Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Sundarbans

ঘাড়ে-মাথায় বাঘের কামড় খেয়েও ঘণ্টাখানেক লড়াই! সুন্দরবনে প্রাণে বাঁচলেন মৎস্যজীবী

সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে সঙ্গীদের সঙ্গে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন। অতর্কিতে বাঘের আক্রমণ। প্রাণ বাঁচাতে বাঘের সঙ্গেই লড়াই। সঙ্গীকে বাঁচাতে বাঁশ-লাঠি নিয়ে তেড়ে গিয়েছিলেন সঙ্গীরা। পালটা হামলায় শেষপর্যন্ত রণে ভঙ্গ দিল দক্ষিণরায়। প্রাণে বেঁচে ফিরলেন মৎস্যজীবী।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: মার্চ ২২, ২০২৬, ১৭:৫৫

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: মার্চ ২২, ২০২৬, ১৭:৫৫

options
link
ঘাড়ে-মাথায় বাঘের কামড় খেয়েও ঘণ্টাখানেক লড়াই! সুন্দরবনে প্রাণে বাঁচলেন মৎস্যজীবী zoom
সুন্দরবনে বাঘের হানা। ছবি - এআই।

সুন্দরবনের (Sundarbans) গভীর জঙ্গলে সঙ্গীদের সঙ্গে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন। অতর্কিতে বাঘের আক্রমণ। প্রাণ বাঁচাতে বাঘের সঙ্গেই লড়াই। সঙ্গীকে বাঁচাতে বাঁশ-লাঠি নিয়ে তেড়ে গিয়েছিলেন অন্যান্যরা। পালটা হামলায় শেষপর্যন্ত রণে ভঙ্গ দিল দক্ষিণরায়। প্রাণে বেঁচে ফিরলেন মৎস্যজীবী। একাধিক চোট, জখম নিয়ে তিনি এখন কার্যত মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটেছে সুন্দরবনের শামসেরগঞ্জ এলাকায়। জখম ওই মৎস্যজীবীর নাম নিখিল মণ্ডল।

উত্তর ২৪ পরগনার হেমনগর কোস্টাল থানার শামসেরনগর এলাকায় বাড়ি নিখিলের। শুক্রবার দুটি নৌকা করে নিখিল-সহ ছ’জন মৎস্যজীবী সুন্দরবনের গভীরে খাঁড়িতে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় বড়িতলা জঙ্গলের একটি খাঁড়ি থেকে নৌকা করে বেরচ্ছিলেন তাঁরা। সেসময় খাঁড়ির ধারে বাঘের দুটি শাবককে তাঁরা দেখতে পেয়েছিলেন। কম আলোতে প্রথমে সেই দুটিকে তাঁরা খেয়াল করতে পারেননি। শাবক দেখে দ্রুত এলাকা ছাড়ার আগেই ঘটে যায় হাড়হিম ঘটনা। 

Advertisement
Fisherman survives fight with tiger in Sundarbans
হাসপাতালে ভর্তি জখম ব্যক্তি। ছবি- সংগৃহীত

জখম মৎস্যজীবীর সঙ্গী গোবিন্দ মণ্ডল জানান, হঠাৎই একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘ জঙ্গল থেকে বেরিয়ে নৌকায় ঝাঁপিয়ে নিখিলের উপর আক্রমণ চালায়। ভয়ে সকলের হাত-পা কার্যত ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। তবে দেরি না করে নৌকায় থাকা বাঁশ দিয়ে বাঘটিকে আঘাত করা হয়। আঘাত পেয়ে কিছুটা দমে গেলেও হাল ছাড়েনি ওই বাঘ। এদিকে হামলায় নৌকা টলোমলো হয়ে যাওয়ায় জলে পড়ে যান নিখিল।

সেই সুযোগে ফের নিখিলকে আক্রমণ করে দক্ষিণরায়। শিকারকে বনের ভিতর টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলে। ঘাড়-মাথা, হাত-পায়ে ততক্ষণে থাবার আঘাত, কামড় সে বসিয়েও দিয়েছে। বাঘের মুখ রক্তাক্ত হয়েও মনোবল হারাননি নিখিল। বাঁচার চেষ্টা চলতে থাকে। এদিকে নিখিলকে বাঁচাতে অন্যান্যরাও বাঁশ-লাঠি দিয়ে বাঘের উপর হামলা চালায়। মার খেয়েও প্রথমে শিকারকে ছাড়তে রাজি হয়নি দক্ষিণরায়। তবে ক্রমাগত মার খেয়ে একসময় পিছু হটে রয়্যাল বেঙ্গল। একসময় শিকার ফেলে শাবকদের ফেলে বনের ভিতর ঢুকে যায় সে।

রক্তাক্ত নিখিলকে উদ্ধার করে সঙ্গীরা লোকালয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। প্রথমে তাঁকে গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে যোগেশগঞ্জ হাসপাতাল হয়ে বসিরহাট হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই তিনি ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা এখনও সংকটজনক।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.