Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৯ জুলাই ২০২৬
Health Minister

বারাসত হাসপাতালে হঠাৎ পরিদর্শনে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শোকজের নির্দেশ ওয়ার্ড মাস্টার সহ বেশ কয়েকজনকে!

বললেন, 'কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই, দোষ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। সে সরকারে যে-ই থাকুক না কেন। এখন দোষ আমার কাঁধে। সে বোঝা যে-ই বানাক, সেই বোঝা আমার কাঁধে। এখন বোঝা হালকা করার দায়িত্ব আমার।'

Advertisement
অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: জুলাই ৯, ২০২৬, ১৬:৫৯

link
অর্ণব দাস
অর্ণব দাস

শেষ আপডেট: জুলাই ৯, ২০২৬, ১৬:৫৯

options
link
বারাসত হাসপাতালে হঠাৎ পরিদর্শনে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শোকজের নির্দেশ ওয়ার্ড মাস্টার সহ বেশ কয়েকজনকে! zoom
বারাসত হাসপাতালে সারপ্রাইজ ভিজিটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। নিজস্ব ছবি।

রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির দৈনদশা। মেডিক্যাল কলেজগুলির অবস্থাও তথৈবচ! কোথাও বেডের অভাব, মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ-স্যালাইনের ছড়াছড়ি, কোনও হাসপাতালে কুকুর-বিড়ালের অভাব বিচরণ, কোথাও আবার হাসপাতালের রোগী পরিষেবার হাল বেহাল। এসব এখন অতীত। বিজেপি সরকারের আমলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ফেরাতে উদ্যোগী স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সকাল থেকে হাসপাতালে হাসপাতালে চরকিপাক খেলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরেই বারাসত হাসপাতালে পৌঁছে চোখ কপালে ওঠে স্বাস্থ্যমন্ত্রী। রোগী পরিষেবায় চূড়ান্ত অব্যবস্থা দেখে ক্ষোভপ্রকাশ করেন তিনি। বললেন, “কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। দোষ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের, সে সরকারে যে-ই থাকুক না কেন। এখন দোষ আমার কাঁধে। সে বোঝা যে-ই বানাক, সেই বোঝা আমার কাঁধে। এখন বোঝা হালকা করার দায়িত্ব আমার।”

হাসপাতালের বেহাল পরিকাঠামো দেখে তড়িঘড়ি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সূত্রের খবর, বারাসত মেডিক্যালের ওয়ার্ড মাস্টার সহ বেশ কয়েকজনকে শোকজ করা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের জবাব তলবের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্যভবন।  

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাসপাতালে হাসপাতালে সারপ্রাইজ ভিজিটে পৌঁছে যাচ্ছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সেই মতোই বারাসত মেডিক্যালও পরিদর্শন করেন। হাসপাতালের বেহাল পরিকাঠামো দেখে তড়িঘড়ি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সূত্রের খবর, বারাসত মেডিক্যালের ওয়ার্ড মাস্টার সহ বেশ কয়েকজনকে শোকজ করা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের জবাব তলবের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্যভবন।  

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement
বারাসত মেডিক্যালের করিডরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সামনেই বিড়ালের বিচরণ। নিজস্ব ছবি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “পরিষেবার গলদ খুঁজতে সব সরকারি হাসপাতালের প্রতি ওয়ার্ডে সিসিটিভি বসবে। গ্রামীণ, মহকুমা , জেলা হাসপাতালগুলিতেও একই ব্যবস্থা। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বা স্যালাইন যাতে ব্যবহার না হয়, তা রুখতে প্রতি সপ্তাহে হাসপাতালগুলিতে চলবে স্বাস্থ্যভবনের চিরুনি তল্লাশি।” তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “হাসপাতালে দালালদের ঠাঁই হবে না। হাসপাতালে চিকিৎসক, চিকিৎসা কর্মী, রোগী ও তাঁদের বাড়ির লোকদের জন্য বিশেষ ব্যান্ড বা ব্যাজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সকলকে শনাক্তকরণের জন্য অ্যাইডেন্টিফিকেশন ব্যাজ দেবে স্বাস্থ্যভবন। বাকিরা দালাল।” 

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুম থেকে সব হাসপাতালের পরিস্থিতি নজরবন্দি করা হচ্ছে। আইডি হাসপাতালে দেখলাম কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখানকার অবস্থা দেখলাম, বলার ভাষা নেই।” শারদ্বতের সাফ কথা, “কাউকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। দোষ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের, সে সরকারে যে-ই থাকুক না কেন। এখন দোষ আমার কাঁধে। সে বোঝা যে-ই বানাক, সেই বোঝা আমার কাঁধে। এখন বোঝা হালকা করার দায়িত্ব আমার।” তিনি বলেন, “পরিষেবার গলদ খুঁজতে সব সরকারি হাসপাতালের প্রতি ওয়ার্ডে সিসিটিভি বসবে। গ্রামীণ, মহকুমা , জেলা হাসপাতালগুলিতেও একই ব্যবস্থা। বেসরকারি হাসপাতালগুলিতেও নজর রাখবে স্বাস্থ্যভবন। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ বা স্যালাইন যাতে ব্যবহার না হয়, তা রুখতে প্রতি সপ্তাহে হাসপাতালগুলিতে চলবে স্বাস্থ্যভবনের চিরুনি তল্লাশি।” এখানেই শেষ নয়, হাসপাতালের দালালচক্র রুখতে রাজ্য সরকারের কড়া পদক্ষেপের কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বারাসত হাসপাতাল থেকেই তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “হাসপাতালে দালালদের ঠাঁই হবে না। হাসপাতালে চিকিৎসক, চিকিৎসা কর্মী, রোগী ও তাঁদের বাড়ির লোকদের জন্য বিশেষ ব্যান্ড বা ব্যাজের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সকলকে শনাক্তকরণের জন্য অ্যাইডেন্টিফিকেশন ব্যাজ দেবে স্বাস্থ্যভবন। বাকিরা দালাল।” পাশাপাশি রেফার রোগ রুখতে প্রান্তিক এলাকার হাসপাতালগুলি উন্নয়নের দিকেও পাকাপাকি ব্যবস্থা গ্রহনের কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার নবান্নে যাওয়ার আগে আচমকা স্বাস্থ্যভবনে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আধিকারিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও। স্বাস্থ্যভবন থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুম থেকে হাসপাতালগুলিতে লাইভ মনিটরিং করা হবে। ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে মহকুমা হাসপাতালগুলিতেও শুরু হবে নজরদারি। এছাড়া সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিষেবা উন্নয়নে জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। কিচেন থেকে পার্কিং লটগুলিও নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে। শুভেন্দু আরও জানান, রোগীদের খাবারের জন্য বরাদ্দ টাকা বাড়ানো হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, ভারত সরকার হাসপাতালগুলিকে আয়ুষ্মান মন্দির নাম দিয়েছে। মন্দিরে যেমন পবিত্রতা, শুদ্ধতা, স্বচ্ছতা, একাগ্রতা, সেবাপরায়নতা থাকে সেরকমই হাসপাতালগুলিতেও থাকবে। স্বাস্থ্যকর্মীদেরও সুরক্ষা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.