Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
Bankura

বাঁকুড়ায় সিজেপি সমর্থকের বাড়িতে হামলায় মৃত্যু বাবার, ‘আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি’, বললেন মুখ্যমন্ত্রী

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে শামিল ছিলেন বাঁকুড়ার আবদুল হানিফ।

অসিত রজক
অসিত রজক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০২৬, ১৬:৩৫

link
অসিত রজক
অসিত রজক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০২৬, ১৬:৩৫

options
link
বাঁকুড়ায় সিজেপি সমর্থকের বাড়িতে হামলায় মৃত্যু বাবার, ‘আইনি ব্যবস্থা নিয়েছি’, বললেন মুখ্যমন্ত্রী zoom
Advertisement

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন বাঁকুড়ার যুবক আবদুল হাফিজ। সেখানে পুলিশের দমনপীড়নের শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে। রাজীব চকে আটকে লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস সহ্য করতে হয়েছিল। গ্রামে ফিরে ‘ককরোচ’দের পরবর্তী আন্দোলনের পাশে ছিলেন। সেই কারণে গ্রামের স্কুলের বেহাল দশার ভিডিও তুলে পাঠিয়েছিলেন। কারণ, সিজেপি এই মুহূর্তে দেশের স্কুলগুলির উন্নয়নে নিজেদের আন্দোলন গড়ে তুলছে। তার সমর্থনে কাজ করার পর মর্মান্তিক ঘটনা। হাফিজের বাড়িতে হামলায় মৃত্যু হয় বাবার। বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এককথায় তা খারিজ করে দেন। রবিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘‘যে ৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে, তাদের ৩ জন ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার। বাকিদেরও করা হবে। এখানে বিজেপির কোনও ব্যাপার নেই। এরা সবাই দুষ্কৃতী। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে।”

এ প্রসঙ্গে রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান, ‘‘ঘটনাটা আমরা জানি। ওদের পরিবার যে ৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে, তারা সবাই দুষ্কৃতী। এরা বিজেপির, সেটা কে বলল? তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের হবে। সবাই দুষ্কৃতী। রাজ্যে আইনের শাসন চলছে তো, সব ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনা ঠিক কী ঘটেছিল? জানা যাচ্ছে, ইন্দাসের করিশুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা শেখ আবদুল হাফিজ গত ১৯ জুলাই দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য গিয়েছিলেন। অভিযোগ, ২০ জুলাই রাজীব চকে তাঁকে আটকে দেওয়া হয়, এমনকী পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের মুখেও পড়তে হয় তাঁকে। গত ২৭ জুলাই হাফিজ বাড়ি ফেরেন। বাড়ি ফিরতেই বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁকে লাগাতার হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। তা গুরুত্ব দেননি হাফিজ। বৃহস্পতিবার করিশুন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অব্যবস্থা নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলার পর হাফিজ প্রশাসনের কাছে বিষয়টি নিয়ে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন। স্কুলের বেহাল দশার ভিডিও তুলে রেখেছিলেন।

Advertisement
শেখ আবদুল হানিফ, সিজেপি সমর্থক, নিজস্ব ছবি

অভিযোগ, সেদিন রাতেই বিজেপির লোকজন তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। হাফিজকে মারধর করা হয়। এমনকী ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, ছবিও ডিলিট করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা শেখ মহম্মদ মাফিককেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ১৪ আগস্ট কার্যত তাঁর বাড়ি ঘিরে রাখাও হয়। বাড়িতে কার্যত গৃহবন্দি ছিলেন তাঁরা। এরপর রাতে বছর একান্নর মাফিকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে পুলিশি সহযোগিতায় ইন্দাস হাসপাতাল ও পরদিন সকালে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। সন্ধ্যা নাগাদ তিনি মারা যান। এই খবর গ্রামে পৌঁছতেই রবিবার সকাল থেকে সেখানে তুমুল উত্তেজনা শুরু হয়। বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন প্রতিবেশীরাও। তাঁদের অভিযোগ, এই মৃত্যুর নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে।

সিজেপির তরফে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায়। ময়নাতদন্তের সময় হাফিজের সঙ্গে ছিলেন দেদীপ্য। তিনি বলেন, ‘‘হাফিজ আমাদের সদস্য। স্কুলের অব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তাই হামলা করা হয়েছে। তাতে হাফিজের বাবা মারা গিয়েছেন। হাফিজও জখম হয়েছেন। যাঁরা এই কাজে যুক্ত তাঁদের ঘুম উড়িয়ে দেব। বিজেপিরও ঘুম উড়িয়ে দেব। শিক্ষার অব্যবস্থা নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলবই।”

এই খবর পেয়ে সিজেপি সদস্য আবদুল হাফিজের পাশে দাঁড়াল সিজেপি নেতৃত্ব। রবিবার দুপুরে বর্ধমান মেডিক্যালে এসে হাফিজের সঙ্গে দেখা করেন দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায়। ময়নাতদন্তের সময় হাফিজের সঙ্গে ছিলেন দেদীপ্য। তিনি বলেন, ‘‘হাফিজ আমাদের সদস্য। স্কুলের অব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তাই হামলা করা হয়েছে। তাতে হাফিজের বাবা মারা গিয়েছেন। হাফিজও জখম হয়েছেন। যাঁরা এই কাজে যুক্ত তাঁদের ঘুম উড়িয়ে দেব। বিজেপিরও ঘুম উড়িয়ে দেব। শিক্ষার অব্যবস্থা নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলবই।”

সিজেপি সদস্য দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায়। নিজস্ব ছবি

এ প্রসঙ্গে রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান, ‘‘ঘটনাটা আমরা জানি। ওদের পরিবার যে ৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছে, তারা সবাই দুষ্কৃতী। এরা বিজেপির, সেটা কে বলল? তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের হবে। সবাই দুষ্কৃতী। রাজ্যে আইনের শাসন চলছে তো, সব ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই ঘটনায় বিজেপি যোগের অভিযোগ ওঠায় রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘বিজেপির কার্যকর্তারা জড়িত মানে কী? যদি কোনও কার্যকর্তা এরকম কিছু করে থাকলে, পুলিশ তো তাদের বিজেপি বলে বাদ দেবে না। নিশ্চয়ই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.