ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: মে মাসের শেষে হোক। পিছোলে বড়জোর জুনের প্রথম সপ্তাহ। রায়ে ভোট পিছিয়ে বর্ষায় গেলে মাথায় হাত পড়বে রাজ্য প্রশাসনের। ভোটের জন্য যে সমস্ত স্কুলবাড়ি নেওয়া হয়ে থাকে, বর্ষায় গ্রামে সেইসব স্কুলকেই আশ্রয়ের জন্য ছেড়ে দিতে হবে। তখন কী উপায়?
রাজ্যজুড়ে পঞ্চায়েতের বুথ রয়েছে ৫৮ হাজার ৪৬৭টি। বেশিরভাগই গ্রামীণ। স্কুলেই সাধারণত ভোটের সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়। ইতিমধ্যে ভোটপর্ব পরিচালনার জন্য বিভিন্ন স্কুল থেকে শিক্ষকদের, সরকারি কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া চলছিল। গ্রামের স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতিও প্রায় সারা। সরকারি আধিকারিকরাও বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে লিয়াজঁ করে পঞ্চায়েতের বিপুল প্রক্রিয়া নিয়ে প্রস্তুতি সেরে ফেলেছিলেন। চলছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর্ব।
[সন্ত্রাসে ত্রস্ত বাসিন্দারা, তির-ধনুক নিয়ে গ্রাম পাহারায় শাসকদলের ৫০০০ কর্মী]
এই অবস্থায় পঞ্চায়েত নিয়ে মামলা। এবং তাতেই আটকে সমস্ত প্রক্রিয়া। প্রশাসনের আশঙ্কা, আদালতের রায়ে পঞ্চায়েত ভোট পিছিয়ে বর্ষার মরশুমে চলে গেলে তখন তো বিপদ। অতিবৃষ্টিতে স্কুলগুলিকেই গ্রামের মানুষের ‘শেলটার’ হিসাবে ব্যবহার করা হবে। তাছাড়া বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে তখন তো পুরোটাই হাতের বাইরে চলে যাবে।
সাধারণত জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুতে কলকাতায় বর্ষার মরশুম শুরু হয়। খুব বেশি হলে তৃতীয় সপ্তাহ এমনকী, চতুর্থ সপ্তাহেও অনেক সময় বর্ষা এসেছে। গ্রাম ও শহরের মধ্যে কোথাও কোথাও সময়ের ভিত্তিতে তার কিছু তারতম্য হয়। বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে তখন প্রশাসনই রাজ্যের সর্বত্র আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে। মামলা আদালতে চলার জন্য প্রকাশ্যে এখনই কোনও দপ্তরের আধিকারিক কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে শিক্ষাদপ্তর মনে করছে, তেমন হলে সত্যিই সমস্যার। তবে মানুষের সমস্যা হলে তা নিয়ন্ত্রণের বন্দোবস্তও করতে হবে।
শুধু সরকারি কর্মী-আধিকারিকরাই নন, রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের একটা বড় অংশকে ভোটে ব্যবহার করা হবে। তাঁদের গ্রামে পাঠিয়ে দ্রুত নিয়োগ করা হয় বুথ ধরে ধরে। বর্ষায় ভোট পিছোলে পুলিশ প্রশাসনের একটি বড় অংশকে সেখানে নিয়োগ করতে হতে পারে। একইসঙ্গে সেচদপ্তরও কাজ করবে। সব মিলিয়ে বর্ষায় ভোট হলে শিরে সংক্রান্তি হবে।
আদালতের রায় যাই হোক, ভোট পিছিয়ে যেতে পারে ধরেই দলের তরফ থেকে ‘বাহিনী’ও তৈরি রাখছে তৃণমূল। ভোট বর্ষায় হলে গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির মোকাবিলা করতে হবে। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও আদালতের উপরই ভরসা রাখছে। এক শীর্ষনেতার কথায়, “প্রশাসনের আশঙ্কা অমূলক নয়। কারণ ভোটের সময় যদি বর্ষায় পিছিয়ে যায়, বর্ষায় গ্রামের মানুষ সমস্যায় পড়লে তাদের অসুবিধাও আমাদের দেখতে হবে। যদিও আইন-আদালতের উপর আমাদের ভরসা আছে। আদালত নিশ্চয়ই পরিস্থিতি বিচার করে রায় দেবে।”
পঞ্চায়েত দপ্তর মনে করছে আদালত যদি পিছিয়ে ভোট জুনে পাঠায়, সেক্ষেত্রে মানুষের কথা ভেবে আবহাওয়ার অফিসের সঙ্গে আলোচনা করে তবেই যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেওয়া হবে। যদিও দপ্তর মনে করছে, বর্ষার মরশুম মানেই তো আর তা প্রবল বর্ষার মধ্যে হবে না। তেমন পরিস্থিতি হলে নবান্ন যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েই ভোট করাবে। তবে গ্রামের মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে স্কুল ব্যবহারের বিষয়টিও এড়িয়ে যায়নি দপ্তর।
ভোট পিছিয়ে বর্ষায় গেলে মানুষের সমস্যা হবে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন স্বয়ং পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তিনি বলছেন, “বর্ষায় ভোট করতে হলে অসুবিধা তো হবেই। মানুষ খুব সমস্যায় পড়বে।” তবে এর উপায় কী? তা নিয়ে যদিও মুখ খুলতে চাননি মন্ত্রী। বলেছেন, “মামলা এখন আদালতে। এখনই কোনও মন্তব্য করা যাবে না। আদালত আগে রায় দিক। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
[শাসকদলের মন পেতে বিরোধীদের ধরে ধরে গ্রেপ্তার, মহম্মদবাজার কাণ্ডে নিশানায় পুলিশ]
সর্বশেষ খবর
-
এ কেমন নাচাকোদা! অংশুলার বিয়েতে অর্জুন কাপুর-রণবীরের ‘ব্রোম্যান্স’ দেখে হেসে খুন সক্কলে
-
মিশরকে ডাকাতি করে হারানো হয়েছে! এবারে মেসিদের জয়ে নিউ ইয়র্কের মেয়র মামদানিরও
-
ফের ভূমিধসে অবরুদ্ধ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক, তীব্র যানজটে আটকে বহু পর্যটক
-
২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাঙ্কে জমা হবে দান, তারাপীঠ মন্দিরেও এবার ডিজিটাল লেনদেন
-
সরকারি চাকরির লোভ, ভাড়াটে খুনি লাগিয়ে মা’কে খুন মেয়ের! তারপর…