সন্দীপ মজুমদার, উলুবেড়িয়া: ফের ধর্ষণ নাবালিকার। তবে এবার বাইরে নয়, ঘরে। ১৩ বছরের মেয়েকে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার বাবা। অভিযুক্তের নাম রায়হান দর্জি। অভিযোগ, মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে প্রায় প্রতিদিন স্ত্রী ও মেয়েকে ধর্ষণ করত অভিযুক্ত। বারংবার অত্যাচার সহ্য করার পর শেষপর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হয় দুই নির্যাতিতা। এরপরেই অভিযুক্ত রায়হান দর্জিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নারকীয় ঘটনাটি ঘটেছে উলুবেড়িয়ার বাউড়িয়া থানা এলাকার পশ্চিম বাউড়িয়াতে।
[শিকার উৎসবে বন্যপ্রাণ হত্যা রুখতে পুরুলিয়ায় বনকর্মীদের সঙ্গে অভিযানে পুলিশও]
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত রায়হান পেশায় জরির কাজের সঙ্গে যুক্ত। প্রায় প্রতিদিনই মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরত সে। অভিযোগ, প্রতি রাতেই তার লালসার শিকার হয়ে উঠত বছর তেরোর নাবালিকা কন্যা। মেয়ের উপরে হওয়া এহেন অত্যাচারকে রুখতে পারেননি নির্যাতিতা নাবালিকার মা-ও। উলটে তিনিও নির্যাতনের মুখে পড়তেন। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চলছিল। লোকলজ্জার ভয়ে মা-মেয়ে একথা কাউকে বলতেই পারেননি। গত শুক্রবার রাতে পরিস্থিতি চরমে ওঠে। আকণ্ঠ মদ্যপানের পর বাড়ি ফিরে নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ করে বাবা। বাদ যাননি নাবালিকার মা। মেয়ের উপরে হওয়া অত্যাচার রুখতে না পেরে এবার পুলিশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শনিবার বাউড়িয়া থানায় গিয়ে রায়হানের বিরু্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন দুই নির্যাতিতা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রায়হান দর্জিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতকে উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে দু’দিনের জেলা হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
[মনোনয়ন প্রত্যাহারের হুমকি, ভাতারে মহিলা প্রার্থীকে দিনভর পাহারা বিজেপিকর্মীদের]
মেয়েরা যে আজ ঘরেও নিরাপদ নয়, তা ফের প্রমাণ হল। স্নেহের সম্পর্কেও আজ অবিশ্বাসের বীজ। সম্প্রতি উন্নাও ও কাঠুয়া ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই গুজরাটে উদ্ধার হয় নাবালিকার দেহ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী নাবালিকাকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। শরীরে পাওয়া গিয়েছে ৮০টি ক্ষতচিহ্ন। গত বুধবার রাজস্থানের কালীছট হনুমান মন্দিরে ধর্ষিতা হয়েছে এক নাবালিকা। ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ওই মন্দিরেরই পুরোহিত। পকসো আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে বিচার প্রক্রিয়া। জানা গিয়েছে, পরিকল্পনা করেই নাবালিকাকে মন্দিরের মধ্যে নিয়ে যায় পুরোহিত বলবন্ত। ধর্ষণের পর একটা ফাঁকা ঘরে ফেলে পালিয়ে আসে। অচৈতন্য মেয়েকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যান বাবা। পরে জ্ঞান ফিরলে সবকথা খুলে বলে নির্যাতিতা নাবলিকা। এরপরেই পুলিশে অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হয় বলবন্ত। আদতে মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা বলবন্ত গত ১০ বছর ধরে কল্যাণী পার্বত্য অঞ্চলের ওই মন্দিরের পুরোহিত।
সর্বশেষ খবর
-
মহারাষ্ট্রে ফের বিরোধী শিবিরে ভাঙন! পওয়ারের ‘অস্থিরচিত্ত’ বিধায়কদের ‘সন্দেহ’ কংগ্রেসের
-
১৬ বছর পর কলকাতা পেল মহিলা ওসি, একসঙ্গে রদবদল ৩৩ ইন্সপেক্টরের
-
খেয়াল রাখতে হবে অভিযোগকারিণীর মানসিক দিকটিও, লালবাজারে বিশেষ প্রশিক্ষণ ১৮৩ মহিলা পুলিশকে
-
ইথানলের মিশ্রণে গাড়ির ক্ষতি না হওয়ার দাবি, গড়করিকে পালটা ‘চ্যালেঞ্জ’ সমাজকর্মীদের
-
সেবাশ্রয়ের ‘ভুলে’ বাদ পা! অভিষেক-সহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের মহিলার