রাজকুমার কর্মকার, আলিপুরদুয়ার: বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের পর এবার জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান। বন্যজন্তু মেরে মহাভোজের আয়োজন আরও একবার ভেস্তে দিলেন বনকর্মীরা। ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
[বিহারে কাজে গিয়ে রহস্যমৃত্যু এরাজ্যের তিন যুবকের]
কয়েক দিন আগে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে বাইসন মেরে পিকনিকের আয়োজন হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে বক্সার বনকর্মীদের উদ্যোগে তা বানচাল হয়ে গিয়েছিল। এবার জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে হরিণ মেরে বনভোজনের আয়োজন হয়েছিল। ভেস্তে দিলেন জলদাপাড়ার বনকর্মীরা। এই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে বন দপ্তর। এই ঘটনায় অরুণ ছেত্রী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার আলিপুরদুয়ার আদালতে তোলা হলে ধৃতকে ৩ দিনের জন্য বন দপ্তরের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কবে এবং জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের কোন এলাকা থেকে কীভাবে হরিণ মারা হয়েছিল তা এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বন দপ্তর।
[ছেলে না হওয়ায় স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টা স্বামীর, চাঞ্চল্য রানাঘাটে]
বৃহস্পতিবার রাতে জলদাপাড়া জঙ্গলের কাছে রামঝোরা চা বাগানে বিচ লাইন এলাকায় পিকনিকের আয়োজন হয়। সেই পিকনিকের প্রধান আকর্ষণ ছিল হরিণের মাংস। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে অরুণ ছেত্রীকে জালে তোলে বন বিভাগ। অন্যান্য দুষ্কৃতীরা দ্রুত গা ঢাকা দেয়। ধৃত অরুণ রামঝোরা চা বাগানের বিচ লাইনের বাসিন্দা। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করেছে বন দপ্তর। উদ্ধার হওয়া হরিণের মাংস-সহ ধৃতকে এদিন আলিপুরদুয়ার আদালতে তোলে বন দপ্তর। বিচারক ধৃতকে বন দপ্তরের হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কোচবিহার বন দপ্তরের ডিএফও কুমার বিমল জানান, “প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি ধৃত ব্যক্তি হরিণ মারেনি। যারা হরিণটিকে মেরেছে তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। আমরা এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি।” তবে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে জলদাপাড়া জঙ্গল থেকেই হরিণটিকে মারা হয়েছিল।
[দৌলতাবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে উদ্যোগ, জেলায় জেলায় ‘আপৎ মিত্র’]
রামঝোরা চা বাগানের সব থেকে কাছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান। ফলে এই জাতীয় উদ্যান থেকে হরিণ মেরে রামঝোরা চা-বাগানের পিকনিকের আয়োজন করা অনেক সহজ বলে মনে করছে বন দপ্তর। গত মাসে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে একটি গর্ভবতী বাইসনকে মেরে বনের ভিতরেই পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন দুষ্কৃতীরা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেই পিকনিকের আয়োজন ভেস্তে দেন বনকর্মীরা। পরে বাইসন খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত দেশি বন্দুক ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করে বন দপ্তর। এক্ষেত্রে অবশ্য রহস্যভেদ করতে পারেনি জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ। তবে তদন্তে সব বেরিয়ে পড়বে বলে আশা করছেন জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের আধিকারিকরা।
ছবি: শীলা দাস
সর্বশেষ খবর
-
রণবীর নাকি মহেশবাবু? ‘বারাণসী’ ছবির অভিনেতার লুক ফাঁস হতেই নেটভুবনে ট্রেন্ডিং শ্রীরাম!
-
আমিরের মতো বারবার নতুন মানুষে আসক্তি! নেপথ্যে অভিজ্ঞতার তৃষ্ণা? জানাচ্ছেন মনোবিদরা
-
দোরগোড়ায় শ্রাবণ মাস, আকন্দ গাছ ঘরে রাখলে রুষ্ট হতে পারেন মহাদেব! কী বলছে বাস্তু?
-
‘হ্যারিও কি ট্রাম্পকে ফোন করবে?’, মার্কিন তারকার লাল কার্ড প্রত্যাহারে কটাক্ষ ইংল্যান্ড কোচের
-
দলে লম্পট-রাজ! হুমায়ুনকে বিঁধে এবার পদ ছাড়লেন জেলা সভাপতি