আর মাত্র কয়েকঘণ্টা! সোমবারই বিজেপি সরকারের প্রথম অর্থবাজেট। আর এই বাজেট ঘিরেই চড়ছে প্রত্যাশার পারদ। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ থেকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন থেকে উত্তরবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়ন— নানা ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপের আশা সাধারণ মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সবথেকে বেশি এই মুহূর্তে রয়েছে চর্চায়। গত কয়েক মাসে বাজারে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাতে চাপে পড়েছে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবার। তাই আসন্ন বাজেটে বাজারদর নিয়ন্ত্রণে সরকার যাতে দিশা দেখান, সেই দাবিই তুলছেন তাঁরা।
এই বিষয়ে আরও খবর
এছাড়াও শিক্ষাক্ষেত্রেও সরকারের কাছ থেকে বড় প্রত্যাশা রয়েছে। বিশেষ করে সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষামহল। শিক্ষক বিকাশ দে সরকার, অভিভাবক প্রসেনজিৎ দত্তদের মতে, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ জরুরি। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের বড় একটা চ্যালেঞ্জ চা শ্রমিক এবং বন্ধ চা বাগান। দীর্ঘ কয়েকবছর ধরেই উপেক্ষিত চা বলয়। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গে গিয়ে বন্ধ চা বাগানগুলি খোলার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য বাজেটে কোনও দিশা থাকে কিনা সেদিকে রয়েছে নজর।
যদিও ডুয়ার্স অঞ্চলের বাসিন্দারা চা-শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চা-বাগানগুলির উৎপাদন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রা এবং শিল্পের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে। স্থানীয় অমিত মজুমদার, রানা রায়দের বক্তব্য, চা-শিল্প এই অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হওয়ায় বাজেটে এই খাতের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে, রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের সমস্যাও সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়। যুব সমাজের দাবি, নতুন শিল্প স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে বাজেটে স্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে। তাঁদের মতে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধিই রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চাবিকাঠি।
পরিকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে। উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে সেবকের দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ এবং প্রস্তাবিত ছয় লেনের সড়ক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে পরিবহণ ব্যবস্থা সহজ হবে, পাশাপাশি বাণিজ্য ও পর্যটনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সোমবারের বাজেটে সাধারণ মানুষের এই প্রত্যাশাগুলির কতটা প্রতিফলন ঘটে, সেদিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর। নতুন সরকারের প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ বাজেট হিসেবে এটি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার। জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর ২ টোর সময় অর্থমন্ত্রী হিসাবে বাজেট পেশ করবেন স্বপন দাশগুপ্ত। যদিও তার আগে হবে মন্ত্রিসভার বৈঠক।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
‘পার্লামেন্টে বসে নজর কাড়তে লিপস্টিক পরি না’, দিল্লি থেকে ফিরেই মাঠের কাজে সাংসদ, কাকে বিঁধলেন?
-
ইয়ামাল নামতেই বিধ্বংসী স্প্যানিশ আর্মাডা, সৌদিকে গোলের বন্যায় ভাসিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় স্পেনের
-
মেয়ে পরকীয়ায় জড়িয়েছে মানতে নারাজ মা! জামাইয়ের নালিশের প্রতিবাদ করায় শুরু হাতাহাতি, তারপর…
-
রয়েছে সোনালী খেঁকশিয়াল থেকে ভল্লুক, এবার কনজারভেশন রিজার্ভের তকমা পাচ্ছে কোটশিলা-ঝালদা বনাঞ্চল!
-
কাপের দাপুটে ব্যাটিং, টি-২০ বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের কাছে হেরে সেমির দৌড়ে অঙ্ক জটিল ভারতের

