Advertisement
Advertisement

Breaking News

জাঠার মধ্যে দিয়ে ‘ক্ষমতার’ জল মাপতে পথে নামছে সিপিএম

আমন্ত্রণের ‘চিঠি’ কৃষকদেরও৷

CPM is back with Jatha
Published by: Sangbad Pratidin Digital
  • Posted:November 6, 2016 9:31 am
  • Updated:November 6, 2016 9:31 am

রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: দলের কৃষক সংগঠনের জাঠা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাস্তায় নেমে জল মাপতে চাইছে আলিমুদ্দিন৷

একের পর এক নির্বাচনে ভরাডুবির পর মনোবল তলানিতে ঠেকেছে কর্মী-সমর্থকদের৷ পার্টির জনসমর্থনও ক্রমশ কমছে৷ এই পরিস্থিতিতে দলের কর্মীদের চাঙ্গা করতে ও জনমনে প্রভাব ফেলতে জাঠা কর্মসূচিকেই এ রাজ্যে হাতিয়ার করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় সিপিএম৷ একইসঙ্গে এই কর্মসূচিতে জেলায় জেলায় কর্মী-সমর্থকদের জমায়েতের ছবিটাও দেখে নিতে চান সূর্যকান্ত মিশ্র থেকে বিমান বসুরা৷

Advertisement

সিপিএমের কৃষক সংগঠন প্রাদেশিক কৃষক সভার উদ্যোগে এই জাঠা কর্মসূচি শুধু পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রিক নয়৷ সারা দেশেই হবে৷ কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, জম্মু-কাশ্মীর ও তামিলনাড়ু থেকে চারটি কেন্দ্রীয় জাঠা যাবে দিল্লিতে৷ এই কর্মসূচিতে সিপিএমের মূল নিশানায় নরেন্দ্র মোদি সরকারের আর্থিক ও জনবিরোধী নীতি৷ যদিও এ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ইস্যু রয়েছে৷ সিপিএমের সর্বভারতীয় এই জাঠা শেষের পর আগামী ২৪ নভেম্বর দিল্লিতে রামলীলা ময়দানে হবে জমায়েত৷

Advertisement

একসময় গ্রামবাংলায় বামেদের জনভিত্তি আজ ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে৷ গ্রামে গ্রামে সিপিএমের ভিত ছিল পার্টির কৃষক সংগঠন কৃষক সভাই৷ রাজ্যে বাম দুর্গ চুরমার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রামবাংলার কৃষিজীবী মানুষের আস্থা হারিয়েছে সিপিএমের কৃষক সংগঠন৷ কৃষক সভার সদস্য সংখ্যাও বহুগুণ কমে গিয়েছে৷ এই পরিস্থিতিতে কৃষক সভার ব্যানারে জাঠা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে চান সিপিএমের রাজ্য নেতৃত্ব৷ এ রাজ্যে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ–এই দু’ভাগে জাঠা হবে৷ ৮ নভেম্বর ধর্মতলায় সমাবেশের মধ্যে দিয়ে সূচনা হবে জাঠার৷ সেই জাঠা কলকাতা থেকে হাওড়া, হুগলি হয়ে বর্ধমান যাবে৷ বর্ধমানে হবে সমাবেশ৷ সেখান থেকে বাঁকুড়া ছুঁয়ে পুরুলিয়া৷ পুরুলিয়ায় আর একটি সমাবেশের পর জাঠা চলে যাবে পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ডে৷ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও জাঠা হবে৷ সেখান থেকে সোজা দিল্লি চলে যাবে জাঠা৷ এছাড়া, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর ও নদিয়াতে আলাদা করে এই কর্মসূচি হবে৷ এই কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জোর প্রচার শুরু হয়েছে৷ পথসভার পাশাপাশি সাধারণ কৃষকদের বাড়িতে লিফলেট দিয়ে আমন্ত্রণ করা হচ্ছে জাঠায় যোগদানের জন্য৷ কৃষক সভার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিপ্লব মজুমদারের বক্তব্য, জাঠাকে সফল করে তুলতে সমস্ত ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে৷ জেলায় জেলায় জোরদার প্রচারও চলছে৷

২০১৮ সালে এ রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন৷ তার আগে চলতি মাসেই তমলুক, মন্তেশ্বর ও কোচবিহারে উপনির্বাচন রয়েছে৷ রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের এখনও এক বছরের বেশি দেরি৷ হাতে যথেষ্ট সময় থাকলেও পঞ্চায়েত নির্বাচনেও দলের রক্তক্ষরণ যে বন্ধ করা সম্ভব হবে না তা জানেন আলিমুদ্দিনের ম্যানেজাররা৷ তাই এখন থেকেই জাঠা-সহ লাগাতার কর্মসূচি নিয়ে গ্রামবাংলায় জনতার মন পেতে চাইছে তারা৷

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ