সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শেষ পর্যন্ত দল থেকে বহিষ্কার করা হল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বুধবার রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শৃঙ্খলাভঙ্গ, দলবিরোধী মন্তব্যের জেরেই এদিন সর্বসম্মতভাবে দলের এই ‘তরুণ তুর্কি’কে ছেঁটে ফেলা হল। এক নয়, ঋতব্রতর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগই দলীয় কর্মীদের তরফে জমা পড়ছিল নেতাদের কাছে। মহিলাঘটিত কেচ্ছা, হিসাব বহির্ভূত আয়, সর্বহারাদের নেতা সাজার অছিলায় বিলাসবহুল জীবনযাপন, সাংসদ পদের অপব্যবহার করে তোলা আদায়ের মতো বহু অভিযোগই তাঁর বিরুদ্ধে জমা পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত এদিন আলিমুদ্দিনের বৈঠকে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিল সিপিএম। আলিমুদ্দিনের বৈঠকে আলোচনা চলছে, কীভাবে এই সিদ্ধান্ত ঋতবতর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তাঁকে যে ছেঁটে ফেলা হবে সেটা আগাম আন্দাজ করতে পেরেছিলেন ঋতব্রত। শেষ মুহূর্তে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, গৌতম দেব, সুজন চক্রবর্তীর মতো নেতাদের ধরে আপ্রাণ বাঁচার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। সম্মান বাঁচাতে বামেরা তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করলেন। ঋতবতর জন্য দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছিল। সিপিএমের রাজ্যসভার এই সাংসদের বিরুদ্ধে দলের তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভ জমা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর একের পর এক মন্তব্য ঘিরে নতুন নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। সেই বিতর্ক থেকে রেহাই পাননি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও। ঋতব্রত সম্পর্কে টুইট, অতীতে অনেক বিষয়েই ভুল স্বীকার করেই ক্ষমা চেয়েছেন বুদ্ধদেব। এবার তিনি কি ঋতব্রতকে সাংসদ করার জন্য ফের ক্ষমা চাইবেন?
প্রায় ‘সাইনবোর্ড’ হয়ে যাওয়া একটা পার্টির অসংখ্য সমস্যা ও সঙ্কটপূর্ণ পরিস্থিতি কার্যত ধামাচাপা পড়ে গিয়েছে ঋতব্রতকে নিয়ে শুরু হওয়া চলতি বিতর্কে। সংবাদমাধ্যমে মহম্মদ সেলিম ও কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন দলের ‘তরুণ তুর্কি’। তবে সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী বিষয়টিকে তেমনভাবে গুরুত্ব না দেওয়ার পক্ষপাতী। তবে সিপিএমের একটি মহল মনে করছে, তাঁকে বহিষ্কার করা হলেও তিনি সাংসদ পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
বিচারের আগেই তাঁর ফাঁসি হয়ে গিয়েছে। শাস্তি দিয়েছে ‘ক্যাঙারু কোর্ট’। যে কোর্টের বিচারক মহম্মদ সেলিম। সিপিএমের বিতর্কিত সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এমনভাবেই পার্টি গঠিত তিন সদস্যের কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করেন। এক টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক ঋতব্রত বেনজিরভাবে বলেন, মহম্মদ সেলিম সংখ্যালঘু কোটায় পলিটব্যুরোয় জায়গা পেয়েছেন এবং তিনি সাংসদ হওয়াতেই সেলিম-সহ দলের মুষ্টিমেয় স্বার্থান্বেষী নেতা প্রথম থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে অকারণে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন। তাই তাঁর এই পরিণতি। সিপিএম সূত্রে খবর, এমন বিতর্কিত মন্তব্য করার পর বহিষ্কার করা হল ঋতব্রতকে।
সিপিএম সাংসদের অভিযোগ, দলের রাজ্য কমিটি থেকে তিনি বাদ গিয়েছেন মহম্মদ সেলিমের জন্যই। নিজেকে সিপিএমের এক কর্মী হিসাবে পরিচয় দিয়ে বলেছেন, “আমার সাংসদ হওয়াই কাল হয়েছে। যেদিন সীতারাম ইয়েচুরি ফোন করে আমাকে রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার কথা জানান, সেদিন থেকেই এঁরা আমার বিরুদ্ধে লেগে পড়েছেন। কারণ একটাই। আমি সংসদে বাংলার স্বার্থ নিয়ে সরব। যদি বোবা-কালা হতাম, তাহলে সমস্যা হত না।” যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই সেলিম অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কিন্তু ঋতব্রতকে থামানো যায়নি। তাঁর সংযোজন, “ঠিক এইজন্যই অঙ্ক কষে সীতারামকে আর রাজ্যসভায় পাঠানো হল না।” বহিষ্কারের চিঠি হাতে পেলেই বিজেপি বা তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন ঋতব্রত, বলছে রাজনৈতিক মহল।
সর্বশেষ খবর
-
টিকিটাকায় ধরাশায়ী অস্ট্রিয়া, দুর্বার গতিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেন
-
মিড ডে মিলের মাংস দিয়ে স্যারের বিবাহ বার্ষিকীর ভোজ! শান্তিপুরের স্কুলে তুমুল শোরগোল
-
অফিসের ২৫ জনকে পুলিশি হেনস্তা! ভয় দেখিয়ে মিথ্যা বয়ান রেকর্ড, দাবি অভিষেকের
-
হোয়াটসঅ্যাপের পরে টেলিগ্রাম, সিগন্যাল! ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে নোটিস কেন্দ্রের
-
ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতান্তর! বৈঠকে প্রশ্ন একাধিক সাংসদের