BREAKING NEWS

১২ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

বন্ধের আগে ও পরে ছুটি পাবেন না সরকারি কর্মীরা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 30, 2016 9:11 am|    Updated: August 30, 2016 9:11 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: বন্ধের নামে কোনও বিশৃঙ্খলা বা কর্মনাশা-সংস্কৃতি বরদাস্ত করবে না রাজ্য সরকার৷ আগামী শুক্রবার রাজ্য সচল রাখতে তাই কড়া পদক্ষেপ করছে নবান্ন৷ ওইদিন কোনও ছুটি নেওয়া যাবে না৷ শুধু তাই নয়, তার আগের দিন বৃহস্পতিবার এবং পরবর্তী কাজের দিন অর্থাৎ সোমবারও সমস্ত ছুটি বাতিল করেছে সরকার৷ কার্যত শুক্রবার, বন্ধের দিন অফিস না গেলে টানা তিনদিন অফিসমুখো হতে হত না সরকারি ও সরকার নিয়ন্ত্রিত ক্ষেত্রের কর্মচারীদের৷ তাই কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “বন্ধ সমর্থন করছি না৷ শ্রমিকদের অনেক দাবি-দাওয়া, ইস্যু সমর্থন করি৷ কিন্তু বন্ধের নামে অযথা একটা ছুটিকে সমর্থন করতে পারছি না৷” মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস এবং আবেদন, “বরং আপনারা দোকান-বাজার খুলে রাখুন৷ গাড়ি নিশ্চিন্তে চালান৷ কারও ক্ষতি হলে সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে৷ কেউ যেন ভয় না পান৷ সরকার পাশে আছে৷ কিছু লোক গুন্ডামি করার জন্য যেন বাংলাকে নিজের সম্পত্তি না ভাবেন৷ কথায় কথায় গুলি-বন্দুক চললে সেই জায়গা আর ভাল থাকে না৷ তিন মাস আগে গো হারা হেরেও লজ্জা নেই৷ ফের রাস্তায় বোমা-গুলি নিয়ে নামছেন৷”

আসলে বাম জমানা চলে যাওয়ার পর এই রাজ্য কথায় কথায় শ্রমদিবস নষ্ট প্রায় ভুলেই গিয়েছে৷ ক্ষমতায় আসার পর, এর আগেও কড়া বার্তা দিয়ে রাজ্যে বনধ সংস্কৃতিকে রুখে দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার৷ রাজ্যের মানুষ যে এখন বন্ধ-ধর্মঘটের পক্ষে নেই তাও বারবার প্রমাণিত৷ যার হাতে গরম উদাহরণ হল রবিবার ফরাক্কায় গন্ডগোলের জেরে কংগ্রেসের ডাকা জঙ্গিপুর মহকুমা বন্ধ৷ যা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে সেখানকার মানুষ৷ ফলে আগামী শুক্রবার বাম, কংগ্রেস-সহ বেশ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের ডাকা দেশজোড়া ধর্মঘট যে এই রাজ্যে বিশেষ দাগ কাটতে পারবে না তা স্পষ্ট৷ এবং তার জন্য রাজ্যের তরফে সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ পরিবহণ সচল রাখা থেকে শুরু করে প্রতিটি দফতরে কাজ হবে বলে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ এবার নবান্নে বিজ্ঞপ্তি বুঝিয়ে দিল, সরকার কতটা সিরিয়াস৷

সেই বিজ্ঞপ্তি বলছে, ২ সেপ্টেম্বর বন্ধের দিন এবং তার আগের দিন শুধু নয়, পরের সোমবার ছুটি গ্রাহ্য হবে না৷ অফিস না এলে বেতন কাটা হবে৷ চাকরীজীবনে ছেদ পড়বে৷ চাকরীজীবন থেকে বাদ যাবে একটি দিন৷ সংশ্লিষ্ট কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হবে৷ তবে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হলে, পরিবারের কারও মৃত্যু হলে, আগে থেকে মাতৃত্বকালীন বা অসুস্থতাজনিত ছুটিতে থাকলে সরকার অবশ্যই তা মানবিকভাবে দেখবে৷ অর্থাৎ রাজ্যের বার্তা স্পষ্ট, বন্ধকে হাতিয়ার করে একটা দিন ছুটি উপভোগ করা যাবে না৷ সেই পথ বন্ধে সবরকম ব্যবস্থা যেমন নেওয়া হয়েছে তেমনই জনজীবন স্বাভাবিক রাখতেও সচেষ্ট সরকার৷ চলবে বাড়তি বাস, জলযান৷ বেসরকারি বাসমালিকদের সংগঠনকেকে বলা হয়েছে নির্ভয়ে বাস পথে নামাতে৷ সবমিলিয়ে শুক্রবারকে ক্যালেন্ডারে একটি কর্মনাশা দিন হিসাবে দাগ মেরে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করতে আন্তরিকভাবে উদ্যোগী নবান্ন৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement