সংগ্রাম সিংহরায়, শিলিগুড়ি: ‘জয় শ্রী রাম’! বিজেপি (BJP) নেতা–কর্মীদের সবারই মুখে এখন এই একটাই স্লোগান। এমনকী কোনও অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেও তাঁদের মুখে এই এক স্লোগানই চলতে থাকে। এবার তা থেকে নিস্তার পেতেই অভিনব উপায় বের করল শিলিগুড়ি (Siliguri) পুলিশ। বিজেপির নেতা–কর্মীদের ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান থামাতে পাল্টা করোনা সচেতনার রেকর্ড করা স্লোগান মাইকে বাজালেন থানায় উপস্থিত আধিকারিকরা। আর তাতেই কাজ হল।
[আরও পড়ুন: মেঝেতে রামচন্দ্রের ছবির কাছে জুতো রেখে পুজোপাঠ, বিতর্কে পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ]
গত বুধবার অযোধ্যায় (Ayodhya) ঐতিহাসিক রাম মন্দিরের (Ram Mandir) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। আর করোনা (Corona) আবহে রাম মন্দিরের এই অনুষ্ঠানে যেতে পারেননি অনেকেই। কিন্তু তাতে কি হয়েছে? রাম মন্দিরের ভূমিপুজো উপলক্ষে রাজ্য সরকারের লকডাউনের বিধিনিষেধকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত শহর জুড়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে বিজেপি কর্মী–সমর্থকরা। কখনও বাইকে, কখনও হেঁটে মিছিল করে, স্লোগান দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তাঁরা। আর তাঁদের সামলাতেই গলদঘর্ম হতে হয়েছে শিলিগুড়ি পুলিশকে। যদিও সারা শহর ছুটে বেরিয়ে তাদের ধরে এনেও শান্তি পাননি আধিকারিকরা। থানা চত্বরেই কর্মী–সমর্থকরা শুরু করে দেন ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান। ফলে কার্যত অস্বস্তিতে পড়ে অভিনব উপায় বের করলেন শিলিগুড়ি থানার পুলিশ আধিকারিকরা। কোনও অনুরোধ-উপরোধে কাজ হচ্ছে না দেখে, তারা করোনা সচেতনতায় রেকর্ড করা স্লোগান পাল্টা চালিয়ে দিলেন। আর এতেই কাজ হল। এর ফলে কার্যত কানে তালা লেগে যাওয়ার জোগাড় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। শেষমেষ স্লোগান দেবেন কি কানে হাত দিয়ে ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা তাদের। শেষমেষ পাল্টা স্লোগান থেকে বাঁচতে ক্ষান্ত দিলেন গেরুয়া বাহিনী। হাফ ছেড়ে বাঁচলেন পুলিশ আধিকারিকরাও। তার মধ্যেই অবশ্য নিজেদের কর্তব্যে অবিচল ছিলেন তাঁরা।
[আরও পড়ুন: পেটিএমে ১ টাকা পাঠাতেই উধাও দেড় লক্ষেরও বেশি! প্রতারণার শিকার বরাহনগরের বাসিন্দা]
এদিকে, লকডাউনে ভাঙার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। যদিও বিজেপির সহ–সভাপতি তথা পেশায় আইনজীবী অখিল বিশ্বাস জানিয়েছেন, প্রত্যেকেরই জামিন মঞ্জুর হয়ে গিয়েছে। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে শিলিগুড়ি পুলিশের বড় কর্তা থেকে মেজ–সেজ কিংবা থানার আধিকারিকরা কেউই মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, থানার মধ্যে থেকে এমন ধর্মীয় শ্লোগান চলতে থাকলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি তাদের উপরও চাপ আসতে পারত। তাই এমন পদ্ধতি বের করেছেন তারা। যা এখন রীতিমতো হিট।
সর্বশেষ খবর
-
শৈশবের ট্রমা সহজে কাটে না! প্রভাব পড়তে পারে প্রেমের সম্পর্কেও, বোঝা যায় এই লক্ষ্মণেই
-
সপ্তাহে ২ দিন হাওড়ার মঙ্গলাহাটে হকারদের বসার অনুমতি, শর্ত বেঁধে দিল প্রশাসন
-
এবার রাডারে অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার এফসি, ‘টাকা আসত কোথা থেকে?’, প্রশ্ন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথের
-
উন্নত রাডারেও অদৃশ্য! চিন-পাকিস্তানের চিন্তা বাড়িয়ে ভারতকে সু-৫৭-এর প্রস্তাব পুতিনের
-
কল্যাণীতেই হবে বিমানবন্দর, জোরালো বার্তা শান্তনুর, ওয়াটার মেট্রো নিয়ে কী বার্তা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর?