২ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

ধুতি-শাড়ি আর লোকগানের যুগলবন্দিতে মাতবে মমতার শপথ গ্রহণ

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 27, 2016 10:29 am|    Updated: May 27, 2016 10:29 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ৷ সাক্ষী থাকবে জনসুনামি৷ আজ রেড রোডে দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ অভূতপূর্ব এই অনুষ্ঠান ঘিরে গণ উন্মাদনায় ফুটছে গোটা রাজ্য৷
বাঙালি সংস্কৃতি প্রাধান্য পাবে মমতা-সহ ৪২ জন মন্ত্রীর শপথে৷ পুরুষরা ধুতি পাঞ্জাবি ও মহিলারা শাড়ি পরবেন৷ সময় বাঁচাতে চারটি ভাগে ভাগ হয়ে শপথ নেবেন মন্ত্রীরা৷ বৃহস্পতিবার থেকে অতিথিরা পা রেখেছেন কলকাতায়৷ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা থাকছেন রেড রোডের সবুজ অনুষ্ঠানে৷ আসছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷ তৈরি পুলিশ প্রশাসন৷ এদিন অনুষ্ঠানের মহড়া হয়৷ নবান্নে ঢোকার আগে মুখ্যমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনার দেবে কলকাতা পুলিশ৷ এদিন তারও মহড়া হয়৷ শপথের পর নিয়ম মেনে বিকেলে নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠক৷ বৃহস্পতিবারও মমতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে জনজোয়ার ছিল৷ প্রদীপ, চন্দন, দুর্বার ডালায় মমতাকে বরণ করেছেন সাধারণ মানুষ৷ কাউকেই নিরাশ করেননি মমতা৷ চূড়ান্ত ব্যস্ততার মধ্যেও সবার সঙ্গে দেখা করেছেন৷ কলকাতার কাছাকাছি থাকা হবু মন্ত্রীরা এদিন কালীঘাটে এসে মমতাকে প্রণাম জানিয়ে যান৷
শহরে পৌঁছে গিয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে৷ বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক জিএমপি রেড্ডি৷ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিশেষ কাজে আসতে পারছেন না৷ তিনি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে পাঠিয়েছেন৷ নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা রেড রোড৷ মঞ্চ তৈরি হয়েছে ফোর্ট উইলিয়ামের গেটের দিকে৷ মূল মঞ্চে মমতাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাজ্যপাল৷ দু’পাশে আরও দু’টি মঞ্চের একটিতে শপথ নেবেন অন্য মন্ত্রীরা৷ অন্যটিতে বসবেন দেশ-বিদেশের অতিথিরা৷ বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে মঞ্চের উপরে থাকছে আচ্ছাদন৷ অনুষ্ঠান দেখার জন্য কোনও প্রবেশপত্র লাগবে না৷ মূল মঞ্চের সামনেই সাধারণ মানুষের বসার জায়গা থাকছে৷
নবান্ন থেকে জানানো হয়েছে, তথ্য সংস্কৃতি দফতরের নথিভুক্ত একশোজন ঢাকি অনুষ্ঠানের আগে ঢাক বাজাবেন৷ ধর্মতলা সংলগ্ন এলাকায় থাকছে বেশ কয়েকটি জায়ান্ট স্ক্রিন৷ মঞ্চের চারিদিকে থাকছে সিসি টিভি ক্যামেরা৷ অনুষ্ঠানে থাকবেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব, আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদব প্রমুখ৷ থাকবেন টলিউডের পাশাপাশি বলিউডের তারকারাও৷ মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুংও শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন৷ অনুষ্ঠান শুরু হবে ১২.৪৫ মিনিটে৷ টিভিতে সম্প্রচারের জন্য সরকারের তরফে ‘ফিড’ দেওয়া হবে৷ সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ হয়েছে৷ রেড রোড ইতিমধ্যেই ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ৷ কোনও অবাঞ্ছিত ঘটনা যাতে না ঘটে তার জন্য সতর্ক পুলিশ৷ সবসময় নজরদারি চলছে৷ পুলিশ কমিশনার ছাড়াও অনুষ্ঠানের দেখভাল করবেন কলকাতা পুলিশের ১৪ জন ডিসি৷ থাকছে চারটি ওয়াচ টাওয়ার৷ নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন হবে এক হাজার অতিরিক্ত পুলিশ৷ সভামঞ্চের পিছনে থাকবে তিনটি কুইক রেসপন্স টিম, বিপর্যয় মোকাবিলা দল৷ সিসিটিভির পাশাপাশি ড্রোনের নজরদারিও চলবে৷ থাকছে ২৫টি অ্যাম্বুল্যান্স, তিনটি মেডিক্যাল ক্যাম্প৷ মোট আসন কুড়ি হাজার৷ এর মধ্যে ১৬ হাজার আসনে বসবেন সাধারণ মানুষ৷ দূরে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান দেখারও সুযোগ থাকছে৷
রেড রোডে আজ, শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে শামিল হচ্ছেন জঙ্গলমহলের শিল্পীরা৷ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তথ্য সংস্কৃতি দফতরের মাধ্যমে জেলার মোট ১৮ জন লোকশিল্পীকে মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে৷ আর এইসব শিল্পীরা মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার আমন্ত্রণ পেয়ে কার্যত আপ্লুত এবং আবেগতাড়িত৷ এর আগে কখনও কোনও জঙ্গলমহলের শিল্পীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার ডাক পাননি৷ জেলা তথ্য সংস্কৃতি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পরই প্রথম লোকপ্রসার শিল্পটি চালু হয়৷
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার কলকাতার রেড রোডে মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন শালবনি ব্লকের জরকা শিবশক্তি ছৌ দলের ১৫ জন, ঝাড়গ্রামের ঝুমুর গানের শিল্পী সুভাষ মাহাতো এবং তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি মাহাতো এবং মেদিনীপুর ব্লকের পির-ফকির গানের শিল্পী ইমরান খাঁ৷ মোট ১৮ জন শিল্পীর যাতায়াত, খাওয়া-দাওয়ার খরচ দিয়ে শুক্রবার রেড রোডে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে৷ এ ছাড়া প্রতিশিল্পী মাথা পিছু হাজার টাকা করে পাবেন৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement