১২ মাঘ  ১৪২৮  বুধবার ২৬ জানুয়ারি ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

তৃণমূলে যোগ দিলেন অধীরের বড় ভরসা রবিউল

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: September 2, 2016 9:20 am|    Updated: August 9, 2019 1:01 pm

Congress MLA Rabiul joins Trinamool

সংবাদ প্রতিদিন ব্যুরো: বৃহস্পতিবার কলকাতার তৃণমূল ভবনে যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলীয় পতাকা হাতে তুলে নিলেন অধীর চৌধুরির লোকসভা আসন বহরমপুরের অন্তর্গত রেজিনগরের বিধায়ক রবিউল আলম চৌধুরি৷ মুর্শিদাবাদ সংখ্যালঘু প্রধান জেলা হয়েও, জেলা পরিষদ দখলে রেখেও উন্নয়ন করতে পারেনি কংগ্রেস৷ সেই ক্ষোভের কথা তুলেই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন রবিউল৷এই আসন থেকেই জিতে একসময় তৃণমূলে এসেছিলেন হুমায়ুন কবির৷ পরে উপনির্বাচনে তৃণমূল সেই আসন হারায়৷ এই দল বদলের পর হারানো আসন আবার ফিরে পেল তৃণমূল৷

এদিনের যোগদানের পর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদর্শের কথা তুলে রবিউল বারবার ধন্যবাদ জানালেন ‘যুবরাজ’ অভিষেককে৷ বললেন, মুর্শিদাবাদ আর মালদহে তৃণমূলের সংগঠন সাজানোর দায়িত্ব নিয়েছেন যুবরাজ৷ সেই কাজ অভিষেক সুচারুভাবে করছেন৷ দলকে মজবুত করে তুলছেন, তাতে মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হচ্ছে৷ অধীর চৌধুরি তখন ক্ষোভ উগরাচ্ছেন এই বলে যে, “রবিউলকে দু’বার বিধায়ক করেছি৷ প্রলোভনের সামনে নিজেকে বিকিয়ে দিলেন রবিউল৷ ওঁকে বলছি, একবার তৃণমূলের টিকিটে জিতে দেখান৷ তার পর বুঝব৷” একবার রেজিনগর হারিয়ে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করে বিস্তর খেটে এই আসনে বড় ভরসা করে রবিউলকে জিতিয়ে আনেন অধীর৷ এই যোগদানের পর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তির্যক মন্তব্য, “অধীরবাবু ভাঙনের মুখে বাঁধের ক্ষত সারাতে ব্যর্থ৷ আর জল বিপদসীমার উপর উঠে গিয়েছে৷” অভিষেকের মন্তব্য, “বছর যত শেষের দিকে যাবে, জেলায় চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে কংগ্রেস৷ এতদিন নিজেদের পকেট ভরতে জেলাকে পিছিয়ে দিয়েছেন তাঁরা৷ এবার তার জবাব দেবে মানুষ৷ মালদহে জেলা পরিষদ দখলে এসেছে৷ মুর্শিদাবাদও সেই লক্ষ্যে এগোচ্ছে৷ সেখানে পুরসভাগুলিও দখলে আসছে৷ এই জেলায় ইতিমধ্যে উন্নয়ন হয়েছে৷ স্বেচ্ছায় বিধায়করাও যোগ দিচ্ছেন৷ উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে৷” এই যোগদানে মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়াল ৫-এ৷ রবিউলকে জিতিয়ে আনার পিছনে অধীরের অবদানের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, “যখন যে দল করি, তখন তার নেতৃত্বের কথাই শুনি৷ সেই অনুযায়ীই সংগঠন করি৷ যখন কংগ্রেস করতাম, তখন অধীরবাবুর কথা শুনে কাজ করেছি৷” অধীর চৌধুরিদের কটাক্ষ করে অভিষেক আরও বলেছেন, “এই যোগদানে সিপিএম-কংগ্রেসের অশুভ আতাঁতের পতন হল৷ জোটের উদ্যোক্তারা যার ফলে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন৷” এই প্রসঙ্গেই ডোমকলে তৃণমূলকর্মী খুনের প্রসঙ্গ আসে৷ ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানিয়ে অভিষেক বলেন, “হতাশাগ্রস্ত হয়ে কংগ্রেস আর সিপিএম সন্ত্রাসের আশ্রয় নিচ্ছে৷ তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি৷ প্রতিবাদ জানাচ্ছি৷ দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায় ইতিমধ্যে সেখানে গিয়েছেন৷”

তৃণমূল সূত্রের খবর রবিউলের পথ ধরে কম করে আরও চার কংগ্রেস বিধায়ক দল ছাড়তে পারেন৷ জানা গিয়েছে, রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামান-সহ আরও চার বিধায়কের কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া বিষয়ে প্রাথমিক কথা হয়েছে৷ যদিও আখরুজ্জামান অবশ্য বলেছেন, বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করব, তবু কংগ্রেস ছাড়ব না৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে