রূপায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়: সন্ধেয় নির্দেশিকা জারি। রাত পোহাতে না পোহাতেই তা প্রত্যাহার। পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়নের সময়সীমা বাড়ানোর নির্দেশ তড়িঘড়ি ফিরিয়ে নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জানানো হয়েছে, আইনি জটিলতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও বিজেপি নেতাদের দাবি, চাপ সৃষ্টি করে রীতিমতো মারধর করে নির্বাচন কমিশনারকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়েছে। এই অভিযোগে একযোগে সরব মুকুল রায় ও দিলীপ ঘোষ।
[ ভোট হিংসার নয়া নজির, একে অপরের দিকে অ্যাসিড ছুড়ল তৃণমূল-বিজেপি ]
বিস্ফোরক মুকুল রায় এদিন বলেন, “রাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের বাড়িতে গিয়ে ব্যাপক মারধর করেছে। এমনটাই লজ্জাজনক অবস্থায় এখন পরিস্থিতি পৌঁছে গিয়েছে। চাপের মুখে উনি বাধ্য হয়েছেন এই কাজ করতে।” তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনারকে দেখে আমর করুণা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার একটা জড় পদার্থ। আমরা নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আইনি ও রাজনৈতিকভাবে লড়াই করবো।”
[ এককাট্টা একান্নবর্তী পরিবারের ভাঙন ডাকল পঞ্চায়েত ভোট! ব্যাপারটা কী? ]
কমিশনের সিদ্ধান্তে দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ মুকুল জানান, “নির্বাচন কমিশনার কাল বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মনোনয়নের মেয়াদ বৃদ্ধির পর আজ শুধু বিজেপি প্রার্থী নয়, সমস্ত বিরোধী দলের প্রার্থীরা বিডিও, এসডিও ও ডিএম অফিসে গিয়ে পৌঁছেছিলেন। তখন তাঁরা জানতে পারেন, আজ মনোনয়ন করা যাবে না। হঠাৎ করে সকালে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মনোনয়নের মেয়াদ বৃদ্ধি প্রত্যাহার করা হয়। নির্বাচন কমিশন যা করছে তা পাড়ার ক্লাবেও হয় না। তিনি এর কারণ হিসাবে জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠির ভিত্তিতে তিনি এটা নাকি প্রত্যাহার করেছেন।” মুকুলের অভিযোগ, “রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণে এই সন্ত্রাস হচ্ছে। মমতা গণতন্ত্র শেষ করছে। উনি নিজে জানেন মানুষের ভোটে পরাজিত হবেন। তাই তিনি এই কাজ করে চলেছেন।”
একই সুর বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কথাতেও। তিনিও কমিশনের উপর চাপ দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে দিলীপবাবু বলেন, “রাতেই কমিশনারের ট্রিটমেন্ট হয়েছে। ধোলাই পড়েছে। বেচারি তাই আজ সকালেই নির্দেশ ফিরিয়ে নিয়েছেন।”
[ অনুব্রতর পথেই কার্যসিদ্ধি, আসানসোলে বিরোধীদের ‘লস্যি-সরবতে’র দাওয়াই তৃণমূলের ]
এদিকে বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী সুশান্ত উপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনেছেন। জানিয়েছেন, নির্বাচন চলাকালীন তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। তাঁর আশঙ্কা এবারের কমিশনারেরও হয়তো সেই পরিণতি হতে চলেছে। এই নির্দেশ প্রত্যাহারের কারণে আজ কমিশনের সামনে বিক্ষোভও দেখান বাম কর্মীরা। বিক্ষোভ দেখান বিজেপি মহিলা মোর্চার সদস্যরাও। লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ঝাঁটা হাতে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
সর্বশেষ খবর
-
বিশ্বজুড়ে চৈতন্যপ্রেমের জোয়ার, বিশ্বব্যাপী শান্তিবার্তা ছড়িয়ে কলকাতায় ফিরলেন মহারাজ
-
অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় আইনজীবী ছেলে, বাবা তদন্ত করলে আপত্তি? তৃণমূলকে প্রশ্ন হাই কোর্টের
-
‘ঠিক করেছে’, বারুইপুর কাণ্ডে পুলিশের এনকাউন্টারকে ‘সমর্থন’ মেয়ে হারানো নদিয়ার দুই মা’র
-
চোখে ভয়ংকর সমস্যা ভোজিনহার, এই রোগে হারায় দৃষ্টিশক্তিও! জানুন লক্ষণ ও চিকিৎসা
-
জন্মদিনে পেলেন আরও এক উপহার! এবার আইসিসি হল অফ ফেমে সৌরভ