্য। পুলিশ সূত্রে এই কথাও জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিত্যক্ত বা বর্তমানে ব্যবহার হয় না এমন নিরাপত্তা শিবিরগুলিকে ধীরে ধীরে ‘সেবা কেন্দ্র’-এ পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছত্তীসগড়ে এই ধরনের উদ্যোগের আদলে ঝাড়গ্রামের তারাফেনিতেও শুরু হল একই কর্মসূচি।
তবে শুধু পড়াশোনা নয়, আগামী দিনে এই সেবা কেন্দ্র থেকে সাধারণ মানুষের জন্য একাধিক পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশ-প্রশাসনের। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, আইসিডিএস পরিষেবা, ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, আধার পরিষেবা-সহ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়াই হবে এই কেন্দ্রের অন্যতম লক্ষ্য। একসময় যে শিবিরের পরিচয় ছিল নিরাপত্তা ও সশস্ত্র অভিযানের সঙ্গে, সেই জায়গাতেই এবার শুরু হল শিক্ষা, পরিষেবা ও জনকল্যাণের নতুন অধ্যায়। পুলিশের এই উদ্যোগের ফলে নিরাপত্তাকেন্দ্রিক ভূমিকার পাশাপাশি জনমুখী ও পরিষেবাভিত্তিক পুলিশের ভাবমূর্তিও আরও জোরদার হবে। এমনই মনে করছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পুরনির্বাচনের আগেই রাজ্য কমিটি ঘোষণা বিজেপির, গুরুদায়িত্বে শুভেন্দু, পদে শিশিরও
-
ইন্ডিয়া’য় যোগ নয়? নতুন জোট গঠন করলেন বিজয়, নামেও রয়েছে চমক
-
‘আইফেল টাওয়ার থেকে মহিলাদের সরাতে হবে’, শর্ত ঘিরে বিতর্ক, ক্ষমা চাইল হিন্দু সংস্থা
-
আইসিএনইউ ২০২৬: আন্তর্জাতিক পুষ্টি সম্মেলন, চিকিৎসায় পুষ্টির নতুন দিশা
-
প্রতীক কার? উপনির্বাচনের আগেই তৃণমূলের ভাগ্য নির্ধারণ, দু’পক্ষকেই তলবের পথে কমিশন