BREAKING NEWS

১৭ অগ্রহায়ণ  ১৪২৮  শনিবার ৪ ডিসেম্বর ২০২১ 

READ IN APP

Advertisement

বেতন, পেনশন নিয়ে টেনশনে আমজনতা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: November 28, 2016 9:12 am|    Updated: November 28, 2016 9:13 am

Demonetisation effect: The duration of first 10 days can become a major challenge for the government and the banks.

স্টাফ রিপোর্টার: বেতন, পেনশন নিয়ে চড়ছে টেনশন৷ শিলিগুড়ি থেকে সুন্দরবন, পুরুলিয়া থেকে মেদিনীপুর, সর্বত্র এক আলোচনা৷ মনের পাকদণ্ডী বেয়ে মোচড় দিচ্ছে দুশ্চিন্তা – বেতন বা পেনশনের পুরো টাকাটা তোলা যাবে তো?

শহরের অলি-গলি, চায়ের ঠেকেও উঠেছে তর্কের তুফান৷ যাঁরা এতদিন গলা ছেড়ে নোট-বাতিলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন তাঁদের মনেও সংশয়, মাস পয়লার টাকা তুলতে ভুগতে হবে না তো? বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে তো? না কি ২৪ হাজারেই থামতে হবে?

(ব্যর্থ বামেদের বনধ, সচল রাজ্যে আজ মিছিলে মমতা)

এটিএমে ভিড় কিছুটা কমলেও ব্যাঙ্ক-ডাকঘরে এখনও লম্বা লাইন পড়ছে৷ বয়স্ক মানুষরা ব্যাঙ্কে গিয়ে নাকাল হচ্ছেন৷ ডাকঘরের লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন কেউ কেউ৷ গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো চেপে বসেছে বামেদের ডাকা বারো ঘণ্টার বন্ধ৷ যেমন, ঢাকুরিয়ার চন্দন সাহা রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন৷ কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রাক্তন চাকুরে জানালেন, “প্রতি মাসে ধীরে-সুস্থে, হেলতে-দুলতে ২৮ তারিখে পেনশন তুলতে যাই৷ বারবার ব্যাঙ্কে যাওয়া সমস্যা৷ তাই প্রায় পুরো টাকাটাই তুলে নিই৷ এবার কী হবে বুঝতে পারছি না৷ টেনশনে রয়েছি৷”

পাইকপাড়ার লক্ষ্মী দাসের অবশ্য অন্য টেনশন৷ জানালেন, “বনধ মানেই তো পেশির আস্ফালন৷ একদল বনধ সফল করতে লড়বে৷ অন্যদল চেষ্টা করবে জনজীবন স্বাভাবিক রাখার৷ কোনও গন্ডগোল হবে না তো?” জনতার একটি বড় অংশ, যাঁরা নগদ লেনদেন ছাড়া অন্য কোনও পদ্ধতির লেনদেনে ধাতস্থ নন, তাঁরাও বেজায় চিন্তায় পড়েছেন৷ এতদিন নগদ জমা করা নিয়ে টেনশন ছিল৷ এবার নগদ তোলা নিয়ে৷ ব্যাঙ্কের কর্মচারীরাও টেনশনে রয়েছেন৷ তাঁদের আশঙ্কা, ২৮ তারিখ সোমবার হওয়ায় সমস্যা বেড়েছে৷ শনি-রবি ব্যাঙ্ক বন্ধ ছিল৷ ফলে এমনতিই চাপ বেশি হওয়ার কথা৷ তার উপর পেনশন-বেতনের ডেট৷ পুরো বেতন বা পেনশন তুলতে পারলে গন্ডগোল যে হতেই পারে তা মেনে নিয়েছেন ব্যাঙ্ক ম্যানেজাররা৷ স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে সেইভাবে সতর্কও করা হয়েছে৷

রাজ্য সরকার অবশ্য জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেনি৷ কর্মচারীদের হাজিরা বাধ্যতামূলক করতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে৷ কেউ কামাই করলেই ধরিয়ে দেওয়া হবে ‘শো-কজ’-এর চিঠি৷ ম্যাটারনিটি লিভ-সহ বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য ছাড় রয়েছে৷ বামেরা অবশ্য ব্যাঙ্ক-ডাকঘর-এটিএমকে বন্ধ-এর আওতার বাইরেই রেখেছেন৷ তবু টেনশন যাচ্ছে না৷ ভবানীপুরের বাসিন্দা প্রদীপ দত্ত জানালেন, “যেভাবে নিত্যনতুন ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার নিয়ম বদলাচ্ছে তাতে পেনশন নিয়ে টেনশন তৈরি হতে বাধ্য৷ তবে নিশ্চয়ই কেন্দ্রীয় সরকার ‘সিনিয়র সিটিজেন’-দের কথা ভেবে রেখেছে৷” সূত্রের খবর, মাস পয়লায় চাকরিজীবীদের বেতনে নোট বদলের কোনও প্রভাব যাতে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে আরবিআই৷ বেতনের সময় সম্ভাব্য নগদ-সঙ্কট মোকাবিলায় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার দিল্লিতে টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন আরবিআইয়ের ডেপুটি গভর্নর এস এস মুন্দ্রা৷ কিন্তু টাকা তোলা নিয়ে সংশয় কাটেনি৷ যেমন পরিষ্কার হয়নি, ২৪ হাজার টাকার বেশি পেনশন অথবা বেতনভোগীরা তুলতে পারবেন কী না৷

সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে সাধারণত মাসের ২৭ তারিখ থেকে পরের মাসের ৭ তারিখ পর্যন্ত কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়৷ এছাড়া এটি পেনশন তোলারও সময়৷ বেশিরভাগ পেনশনভোগীই একসঙ্গে পুরো টাকা অ্যাকাউণ্ট থেকে তুলে নিতে চান৷ অনেক অবসরপ্রাপ্ত ডাকঘরে মাসিক প্রকল্পে জমা টাকার সুদ তোলেন এই সময়েই৷ সে কারণেই, শীর্ষ ব্যাঙ্কের আশঙ্কা, এই সময়ে দুই সপ্তাহ টাকা তুলতে ব্যাঙ্কের শাখা ও এটিএম কিংবা ডাকঘরে গ্রাহকদের প্রবল ভিড় হবে৷ বিপুল নগদের চাহিদাও থাকবে৷

কোনও মাসের ১৫ তারিখে নগদ টাকার যে চাহিদা থাকে, ২৭ বা ২৮ তারিখে সেই চাহিদা ৬০-৭০ শতাংশ বেড়ে যায়৷ ২৯ থেকে পরের মাসের ৭ তারিখ সেই চাহিদাই দ্বিগুণ হয়ে যায়৷ এটাই আরবিআইয়ের হিসাব৷ বাড়তি নোটের জোগান দিয়ে এই চাহিদা কি পূরণ করতে পারবে আরবিআই? এটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে