Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৪ জুলাই ২০২৬

অষ্টধাতুর মূর্তি রাতারাতি হয়েছে সোনার, গুজবে চাঞ্চল্য ফরাক্কায়

কী বলছেন বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্যরা?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯, ১৫:০৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯, ১৫:০৬

options
link
অষ্টধাতুর মূর্তি রাতারাতি হয়েছে সোনার, গুজবে চাঞ্চল্য ফরাক্কায় zoom

শাহাজাদ হোসেন, মুূর্শিদাবাদ : জাদুর কাঠি ছোঁয়াতেই অষ্টধাতুর রাধা-গোবিন্দ রাতারাতি স্বর্ণমূর্তিতে রূপান্তর।চুরির আশঙ্কায় রাত জেগে মন্দির পাহারায় গ্রামবাসীরা।নিরাপওাহীনতায় আতঙ্কে মন্দির ছাড়তে চাইছেন মন্দিরের দুই সেবাইত। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ফরাক্কার বেনিয়াগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের রামনগরে।

কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে সবজি-পিঁয়াজের দাম বাড়াচ্ছে ফড়েরাই ]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

কেন ছড়াল এই গুজব? নেপথ্যে আছে বেশ লম্বা কাহিনি। জানা যাচ্ছে, আজ থেকে প্রায় ১৪ বছর আগে রামনগরের বাসিন্দারা গ্রামের আমবাগানের ধারে প্রতিষ্ঠা করেন রামনগর গৌর মন্দির। মন্দিরের বিগ্রহের সেবায় দু’জন সেবাইত রাখা হয়। নিত্যদিন নিষ্ঠার সঙ্গে পূজিত হন দেবদেবী। মন্দিরে দু’টি অষ্টধাতুর রাধা-গোবিন্দর মূর্তির পাশাপাশি গৌর ও নিতাইয়ের কাঠের বিগ্রহও রয়েছে। মাস দশেক আগে স্থানীয় বাসিন্দা অনিল রায় বিহারের পাটনার ঘোগা থেকে বহুদিন পর গ্রামে ফিরে আসেন। তিনি রাধা গোবিন্দর বিগ্রহ দেখে চমকে যান। মন্দিরের সেবাইত প্রেমানন্দ দাসকে প্রস্তাব দেন বিগ্রহের চরণতলে বোতলে ‘বিশেষ জল’ রাখবেন। সেবাইত তা প্রত্যাখান করেন। এরপর অনিল রায় এই কাজের জন্য সেবাইতকে ১ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখান বলে অভিযোগ। সেই প্রস্তাব সেবাইত প্রত্যাখান করলে সেবাইতের ঘনিষ্ঠ মন্দির কমিটির এক সদস্যকে পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়ে সেবাইতকে রাজি করানোর জন্য বলেন অনিল রায়। তাতেও কোনও কাজ না হওয়ায় মন্দির কমিটির দুই কর্ণধারকে রাজি করায় অনিল রায়। ৭ আশ্বিন দুর্গাপুজোর চতুর্থীর দিন অনিল রায় বিহারের পাটনা থেকে দুই পান্ডাকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হন রামনগর গৌর মন্দিরে। মন্দিরের সেবাইত প্রেমানন্দ দাস বলেন, মন্দির কমিটির দুই কর্ণধারের সামনে অনিল রায় আমাকে জেল খাটানোর হুমকি দিয়ে জবরদস্তি মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করেন। অপর সেবাইত মমতা মণ্ডল জানান, “মন্দির কমিটির অনুমতিতে দুই পান্ডা রাধা গোবিন্দ বিগ্রহের চরণে শিশিতে জলের বোতল রাখেন। বিগ্রহের মাথায়, হাতে ও পায়ে কোনও তরল জাতীয় মেডিসিন দিতে দেখলাম। তারপর একটা পান্ডা একটা কাগজ খুলে দেখল। সেই কাগজটা পড়ে ভাঁজ করে বিগ্রহের মাথায়, হাতে ও পায়ে ঠেকিয়ে হিন্দিতে বলে, কাম হো গ্যায়া।” এই ঘটনার পর রাতারাতি রটে গিয়েছে রাধা-গোবিন্দ বিগ্রহ সোনার হয়ে গিয়েছে। বহু মানুষ ছুটে আসছেন বিগ্রহ দেখতে। আতঙ্কে  রাতের ঘুম গিয়েছে বাসিন্দাদের। সেবাইত মমতাদেবী আরও জানান, “লোকমুখে শুনছি বিহারে নকল হুবহু রাধা গোবিন্দের বিগ্রহ গড়া হয়েছে। রাতারাতি বিহার থেকে সেই নকল বিগ্রহ এনে এই বিগ্রহ লুট করে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে।” এর ফলে তাঁদের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তাই তাঁরা মন্দিরে ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ডেঙ্গুর জন্য দায়ী আবহাওয়া, অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর ]

অষ্টধাতুর বিগ্রহ রাতারাতি স্বর্ণমূর্তিতে পরিণত হওয়ার গুজবে বহু মানুষ ছুটে আসছেন স্বচক্ষে বিগ্রহ দেখতে। মন্দির থেকে বিগ্রহ চুরি আটকাতে গ্রামের যুবকরা রাত জেগে মন্দির পাহারায় বসেছে। স্থানীয় গৃহবধূ দয়া চৌধুরী বলেন, ৫০ লক্ষ টাকা বিগ্রহের দাম দিয়েছে ওরা। নিশ্চয় এর পিছনে কোনও রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। এই রহস্যর মধ্যে বিগ্রহ চুরি করতে এসে দুই সেবাইতের যাতে প্রাণহানি না ঘটে তাঁর জন্য গ্রামের যুবকরা পালা করে মন্দির পাহারায় থাকছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফরাক্কার পুলিশ। গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন।পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রেখেছে পুলিশ। যদিও এই গুজব মানতে নারাজ ফরাক্কা ব্লকের বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী মঞ্চের সদস্য পার্থসারথী বিশ্বাস। তাঁর পালটা সাফাই ওটা মোটেই অষ্টধাতুর বিগ্রহ ছিল না। ছিল সোনার বিগ্রহ। মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই গুজব ছড়ানো হচ্ছে পরিকল্পনামাফিক।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.