Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১১ জুলাই ২০২৬

শিকারি কুকুরের হানায় ৯০টি ভেড়ার মৃত্যু, আতঙ্কে ঘুম ছুটেছে বাসিন্দাদের

কুকুরের হানাদারি ঠেকাতে কাটোয়ায় প্রশাসনিক বৈঠক।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৯, ২০১৮, ১৩:৩৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৯, ২০১৮, ১৩:৩৩

options
link
শিকারি কুকুরের হানায় ৯০টি ভেড়ার মৃত্যু, আতঙ্কে ঘুম ছুটেছে বাসিন্দাদের zoom

ধীমান রায়, কাটোয়া: বহিরাগত শিকারি কুকুরের হানায় ৯০টি ভেড়ার মৃত্যু হয়েছে। বেপরোয়া শিকারি কুকুরের হাত থেকে নিরীহ ভেড়াদের বাঁচাতে এবার উদ্যোগী হল পুলিশ প্রশাসন। কসাইখানার আশপাশে থাকা কুকুরগুলি নিয়মিত মাংসের স্বাদ পায়। আর সেই মাংসের স্বাদ পেয়েই প্রায় শিকারি কুকুর বনে গিয়েছে রাস্তার সারমেয় কুল। যখনই মাংসের জোগানে টান পড়ে তখনই নজর জীবিত পশুর দিকে। সেইমতো ভোর বেলা হানা দিচ্ছে গোয়ালে। তারপর গলার নলি কেটে একের পর এক মেরে ফেলছে নিরীহ গৃহপালিত ভেড়াদের। এই ঘটনায় মাথায় হাত স্থানীয় পশুপালকদের।ঘটনাস্থল পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার বাঁদরা গ্রাম।

[তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তাল উলুবেড়িয়া, মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ]

গত দু’সপ্তাহে এই শিকারি কুকুরদের হানায় ৯০টি ভেড়ার প্রাণ গিয়েছে। গোটা ঘটনায় স্বভাবতই ক্ষুব্ধ পশুপালকরা। ক্ষোভে ফুটছেন বাঁদরা গ্রামবাসী। ইতিমধ্যেই পাঁচটি কুকুরকে পিটিয়ে মেরেও ফেলেছে উত্তেজিত জনতা। এহেন ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে কাটোয়া মহকুমা প্রশাসন ও পুলিশ। একদিকে গৃহপালিত ভেড়াদের রক্ষার্থে পাশাপাশি রাস্তার কুকুরদের পুরনো স্বভাবে ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হয়েছে প্রশাসন। তবে কীভাবে এই প্রক্রিয়া ফলপ্রসূ হবে তানিয়ে চিন্তায় প্রশাসনিক আধিকারিকরা। সোমবার এনিয়েই কাটোয়ার মহকুমা শাসক সৌমেন পাল নিজের দপ্তরেই জরুরি বৈঠক ডাকেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মহকুমার পুলিশ আধিকারিক ত্রিদিব সরকার, বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, কুকুর বিশেষজ্ঞ গবেষক সুনীল পাল, প্রাণিসম্পদ বিকাশ বিভাগের আধিকারিক ও সরকারি পশু চিকিৎসকরা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

জানা গিয়েছে, কাটোয়ার বাঁদরা গ্রামের মণ্ডলপাড়ায় প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে চলছে ভেড়ানিধন যজ্ঞ। বাসিন্দাদের গোয়ালে হানা দিয়ে একের পর এক ভেড়াকে গলার নলি কেটে মেরে ফেলা হচ্ছে। প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরে রাত পাহারায় থেকে বাসিন্দারা দেখতে পান একদল হিংস্র কুকুর এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। তারপর তিনদিন আগে তক্কে তক্কে থেকে পাঁচটি কুকুর পিটিয়ে মারা হয়। বাকিগুলি পালিয়ে যায়। তারপরেও একাধিক দিন হানা দিয়ে প্রায় ১০-১২টি ভেড়াকে মেরে ফেলে ওই কুকুরগুলো। খুনে কুকুরগুলির বাস গ্রাম থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে কেশিয়া এলাকার রাস্তাতে। সেখানেই রয়েছে দু’তিনটি মাংসের বড় দোকান। ওই সমস্ত মাংসের দোকানের ছাঁট খেতেই অভ্যস্ত তারা। রাস্তার অন্যান্য কুকুরের থেকে এই কুকুরগুলো ভিন্ন প্রকৃতির। ছিপছিপে লম্বা চেহারা। প্রচণ্ড ক্ষিপ্র, ধূর্তও বটে। অভিযোগ, মাঠে মাঝেমধ্যে গৃহপালিত পশুদের তাড়া করে লাফিয়ে গলার নলি কেটে দেয়। গোয়ালে হানা দিয়ে ভেড়া মারার পর তারা আর অপেক্ষা করে না। পরে লক্ষ্য রাখছে কোথায় ফেলা হচ্ছে সেই মৃতদেহ। তারপর ভাগাড়ে গিয়ে সারছে ভোজ। এভাবেই চলছে। বিশিষ্ট কুকুর বিশেষজ্ঞ সুনীল পাল বলেন, কুকুরগুলো কসাইখানার কাছাকাছি থেকে মাংসের ছাঁট খেয়ে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তারপর কোনও কারণে খাবারে টান পড়েছে। তখন নিজেরাই দলবদ্ধভাবে শিকার করতে বের হচ্ছে। এই মাংসপ্রিয় কুকুরগুলোর স্বভাব পাড়ার কুকুরগুলোর থেকে আলাদা। ছাগল ভেড়া শিকার করে পেট ভরাতে চাইছে তারা।

[পেট্রোপণ্যের দাম বৃদ্ধির জের, জুন থেকেই বাড়তে পারে বাস-ট্যাক্সির ভাড়া]

তবে স্থানীয়রা রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন কোনওসময় গৃহপালিত পশু না পেলে হয়তো বাচ্চাদের উপরও ঝাঁপাতে পারে কুকুর। বহিরাগত কুকুরের হামলার হাত থেকে বাচ্চাদের বাঁচাতে স্কুলে যাওয়াও এক প্রকার বন্ধ। এদিন বিকেলে প্রশাসনিক বৈঠকে পশু বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, কুকুরগুলোকে বন্দি করে তাদের নিরামিষ খাবার খাওয়ানো হোক। তাহলে স্বভাব কিছুটা বদলানো যেতে পারে। পাশাপাশি পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে। সিদ্ধান্ত হয়েছে এরপরেও যদি ভেড়া মারে, তাহলে দেহ মাটিতে পুঁতে দিতে হবে। যাতে কুকুরগুলো ওই মাংস খেতে না পায়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.