৯ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

শপিং মলে দেদার বিকোচ্ছে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: June 15, 2016 9:34 am|    Updated: June 15, 2016 9:34 am

An Images

নব্যেন্দু হাজরা: শপিং মল মানেই টাটকা খাবার! ভুল৷ যে কোনও বহুজাতিক সংস্থার বিপণি থেকে খাবার কেনার আগে একটু দেখে কিনুন৷ দেখে নিন খাবারটা মেয়াদ উত্তীর্ণ কি-না৷ না হলেই ঠকবেন৷ ওই খাবার খেলে আপনার অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি৷ একবার নয়৷ বার বার এই সমস্ত শপিং মল থেকে খাবার কিনে ঠকছেন ক্রেতারা৷ বারবার ঠকতে থাকা এমনই এক ক্রেতার করা মামলায় সম্প্রতি শিয়ালদহের একটি বহুজাতিক সংস্থার বিপণিকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ক্রেতা সুরক্ষা আদালত৷ পাশাপাশি বিচারক প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে কোনওরকম পরীক্ষা না করে, না দেখে মেয়াদ উত্তীর্ণ খাওয়ার বিক্রি করা হচ্ছে এই সব শপিং মলে৷ এই খাবার খেয়ে কেউ অসুস্থ হলে তার দায় কে নেবেন? কারা এই খাবারের ছাড়পত্র দিচ্ছে? সেই সংস্থার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা দরকার৷

ক্রেতা সুরক্ষা আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, দত্তপুকুরের বাসিন্দা শৌভিক মজুমদার নামে তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্র গতবছরের ভ্ল অক্টোবর শিয়ালদহের একটি নামকরা বহুজাতিক সংস্থা থেকে চকোলেট ফাজ কেনেন৷ কেনার সময়ই দেখেন, প্যাকেটের গায়ে ছত্রাক ধরে গিয়েছে৷ খাবারের প্যাকেট খুলতে গিয়ে দেখেন সেটি মেয়াদ উত্তীর্ণ৷ দিনকয়েক পর ওই ছাত্র ফের বেবি কর্নের প্যাকেট কেনেন একই শপিং মল থেকে৷ কিন্তু সেটিরও দেখেন মেয়াদ উত্তীর্ণ৷ ওই ছাত্র তখন দুটি খাবারের প্যাকেট এবং বিল নিয়ে এণ্টালি থানায় জেনারেল ডায়েরি করেন৷ কিন্তু বিশেষ কোনও লাভ না হওয়ায় ওই শপিং মল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে ঘটনার কথা জানান৷ তারও কোনও প্রত্যুত্তর না আসায় সিদ্ধান্ত নেন ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে যাওয়ার৷ ঘটনাপ্রবাহ চলাকালীন চলতি বছরের গোড়ায় ওই ছাত্র একটি ডিম ছাড়া কেকের প্যাকেট কেনেন ওই বিপণি থেকে৷ কিন্তু সেটিও ছিল মেয়াদ উত্তীর্ণ৷ এর পরই আদালতের লড়াই শুরু করেন ওই ছাত্র৷ অবশেষে সম্প্রতি আদালতের রায়ে সাফল্যের মুখ দেখেন৷

শৌভিক এপিসি রায় পলিটেকনিক কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র৷ তিনি বলেন, “আমি শিয়ালদহের ওই শপিং মল থেকে একাধিক জিনিস কিনেছি৷ আর বার বার দেখেছি, খাবারের প্যাকেটে যে তারিখ দেওয়া রয়েছে তা মেয়াদ উত্তীর্ণ৷ সেকথা আমি মল কর্তৃপক্ষকে দু’বার চিঠি লিখে জানাই৷ কিন্তু কোনও উত্তর পাইনি৷ তাই বাধ্য হয়ে ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে কলকাতা ইউনিট-টু তে মামলা করি৷ সেখানে ওই বিপণির পক্ষে উকিল দাঁড়িয়েছিল৷ কিন্তু বিচারক শেষ পর্যন্ত আমার পক্ষেই রায় দেন৷” বিচারপতি বিপিন মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে এই মামলা চলে৷ শেষে তিনি ওই শপিং মল কর্তৃপক্ষকে জরিমানা করেন৷ বিপিনবাবু জানান, “যে সংস্থার প্রোডাক্ট এবং যারা তা বিক্রি করছে, প্রত্যেককেই সচেতনভাবে জিনিস বিক্রি করতে হবে৷ মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার খেয়ে যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারতেন৷ বিক্রি করার আগে খাবার তাই দেখে নেওয়া উচিত৷ ক্রেতাদেরও খাবার কেনার সময় দেখে কিনতে হবে৷”

ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকদের কথায়, শুধু এই বহুজাতিক সংস্থার বিপণি-র ক্ষেত্রেই নয়৷ শহরে গজিয়ে ওঠা শপিং মলে দীর্ঘদিন ধরে খাবার সাজানো থাকে ব়্যাকে বা শোকেসে৷ মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরও তা সরানো হয় না৷ ক্রেতারাও না দেখে ব্যাগে ভরে নেন৷ আর তা থেকেই ঘটে বিপদ৷ ওই খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকে৷ দোকানে বরং মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবারের প্যাকেট বদলে দেওয়া হয়৷ কিন্তু শপিং মলে হয় না৷ এই ধরনের রায় দেওয়ার পর যদি মল কর্তৃপক্ষ একটু সচেতন হয় তবে লাভ হবে ক্রেতাদের৷

 

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement