দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: সিঙ্গুর থেকেই বাংলায় পরিবর্তন এসেছিল। তাই সোমবার সিঙ্গুরের (Singur) সানাপাড়া থেকে গোপালনগর পর্যন্ত লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কৃষি আইনের স্বার্থে এক মহামিছিলের ডাক দেওয়া হয়। কিন্তু এদিন এই মিছিলকে কেন্দ্র করে ২০০৬’র সিঙ্গুর আন্দোলনের স্মৃতি ফের ফিরে এল। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নতুন করে কৃষি বিলের বিরুদ্ধে উত্তাল হল গোটা সিঙ্গুর। সাংসদের মিছিল শুরুর আগেই সিঙ্গুরের মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সিঙ্গুরের গোপালনগর, বাজেমেলিয়া, বেড়াবেড়ি, খাসের ভেড়ি, সিংহের ভেড়ি-সহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা কালো পতাকা দেখিয়ে গো ব্যাক লকেট চট্টোপাধ্যায় (Locket Chatterjee) স্লোগান দিতে থাকে। প্রবল বিক্ষোভে সাংসদের মিছিল আটকে যায়। পরে সিঙ্গুর থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কৃষি বিল পাশ হওয়ার পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছিলেন সিঙ্গুরের কৃষকরা। সোমবার বিজেপি (BJP) কৃষকের স্বার্থে কৃষি বিল নিয়ে মিছিলের ডাক দিতেই তেতে ওঠেন সিঙ্গুরের কৃষকরা। ২০০৬ সালের বাম জামানায় জমি অধিগ্রহণের সেই দুর্দশার দিনগুলো তাঁরা আজও ভোলেননি। তার উপর করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের পর অনেকে কাজ হারিয়ে যখন জমিকে আঁকড়ে ধরে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন তখনই কেন্দ্রের এই কৃষি আইন (Farm Bill 2020) তাঁদের কাছে আশঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘কৃষক মারা বিজেপি সরকার আর নেই দরকার’ পোস্টার লিখে গলায় ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখান অনেকেই। প্রয়োজনে সিঙ্গুর আন্দোলনের থেকেও তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবেন বলে জানান কৃষকরা। পুলিশের উপস্থিতিতে সাংসদের মিছিল যেখান দিয়ে গেছে সেখানেই ঘর থেকে বেরিয়ে কৃষক পরিবারের সদস্যরা গো ব্যাক লকেট স্লোগান দিয়েছেন। লকেট চট্টোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদির কুশপুতুল দাহ করে বিক্ষোভকারীরা।
[আরও পড়ুন: সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে প্রচারের আলোয়, লন্ডন পাড়ি নবদ্বীপের শিল্পীর ৭ ইঞ্চি দুর্গা]
এদিন মিছিলের শেষে ক্ষুব্ধ লকেট বলেন, “আজকের মিছিলে কালোবাজারিরা কালো পতাকা দেখিয়েছে। এইসব তৃণমূলের কালোবাজারিদের টাকা শেষ হয়ে গেছে বলে আজ কালো পতাকা দেখিয়েছে। এরা তৃণমূলের (TMC) দালাল, ফড়ে। কৃষি বিলের জন্য কৃষকদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা মারতে পারবে না বলেই কালো পতাকা দেখিয়েছে। এরা কেউ কৃষক নয়। কৃষকরা শিল্পের জন্য জমি দেওয়ার পর শিল্পও হয়নি। জমি ফেরত পাওয়ার পর তা চাষযোগ্যও হয়নি। এই সিঙ্গুর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান হয়েছিল। সিঙ্গুরের কৃষকরাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পতন ঘটাবে।” সিঙ্গুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি মহাদেব দাস জানান, এই বিক্ষোভের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই।