BREAKING NEWS

১৩ মাঘ  ১৪২৮  বৃহস্পতিবার ২৭ জানুয়ারি ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

দেবীপক্ষে রক্ত দিয়ে সংকট মোচনের আর্তি অসুরদের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: October 3, 2016 10:28 am|    Updated: October 3, 2016 10:28 am

Descendants oF Mahishasura Are Busy For Another Festival

ব্রতীন দাস: দেবীপক্ষে মুখ ব্যাজার৷ ঢাকের বোল যেন অসহ্য!
তলে তলে চলছে অন্য উৎসবের আয়োজন৷ দেবী দুর্গার আবাহন-ক্ষণেই রক্ত দিয়ে সঙ্কট মোচনের আর্তি অসুরদের৷
ডুয়ার্সের নাগরাকাটার ক্যারন থেকে আলিপুরদুয়ারের জিতু চা বাগান৷ সর্বত্রই জোর প্রস্তুতি ওঁদের৷
দিন বদলের হাওয়া লেগেছে গায়ে৷ তবে মুছে যায়নি বিশ্বাস৷ মহিষাসুরের বংশধর ওঁরা৷ এই ধারণায় আজও অটল৷ আর তাই ভরা আশ্বিনে চারপাশ যখন মেতে উঠেছে দশভুজার আবাহনে, ওঁরা ব্যস্ত নিজেদের বংশরক্ষায়!
নিকানো উঠোনে শুরু হয়েছে ‘নাওয়াখানি’ উৎসবের প্রস্তুতি৷ কোনও অসুরের বাড়িতে আবার নাওয়াখানির সঙ্গে চলছে ‘হরিয়ালি’ পুজোরও আয়োজন৷ যাত্রা-পুজোর তোড়জোড়৷ বিজয়া দশমীতে মা-দুর্গার বিসর্জন হতেই শুরু হবে উৎসবের তিথি৷ এখন তারই অপেক্ষায় প্রহর গোনা৷
সোনালি রঙের মুরগির রক্ত দিয়েই সাজানো হবে সঙ্কট মোচনের নৈবেদ্য৷ কিন্তু চাইলেই তো আর সোনালি রঙের মুরগি মিলবে না! তাই এক বনবস্তি থেকে অন্য বনবস্তিতে চলছে খোঁজ৷ শুরু হয়েছে বনজঙ্গল ভেদ করে ‘যাত্রাশী’ পাতা জোগাড়ের কাজও৷ কারণ, সেটিও যে অসুর-পুজোর অন্যতম উপকরণ৷
অস্ট্রিক-দ্রাবিড় গোষ্ঠীর বংশধর অসুরদের একসময় বাস ছিল ডুয়ার্সের কয়েকটি চা বলয়েই৷ ধীরে ধীরে কৃষি অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে থাকেন তাঁরা৷ তবে সংখ্যাটা ক্রমেই কমছে৷ বর্তমানে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলা মিলিয়ে হাজার তিনেক অসুর রয়েছেন৷ বেশিরভাগই চা বাগানে কাজ করেন৷ অনেকে আবার ভুটান পাহাড় পেরিয়ে যান পাথর ভাঙতে৷
প্রথা মেনে পুজো হলেও এখানে নেই কোনও পুরোহিত৷ বাড়ির বয়স্ক পুরুষ পুজো করে থাকেন৷ বাড়িতে তেমন কেউ না থাকলে নাওয়াখানি পুজোর অধিকার অসুর পরিবারের বড় ছেলের, এমনটাই জানিয়েছেন লোক সংস্কৃতি গবেষক প্রমোদ নাথ৷ বলেছেন, নৈবেদ্যয় দেওয়া হয় হাঁড়িয়া৷ আতপ চাল৷ বলির মুরগির মাংস শুধু বাড়ির লোকেদেরই প্রাপ্য৷ তবে বিবাহিতা মেয়ে তা পান না৷
ঘরের দাওয়ায় শোলার ফুল৷ দেবী পক্ষেই প্রাক-নবান্ন উৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষায় রাজবংশী বধূরা৷ ঘরে ঘরে এই উৎসবের খুশি ছড়িয়ে পড়ে৷ নতুন কৃষি-বর্ষের সূচনাকে সামনে রেখেই এই পুজোর আয়োজন৷ ফলে একে প্রাক-নবান্ন উৎসবও বলা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক উমেশ শর্মা৷ বলেছেন, মহানবমীতে ‘মাতা’ পুজোর মাধ্যমেই রাজবংশী সমাজে দেবীর আগমন ঘটে৷ লাঙল-মই-জোয়াল পুজোকে বলা হয় ‘যাত্রাপুজো’৷ শস্য-বৃদ্ধির কামনাতেই এই আবাহন৷
দেবীপক্ষেই তার দেখা মেলে৷ তাই আকাশের দিকে তাকিয়ে ডুকপারা৷ প্রাচীন এই জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস, রাতের আকাশে ‘টিউগ্যাপ’ নক্ষত্রের দেখা মেলা মানেই শয়তানের ছায়া কেটে যাবে৷ পৃথিবীর সব জলাশয় জীবাণুমুক্ত হবে সেই রাতে৷ আর সেই শুভক্ষণে ঘরে ঘরে জ্বলে উঠবে ঘিয়ের প্রদীপ৷ মাখন-চিনি আর ঘরে তৈরি সুরা ‘জার’ দিয়ে তৈরি হবে বিশেষ ভোগ৷ হবে নাচ-গান৷ তিরন্দাজিতে মেতে উঠবেন ডুকপারা৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে