১১ বৈশাখ  ১৪২৬  বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল ২০১৯ 

Menu Logo নির্বাচন ‘১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও #IPL12 ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: “মাথা গোঁজার জায়গা খুঁজছেন? চিন্তা করবেন না৷ সোজা চলে আসুন ডিপিএলে৷ যোগাযোগ করুন আমাদের সঙ্গে৷” এমনটাই হতে পারত ডিপিএলের আবাসন নিয়ে বেআইনি ব্যবসাদারদের বিজ্ঞাপন৷ দুর্গাপুরে যাঁরা এক টুকরো ছাদের খোঁজে দিগভ্রান্তের মতো ঘুরছেন তাঁদের হাতে হাতে ঘুরছে এমন ব্যবসাদার থুড়ি দালালদের মোবাইল নম্বর৷ খপ্পরে পড়লেই ছাদ নিশ্চিত৷ কিন্তু দুশ্চিন্তার সময় শুরু তখন থেকেই৷ অতি গোপনে এইভাবেই চলছে রুগ্ন ডিপিএলের পরিত্যক্ত প্রায় এক হাজারটি আবাসন নিয়ে ব্যবসা৷ মোটা টাকার ব্যবসা৷ যদিও ব্যবসা না বলে এটিকে একটি বড় প্রতারণা চক্র বলাই ভাল৷

[মৌচাকে ঢিল মেরে চরম শিক্ষা, পতঙ্গের আক্রমণে অসুস্থ ৯]

পরিত্যক্ত দখল করা আবাসন চাইলে সহজেই পেতে পারেন৷ চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ করলেই মিলে যাবে আবাসন৷ যতদিন খুশি থাকুন৷ জল, বিদ্যুতের জোগান পাবেন বিনামূল্যে৷ কিন্তু কোন দায় নেই দালালদের৷ ডিপিএল তুলে দিলে সঙ্গে সঙ্গে উঠে যেতে হবে৷ এই ঝুঁকিটা নিতেই হবে দখলে থাকা আবাসনের বাসিন্দাকে৷আবার ধরুন ডিপিএলের কোনও কর্মী বা শ্রমিকের নামে আবাসন রয়েছে৷ কিন্তু আসল মালিক সেই আবাসনে না থেকে অন্যত্র বাস করেন৷ সেই আবাসন ঘিরেও চলে বেআইনি ব্যবসা৷ কিছু শর্তের ভিত্তিতে এই ব্যবসাও এখন রমরম করে চলছে ডিপিএল টাউনশিপে৷ প্রথম শর্ত, এই আবাসনে আপনি ভাড়াটিয়া হিসাবে থাকতে চাইলে প্রথমেই দুই থেকে তিন বছরের ভাড়া অগ্রিম দিতে হবে৷ দ্বিতীয়ত, পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছে আবাসন সংক্রান্ত কোন তথ্যই শেয়ার করা যাবে না৷ তবে এই ধরনের আবাসনের ক্ষেত্রে একটি গোপন তথ্য লুকোনো থাকে৷ ভাড়টিয়া হিসাবে সেই তথ্যের কোন সূত্রই আপনি পাবেন না৷ আপনার মতোই আপনারই আবাসনে আগে‌ কোন ভাড়টিয়া ছিলেন৷ মাঝপথে লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদের জেরে তাঁকেও আবাসন ছাড়তে বাধ্য করে দালালরা৷ সেই জায়গায় ফের আপনাকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ তবে এক্ষেত্রেও একটি বড় ঝুঁকি রয়েই যাচ্ছে৷ ভবিষ্যতে যে আপনাকেও একই কায়দায় তাড়িয়ে দেওয়া হবে না তার কোন নিশ্চয়তা নেই৷ দীর্ঘদিন ধরেই এইভাবেই ডিপিএল টাউনশিপ জুড়ে চলছে আবাসনের অবৈধ ব্যবসা৷ বিরাট প্রতারণা চক্র৷ প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ৷

[বিধায়ক খুনের প্রতিবাদে রেল অবরোধ মতুয়াদের, বিপাকে নিত্যযাত্রীরা]

এই চক্রের নেপথ্যে রাজনৈতিক মদত রয়েছে বলেও অভিযোগ অনেকের৷ চার নম্বর বোরো কমিটির চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর বন্দোপাধ্যায় বলেন,“বকেয়া থাকার কারণে ডিপিএল স্কুলগুলির বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিচ্ছে৷ কিন্তু বেআইনি আবাসনগুলি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদে তাদের কোন আগ্রহ নেই৷ এই আবাসনগুলি থেকে একটি টাকাও ডিপিএলের ভাঁড়ারে ঢোকেনা৷ কিন্তু এই বেআইনি ব্যবসা চালিয়ে বিত্তশালী হয়ে উঠছে একশ্রেণির মানুষ৷ ডিপিএল এদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নিক৷ এতে যদি আমাদের দলেরও কেউ যুক্ত থাকে তবে তাকেও রেয়াত যেন না করা হয়৷” ডিপিএলের জনসংযোগ আধিকারিক স্বাগতা মিত্র বলেন,“এই আবাসনগুলি নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ শীঘ্রই তা বাস্তবায়িত করা হবে৷”

ছবি: উদয়ন গুহ রায়

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং