Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Ramnagar

পথের কাঁটা সরাতে শিশুকে বেধড়ক মার, ফেলা হয় চাষের জমিতে, গ্রেপ্তার ‘গুণধর’ মা-সৎ বাবা

প্রায় আট ঘন্টা কনকনে শীতের রাতে ওই বালক চাষের খেতেই সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০২৫, ১২:৪৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৯, ২০২৫, ১২:৪৮

options
link
পথের কাঁটা সরাতে শিশুকে বেধড়ক মার, ফেলা হয় চাষের জমিতে, গ্রেপ্তার ‘গুণধর’ মা-সৎ বাবা zoom
রামনগর থানার পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে। নিজস্ব চিত্র

রঞ্জন মহাপাত্র, কাঁথি: প্রথম পক্ষের স্বামী মারা যাওয়ার পরে স্ত্রী দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলেন। সেই সংসারে পথের কাঁটা বছর ছয়েকের বালক। মা ও সৎ বাবা ওই নাবালককে খুনের চেষ্টা করেন। গভীর রাতে শিশুকে ঘুম থেকে তুলে মুখ বেঁধে এলোপাথারি মারেন মা মামণি গিরি ও সৎ বাবা শুকদেব মণ্ডল। পরে শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে ভেবে স্বামী-স্ত্রী একটি ফাঁকা বাদাম চাষের খেতে রাতের অন্ধকারে ফেলে দিয়ে আসেন। বরাতজোরে সেই শিশু বেঁচে গিয়েছে। সোমবার রাতে ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর থানা এলাকার উত্তর হলদিয়া গ্রামের খয়রান্ডা এলাকায়। পুলিশ ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মামণি গিরির প্রথম পক্ষের স্বামী মারা গিয়েছেন। এরপর শুকদেবকে তিনি বিয়ে করেন। ছেলেকে নিয়ে শুকদেবের সঙ্গেই থাকতে শুরু করেছিলেন ওই মহিলা। কিন্তু এই শিশুকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকত। তার থেকেই ছেলেকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই মতো সোমবার গভীর রাতে ওই শিশুকে ব্যাপক মারধর করা হয়। মারা গিয়েছে ভেবে তাঁকে পাশের একটি খেতের মধ্যে ফেলে রেখে আসেন দুজনে। অনুমান করেছিলেন, রাতে শেয়াল ওই বালককে টেনে ছিঁড়ে খেয়ে মৃতদেহ লোপাট করে দেবে। তাঁদের দিকে আর কোনও সন্দেহ পড়বে না।

Advertisement

প্রায় আট ঘন্টা কনকনে শীতের রাতে ওই বালক খোলা খেতেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে থাকে বলে খবর। মঙ্গলবার সকালের দিকে তার জ্ঞান ফিরলে পাশের একটি বাড়িতে ওই শিশুটি অতি কষ্টে কোনওরকমে গিয়ে পৌঁছয়। তার অবস্থা দেখে বাসিন্দারা শিউরে ওঠেন। খানিক জল খাওয়ার পরেই শিশুটি ফের জ্ঞান হারায়। স্থানীয় বাসিন্দারাই রামনগর থানায় খবর দেন। পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। জানা গিয়েছে, শিশুটির দুই হাত মারের চোটে ভেঙে গিয়েছে। শরীরের একাধিক জায়গাতেও আঘাত ও রক্তের দাগ। মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে জ্ঞান ফিরলে ওই শিশু রাতের ঘটনা কোনওরকমে বলে।

ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। গুণধর ওই মা ও সৎ বাবাকে পাকড়াও করা হয়। পুলিশ গতকাল রাতে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই শিশুটি বালিসাই বড়রাঙকুয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনায় শিশুটি ট্রমায় রয়েছেন বলে খবর। থানার ওসি অমিত দেব জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দুজনকেই গ্রেপ্তারের পর শুরু হয়েছে জেরা।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.