সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্য জুড়ে সংঘের রামনবমী উদযাপনে অস্ত্র হাতে মিছিল করেছিলেন সভ্য-সমর্থকরা৷ তা নিয়ে পুরুলিয়ার সভা থেকেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এদিন আসানসোলের সভাতেও উঠে এল সেই প্রসঙ্গ৷ ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে রাজ্যে অশান্তি বাধানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে তাঁর সাফ বার্তা, রাজনীতি রাজনীতির মতো থাকুক৷ তার সঙ্গে ধর্মকে মেলানো উচিত নয়৷ ধর্ম আর রাজনীতি এক নয়৷
[ ‘রাজনৈতিক নেতারা অস্ত্র হাতে মিছিল করলে আইন আইনের পথে চলবে’ ]
ধর্মনিরপেক্ষতা বা সর্বধর্মসমণ্বয়ের বার্তা বরাবরই দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ প্রশ্ন উঠছিল, তাহলে বিজেপির রামনবমী উদযাপনের বিরুদ্ধে কেন সরব হতে হচ্ছে তাঁকে৷ কেন বারবার তুলে ধরতে হচ্ছে ধর্ম নিয়ে বিভেদের প্রসঙ্গ৷ গতকালের সভাতেও সে ইঙ্গিত রেখেছিলেন৷ এদিনের বক্তৃতাতেও তা খোলসা করলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ মন্ত্রোচ্চারণ করে জানিয়ে দিলেন হিন্দু ধর্ম পালন করতে হলে তা নিয়ে রাজনীতি করতে হয় না৷ এদিন চাঁচাছোলা ভাষায় তিনি জানালেন, দেশের সংস্কৃতি জানলে কেউ তরোয়াল নিয়ে বাইরে মিছিল করত না৷ মন্দিরে পুজো করত৷ তাঁর বক্তব্য, ধর্মকে সম্মান কেউ জানাতেই পারেন৷ তাতে তো কোনও অসুবিধা থাকার কথা নয়৷ কিন্তু ধর্ম নিয়ে কেন রাজনীতি করা হবে, এটাই তাঁর প্রশ্ন৷ এই বিভেদের রাজনীতি করে রাজ্যে অশান্তি বাধলে সব ধর্মের মানুষেরই ঘর পুড়বে৷ আর তাই আগেভাগেই এই বিভেদের ফাঁদ থেকে মানুষকে বেরিয়ে আসার ডাক মুখ্যমন্ত্রীর৷
[ রামনবমীতে সশস্ত্র মিছিল, মামলা দিলীপের বিরুদ্ধে ]
প্রসঙ্গত, সশস্ত্র মিছিল করার অভিযোগে গতকালই বিজেপির রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইন ভাঙার অনুমতি কোথাও দেওয়া হবে না রাজ্যে৷ রাজনৈতিক নেতারা অস্ত্র হাতে মিছিল করলে আইন আইনের পথেই চলবে, এ কথা তিনি গতকালই জানিয়েছিলেন৷ এ দিন তারই পুনরাবৃত্তি শোনা গেল তাঁর মুখে৷ তাঁর সাফ কথা, নানা ধর্ম যেমন আছে, তেমনি নানা ধর্মীয় আচরণও আছে৷ কিন্তু রাজনীতির জন্য তাতে বিভেদ সৃষ্টি করা হলে তা মোটেও বরদাস্ত করা হবে না৷ পুজোর রীতি থেকে মন্ত্রোচ্চারণ করে মুখ্যমন্ত্রী বুঝিয়ে দেন, রাজনীতি নিরপেক্ষভাবেও ধর্মচারণ করা সম্ভব৷
মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষপাতিত্বেরও অভিযোগ তোলে বিরোধীরা৷ এদিনের মঞ্চ থেকে তারও জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সাফ জানিয়ে দেন, রমজান চলাকালীন তিনি যদি মুসলিমদের সঙ্গে দুদিন উপবাস করেন তাতে তার কী৷ তিনি যেমন রামনবমীর পুজো করেন, তেমন রমজানের উপবাসও করেন৷ আপনি আচরি ধর্মই মুখ্যমন্ত্রী যেন জানিয়ে দিলেন এই রাজ্যের ধর্মীয় সংস্কৃতি ঠিক কেমন৷ ধর্ম নিয়ে রাজনীতি নয়, পারস্পরিক সহাবস্থানই যে বাংলার ধর্ম, সে বার্তা আজ ফের স্পষ্ট করে দিলেন তিনি৷
সর্বশেষ খবর
-
দুই ‘সেরা’ গোলের ম্যাচে বাজিমাত ‘গোলদস্যু’ হালান্ডের, প্রি কোয়ার্টারে ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে
-
বাড়িতে পাথর ছুড়ছে দুষ্কৃতী! সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে তোপ অভিষেকের
-
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপ প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী কথা হল, চাপ বাড়বে ট্রাম্পের?
-
নীচু জাত! কলেজের অশিক্ষক কর্মীকে নির্যাতন, ঘরে ঢুকতে বাধা অধ্যক্ষার! বিতর্ক পুরুলিয়ায়
-
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষের সাক্ষাৎ, উপহার আম ও সন্দেশ! কী কথা হল?