নন্দন দত্ত, সিউড়ি: মহিলার নাম ভাড়িয়ে প্রতারণায় ভুয়ো চিকিৎসক। সিউড়ির বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে জড়িয়ে গেল ভুয়ো চিকিৎসকের নাম। ঘটনাস্থল বীরভূমের সদর শহর সিউড়ির পুরনো ডাঙ্গালপাড়া এলাকা। সেখানেই রয়েছে স্বস্তিক নার্সিংহোম। গত শনিবার সেই নার্সিংহোমেই প্রচেতা চক্রবর্তী নামে যোগ দেন এক চিকিৎসক। বাড়ির ঠিকানা দেন কলকাতার গড়িয়াহাট। নামটি মহিলার হলেও ওই চিকিৎসক পুরুষ হওয়ায় প্রথমেই সন্দেহ দানা বাঁধে। যদিও ঠাকুমার দেওয়া নাম বলে সে যাত্রায় অস্বস্তি এড়ান নয়া চিকিৎসক। নার্সিংহোমে চিকিৎসক প্রয়োজন এই বিজ্ঞাপন দেখেই আবেদন করেছিলেন তিনি। সেইমতো কাজে যোগ দিতে এলে তাঁর চিকিৎসকের শংসাপত্র, প্যান ও আধার কার্ড সবই মিলিয়ে দেখা হয়। অনলাইনে তথ্যাদি মিলিয়ে দেখেও কোনও ত্রুটি ধরা পড়েনি। কিন্তু ছবির জায়গা ফাঁকা দেখেই প্রথম সন্দেহটি আসে। তবে এখন আর ছবি থাকে না বলেও পার পেয়ে যান ওই ব্যক্তি। কিন্তু বাদ সাধে রোগী দেখতে গিয়েই। নতুন চিকিৎসকের লেখা প্রেসক্রিপশন দেখেই ধন্দে পড়ে যায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

[প্রতিভাবান কিশোরী সাঁতারুর আত্মহত্যা, কারণই খুঁজে পাচ্ছে না পরিবার]
এই প্রসঙ্গে নার্সিংহোমের অনান্য চিকিৎসকরা জানান, একজন অভিজ্ঞ এমডি পাশ করা চিকিৎসক কখনওই এমন হাতুড়ের মতো প্রেসক্রিপশন করেন না। রোগীর যে প্রাথমিক চিকিৎসাগুলি করা দরকার তার কোনওটাতেই মিল খুঁজে পাচ্ছিল না নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। এদিকে সন্দেহ হওয়াতে ওই চিকিৎসকের খোঁজ পড়ে। জানা যায়, দিল্লি যাওয়ার নাম করে দ্রুত নার্সিংহোম ছেড়ে বেড়িয়ে পড়েছেন তিনি। তবে যাওয়ার আগে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে গিয়েছেন, তিনি খুব ক্লান্ত এই বিষয়ে পরে কথা বলবেন। নার্সিংহোম মালিক জয়প্রকাশ খৈতান জানান, ‘ওই চিকিৎসকের রোগী দেখার ধরন দেখে আমাদের প্রথমদিনই সন্দেহ হয়। আমরা কথা বলতে চাইলে উনি বলেন, ক্লান্ত আছি পরে কথা বলব, বলে এড়িয়ে যান।’ গোটা ঘটনা সিউড়ি থানায় জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ।
[আবিষ্কারের স্বীকৃতি, আইআইটি ভুবনেশ্বরে নিখরচায় গবেষণার সুযোগ খুদে বিজ্ঞানীর]
এ বিষয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আড়ি জানান, কোথাও কোনও নার্সিংহোমে চিকিৎসক নিয়োগ করলে তা লিখিতভাবে স্বাস্থ্য দপ্তরে জানাতে হয়। কারণ রোগীদের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যায় না। সিউড়ির নার্সিংহোমটি এত কাণ্ডের পরও কেন এখনও আমাদের জানায়নি সে বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে। না জানিয়ে চিকিৎসক নিয়োগ করলে বাতিল হতে পারে নার্সিংহোমের লাইসেন্স। অন্য দিকে ওই ভুয়ো চিকিৎসক স্থানীয় মোবাইলের দোকান থেকে ৮৮,৫০০ টাকা মূল্যের মোবাইল ফোন কিনেছেন। দোকানে নিজেকে ওই নার্সিংহোমের চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেন। চেক দিয়েই মোবাইলটি কিনেছিলেন। এদিকে দোকানদার পরের দিন সেই চেক ব্যাংকে ভাঙাতে গেলে দেখেন ওড়িশার ব্যাংকের নামে চেক। তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
ছবি: বাসুদেব ঘোষ
সর্বশেষ খবর
-
মহারাষ্ট্রে ফের বিরোধী শিবিরে ভাঙন! পওয়ারের ‘অস্থিরচিত্ত’ বিধায়কদের ‘সন্দেহ’ কংগ্রেসের
-
১৬ বছর পর কলকাতা পেল মহিলা ওসি, একসঙ্গে রদবদল ৩৩ ইন্সপেক্টরের
-
খেয়াল রাখতে হবে অভিযোগকারিণীর মানসিক দিকটিও, লালবাজারে বিশেষ প্রশিক্ষণ ১৮৩ মহিলা পুলিশকে
-
ইথানলের মিশ্রণে গাড়ির ক্ষতি না হওয়ার দাবি, গড়করিকে পালটা ‘চ্যালেঞ্জ’ সমাজকর্মীদের
-
সেবাশ্রয়ের ‘ভুলে’ বাদ পা! অভিষেক-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের মহিলার