ধীমান রায়, কাটোয়া: পুরস্কারের ফাঁদে বোকা বনে গেল কিশোর। নামী সংস্থার মোবাইল ফোনে ৬০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার অফারে। ভাবা যায়! হ্যাঁ পুরস্কার স্বরূপ সেই মোবাইলই আসার কথা ছিল বাড়িতে। তবে পার্সেল এলেও মোবাইল এল না। উৎসাহী ছাত্র পার্সেল খুলতেই হতবাক। নতুন ফোনের বদলে রয়েছে চারটি পাথর ও একটি ইমিটেশন চেন। এই অভিনব প্রতারণার ঘটনাটি ঘটেছে কাটোয়ায়। প্রতারিত কিশোর সঞ্জু শেখ। বাড়ি কাটোয়ার পানুহাট ডাঙাপাড়ায়। পার্সেল হাতে পাওয়ার পর বারবার সংশ্লিষ্ট নম্বরে ফোন করেও কোনওরকম সাড়াশব্দ পায়নি ওই ছাত্র। পার্সেল নিয়ে পোস্টঅফিসেও দরবার করেছে প্রতারিত ছাত্র। তবে এই ঘটনার দায় নিতে নারাজ পোস্টঅফিস।
[অমানবিক! বৃদ্ধা মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়াল গুণধর ছেলে]
ডাঙাপাড়ার বাসিন্দা পেশায় রাজমিস্ত্রী মুস্তাকবাবু শেখের একমাত্র ছেলে সঞ্জু। এবছর কাটোয়া রাজমহিষী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। ঘটনায় মুখ খুলেছে ওই কিশোর। জানিয়েছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তার মোবাইলে এক অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। বলা হয় পুরস্কার জিতেছে সঞ্জু। পুরস্কার হিসাবে একটি নামী সংস্থার অ্যানড্রয়েড মোবাইল হ্যান্ডসেট দেওয়া হবে তাকে। মোবাইলটির বাজার মূল্য ৮৭০০ টাকা। পুরস্কার হিসাবে ৬০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। তাই পোস্ট অফিসে গিয়ে বাকি টাকা ও ফি দিয়ে পুরস্কারের পার্সেল নিতে হবে। গত ১৩ এপ্রিল পোস্ট অফিস থেকে খবর আসে পার্সেলটি এসেছে। যেখানে তার নাম লেখা রয়েছে। ৩৫০০ টাকা দিয়ে পার্সেলটি বাড়িতে আনে সঞ্জু। পার্সেল খোলার পর চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। মোবাইল ফোনের জায়গায় পার্সেলে রয়েছে চারটি নুড়ি পাথর ও একটি ইমিটেশন চেন। চেনটির দাম বড়জোর পাঁচ টাকা। সঞ্জু বলে, “আমি তখনই পোস্টঅফিসে ওই পার্সেল নিয়ে চলে যাই। কিন্তু পোস্টঅফিস আর তার দায়িত্ব নিতে চায়নি। সেই নম্বরে বারবার ফোন করি। উত্তর আসে ভুল পার্সেল এসেছে। কয়েকদিনের মধ্যেই বদলে দেওয়া হবে। তারপরও বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু কিছুই আসেনি।”
[‘জল দাও, ভোট নাও’, প্রতিবাদে সরব হেমতাবাদের গ্রামবাসীরা]
প্রতারিত ছাত্রের বাবা মুস্তাকবাবু শেখ বলেন, “আমার ছেলের খুব শখ ছিল দামি মোবাইলের। সামান্য রোজগারের কারণে দামি মোবাইল ছেলেকে কিনে দিতে পারিনি। মোবাইল পুরস্কার পাওয়ার কথা শুনে আনন্দ হয়েছিল। ধার করে ছেলেকে ৩,৫০০ টাকা দিয়েছিলাম। এখন সব চলে গেল।” পানুহাট পোস্টঅফিসের পোস্টমাস্টার সত্যরঞ্জন দেবনাথ বলেন, “পোস্টঅফিসে কারও নামে পার্সেল এলে কেউ না নিতেও পারেন। তখন সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় ফেরত চলে যায়। কিন্তু পার্সেল খুলে ফেলার পর আর তার দায় তো ডাক বিভাগের থাকে না।” কাটোয়া থানার ওসি জানিয়েছেন, এনিয়ে অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ করলে তদন্ত হবে।
ছবি: জয়ন্ত দাস
সর্বশেষ খবর
-
টিসিএস ধর্মান্তকরণ মামলায় অন্তঃসত্ত্বা নিদা খানের জামিন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মপ্রসঙ্গ টানল আদালত
-
‘আইএএস পরে হবেন, আগে আদর্শ মা হওয়া শিখুন’, ছাত্রীদের পরামর্শ উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপালের
-
উত্তরপ্রদেশে পুলিশ-গ্যাংস্টার ধুন্ধুমার গুলির লড়াই, এনকাউন্টারে খতম ৪ দুষ্কৃতী, আহত তিন পুলিশকর্মী
-
‘আমার দৃষ্টিভঙ্গি রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত’, বৃষ্টিস্নাত কলকাতায় ছবির প্রচারে বললেন ইমতিয়াজ
-
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লজ্জার সিরিজ হার, অধিনায়ক হিসাবেও জয়হীন, কী সাফাই শ্রেয়সের?