সুরজিৎ দেব, ডায়মন্ড হারবার: বিজেপি বা সিপিএম বিরোধী স্লোগান নয়। ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে দেখা গেল অন্য ছবি৷ যুব তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার মিছিলে কর্মীরা হাঁটছেন আর গাইছেন, ‘আহা! কে আনিল রে, কে আনিল রে এমনও সরকার/ দু:খ করিল যত দূর মা-মাটি-মানুষের, এ বাংলার।’ গানের তালের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজছে ঢোল আর কাঁসর। স্থানীয় লোকশিল্পীদের তৈরি এসব গানে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারের নানা কাজের প্রশংসা। শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে দক্ষিণ ২৪ পরগণার সাতগাছিয়া বিধানসভা এলাকার গ্রামে গ্রামে দিনভর ঘুরল এই প্রচার মিছিল।
[ আরও পড়ুন : নাকাশিপাড়ায় এলোপাথাড়ি কোপে খুন যুবক, কর্মী বলে দাবি বিজেপির]
বিদায়ী সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে ভিন্নভাবে এই ভোটপ্রচারে নেমেছেন বজবজ ২ নম্বর ব্লকের যুব তৃণমূল কর্মীরা। গ্রামের রাস্তা ধরে হেঁটে চলেছেন একদল পুরুষ ও মহিলা তৃণমূল কর্মী। হাতে তাঁদের দলীয় পতাকা। মিছিলে তাঁদের সঙ্গী হয়েছেন এলাকারই কয়েকজন লোকশিল্পী। তাঁরাও তৃণমূলেরই সমর্থক। ঢোল আর কাঁসরের তালে খালি গলাতেই তাঁরা গাইছেন, ‘আহা কে আনিল রে, কে আনিল রে এমনও সরকার/দু:খ করিলো যত দূর মা-মাটি-মানুষের, এ বাংলার।’ সঙ্গে সঙ্গে সমবেত সুরে বাকিরাও তাল মেলাচ্ছেন কথায় আর সুরে৷ পরের গান, ‘দিল্লির সিংহাসন/ দিদিকে বসাতে চাই মনেপ্রাণে,/ মা-মাটি-মানুষের সরকার/ ভারতের মানুষকে করুক একাকার।’ বাকিদের তখন সমবেত আওয়াজ, ‘আহা বেশ, বেশ, বেশ।’ এপাড়া, ওপাড়া হয়ে পায়ে হাঁটা পথে প্রচার মিছিল চলছে তো চলছেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কখনও ফাঁকা মাঠের আলপথ বেয়ে, তো কখনও আবার পুকুরপাড়ের সরু রাস্তা ধরে সরীসৃপের মতো। তৃণমূলের সেই প্রচার মিছিলে শোনা গেল না বিজেপি বা সিপিএম বিরোধী কোনও স্লোগান। মিছিল শুধুই গানময়।

[ আরও পড়ুন : হ্যাটট্রিক চাই, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের জন্য যজ্ঞ শ্রীরামপুরের কর্মী-সমর্থকদের]
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের নানা কাজের খতিয়ান নিয়ে বাঁধা হয়েছে এই কবিগান। গানের কথা ও সুরের নেপথ্যে রয়েছেন শিল্পী রবীন্দ্রনাথ বকসি। লোকশিল্পী উদয় মণ্ডল বলেন, ‘আমরা তিনপুরুষ ধরে গান গেয়ে বেড়াচ্ছি। এটাই আমাদের পেশা। কিন্তু মমতাদিদি আমাদের যে সম্মান দিয়েছেন, তা আমরা আগে কোনওদিন পাইনি। দিদি আমাদের শিল্পীর স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমরা এখন সরকারি অনুষ্ঠানে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর থেকে নানা অনুষ্ঠানে ডাক পাই। বিনিময়ে আমাদের দেওয়া হয় পারিশ্রমিকও।’ এই লোকশিল্পীদের সরকার যথাযথ মর্যাদা দিয়ে মাসোহারার ব্যবস্থাও করেছে। আর তার জন্যই এখন তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকে গান বাঁধছেন, গান গাইছেন বলে জানালেন৷ গানে গানেই চলছে কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, খাদ্যসাথী, সবুজশ্রী, সমব্যথী, সবুজসাথীর মতো জনমুখী প্রকল্পগুলির প্রচার। বজবজ ২ নম্বর ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভোটারদের মনের কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টাতেই এই অভিনব প্রচার। দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে তৃণমূল যুব কর্মীদের এই গানে-গানে প্রচার শেষ পর্যন্ত ভোটার মনে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার